advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

খালেদা-তারেক দূরত্ব বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ মে ২০১৯ ১৩:৪৪
advertisement

গেল জাতীয় সংসদ নির্বাচন, দলের চলমান পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এবং সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ নিয়ে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের মতের অমিল নিয়ে কানাঘুষা চলছিল। এরই মধ্যে বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে দুই শীর্ষনেতার মতপার্থক্য ‘চরম’ভাবে স্পষ্ট হলো।

উপনির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত স্থায়ী কমিটিতে হয়নি, মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক বসেনি। খালেদা জিয়াকেও জানানো হয়নি কিছুই। উল্টো তাকে প্রার্থী করতে মনোনয়নপত্র পাঠানো হয়। দলের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র বলছে, তারেক রহমানের তত্ত্বাবধানে বিএনপির সাংগঠনিক প্রক্রিয়া যেভাবে চলছে, তা মেনে নিতে পারছেন না নীতিনির্ধারকদের প্রায় সবাই।

দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো একতরফাভাবেই হচ্ছে। দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম-স্থায়ী কমিটির সদস্যদের জানানো হচ্ছে না। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মতপার্থক্যে দূরত্ব ছড়িয়েছে জ্যেষ্ঠ নেতাদের মাঝেও। সিদ্ধান্তের ভিন্নতা এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের ‘গুরুত্ব’ না দেওয়ায় তারেক রহমানের সমালোচনা হচ্ছে প্রকাশ্যে। স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ জ্যেষ্ঠ অধিকাংশ নেতার সঙ্গে তার দূরত্ব বেড়েছে অনেক।

এ বিষয়ে জানতে একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রকাশ্যে কিছু বলতে রাজি হননি তারা। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সিনিয়র নেতাদের মতবিরোধ শুরু হয়। দলের ৪ এমপির শপথগ্রহণে ওই বিরোধ তীব্র হয়। আর বগুড়া উপনির্বাচন নিয়ে তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত চরম ‘অপরিপক্ব’ বলে মনে করেন তারা।

বগুড়া উপনির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের মধ্যকার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে আজ গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল সন্ধ্যা ৭টার পর বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ব্যাংকক থেকে দেশে ফেরেন তিনি। দলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের সম্পর্ক বেশ ভালোই ছিল।

দলের নেতৃত্ব নেওয়ায় তাকে সহযোগিতা করার মানসিকতা ছিল তাদের। বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের মতামত নেওয়ায় নেতারাও সন্তুষ্ট ছিলেন। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে গিয়ে নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের দূরত্ব বাড়তে থাকে। এর পর বিএনপির পুনর্গঠন, শপথগ্রহণ এবং সর্বশেষ বগুড়া উপনির্বাচনের বিষয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে তাদের যোজন যোজন দূরত্ব তৈরি হয়।

জানা গেছে, সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের মতপার্থক্যের বিষয়টি দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার কানেও গেছে। বিষয়টি শুনে তিনি বিব্রতবোধ করেন। কিন্তু কোনো মন্তব্য করেননি। তবে বগুড়া উপনির্বাচনে প্রার্থী করার খবরে তিনি বিস্মিত হন। বেগম জিয়া তার সঙ্গে দেখা করতে বিশেষ দূতকে বলেন, নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিল? আমি তো কিছুই জানি না। আমাকে কেন বিষয়টি জানানো হয়নি।

গত বুধবার বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব আবদুস সাত্তার আমাদের সময়কে জানিয়েছেন, বেগম জিয়ার কাছে বগুড়া-৬ আসনে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র পাঠানো হলেও তিনি স্বাক্ষর করেননি। নেতাকর্মীরা বলছেন, বগুড়ায় প্রার্থী না হয়ে খালেদা জিয়া একটি বার্তা দিয়েছেন। এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয় এবং তাদের সঙ্গে সমঝোতা যে তিনি করতেন চান না তা স্পষ্ট করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় আমাদের সময়কে বলেন, ‘গণমাধ্যমের খবরে জানতে পেরেছি, বগুড়া উপনির্বাচনের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করেননি। এ সংবাদ সত্য হলে নির্বাচনে যাওয়া ঠিক হবে কিনা তা ভাবতে হবে।’ নীতিনির্ধারকদের কয়েকজনের সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, সরকারের সঙ্গে একটি গোপন সমঝোতার অংশ হিসেবে বিএনপি এমপিরা শপথ নিয়েছেন।

খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হবেÑ এ শর্তে বিএনপি সংসদে গেলেও সেটি আর বাস্তবায়ন হয়নি। বরং খালেদা জিয়ার বিচারের জন্য কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে আদালত স্থাপন করা হয়েছে। তারা বলেন, খালেদা জিয়া সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতায় রাজি ছিলেন না।

সংসদে যোগদানের বিপক্ষে ছিলেন। প্যারোলে মুক্তি নেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন। তার পরও তাকে না জানিয়ে কেন এ সমঝোতা করা হলো, তা নিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ। নেতাকর্মীদের বদ্ধমূল ধারণা, এ সমঝোতার নেপথ্যে কাজ করেছেন দুজন সিনিয়র নেতা। তারা সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন। খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে প্যারোল এবং এমপিদের শপথগ্রহণের বিষয়টি উত্থাপন করেন।

এ বাস্তবতায় স্থায়ী কমিটির পরবর্তী বৈঠকে এসব বিষয় উত্থাপন করবেন নেতারা। দলীয় সিদ্ধান্ত হওয়ার পর মির্জা ফখরুল কেন শপথগ্রহণ করেননি, তাও তুলবেন। দলের একাধিক সূত্র বলছে, বেগম জিয়া তার মামলার আইনি বিষয়গুলো দেখভাল করার দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করবেন বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গুলশান কার্যালয়ে তার নির্দেশে অফিস করছেন তার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাসও। বুধবার তিনি কার্যালয়ে অফিস করেন।