advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

গহনার বদলে আলু পটোল, মোবাইল সেটের পরিবর্তে সাবান পার্সেল

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ মে ২০১৯ ১২:৩০
advertisement

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির পণ্যের ছবি নকল করে অনলাইনে বিক্রির অভিযোগে এক প্রতারক চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-সুজন মোল্লা, হাসিবুল হাসান, জারদিস হোসেন, মেহেদী হাসান, নুর ইসলাম, পারভেজ মোল্লা ও আবু তাহের।

গত বুধবার বিকাল থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোররাত পর্যন্ত রাজধানীর দারুসসালাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত গ্রেপ্তারকৃতদের কম্পিউটার, মোবাইল, রাউটার, অনলাইনে প্রদর্শিত মালামালের স্যাম্পল এবং নিম্নমানের পণ্য সামগ্রী জব্দ করা হয়। এ ছাড়া জব্দ করা হয় প্রতারকদের ব্যবহৃত ১৭টি পেজ।

সেগুলো হলো- Rose Fashin BD, Lifestyle.Com, GreenExpress.Com, Gentel Fashion, Gentel Point, Fashion Point Plus, Plus Point, Mobile Shop24, Ariful Islam Ariean, MD Tanvir, Abutaher, Advence Electronics, Dream Fashion, Xian Raihan, গয়না মহল ও নিলয় মাহমুদ সুজন।

র‌্যাব ৪-এর অধিনায়ক (সিও) এডিশনাল ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির জানান, অনলাইনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির পেজ থেকে তাদের পণ্যের ছবি নকল করে এবং একই কোম্পানির নামে ভুয়া পেজ খুলে সেখানে বিজ্ঞাপন দিত চক্রটির সদস্যরা। প্রকৃত দামের তুলনায় কয়েকগুণ কম দামে বিজ্ঞাপন দেখে পণ্যের প্রতি আকৃষ্ট হন ক্রেতারা। পছন্দের পণ্য অনলাইনে অর্ডারের পর ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন।

পণ্যের পরিবর্তে প্যাকেটের ভেতর খুব নিম্নমানের পণ্য, কখনো গহনার পরিবর্তে আলু-পটোল, মোবাইল সেটের পরিবর্তে সাবান বা অন্য কিছু দিয়ে ডেলিভারি দেয় ও প্রতারিত করে। র‌্যাবের সিও বলেন, নামি ব্র্যান্ড সেইলর্সের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ করা হয়, তাদের দামি পোশাক যেমন পাঞ্জাবির ছবি তুলে সেইলর্সের স্থানে নকল নাম জুড়ে দিয়ে অনলাইনে বিক্রির চেষ্টা করছে একটি চক্র।

পরে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে প্রতারক চক্রের সদস্যরা অন্যের ব্র্যান্ডের ডিজাইন তো চুরি করছেই আবার কম দামে ভালো পোশাক দেখে ক্রেতারা অর্ডার করছেন, সেখানেও দামি পোশাকের পরিবর্তে একটি কম দামি পোশাক ডেলিভারি দিচ্ছে। আবার কখনো পোশাকের পরিবর্তে মোবাইলের চার্জার, রাউটার, কাভার ইত্যাদি ডেলিভারি দিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ওই সাত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এডিশনাল ডিআইজি মঞ্জুরুল কবির জানান, চক্রটি পণ্য অর্ডারের আগে প্রথমে সার্ভিস চার্জ নেয় এবং একটু দামি পণ্যের ক্ষেত্রে পুরো দাম আগেই নিয়ে নেয়। এরপর পণ্য যখন ক্রেতারা হাতে পান তখন দেখেন কাক্সিক্ষত পণ্যটি পাননি।

পরে কর্তৃপক্ষকে জানালে প্রথমে তারা অস্বীকার করে। আবার কখনো বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মীদের দায়ী করে। কুরিয়ার সার্ভিসের লোকজনই আসল মাল সরিয়ে রেখে অন্য মালামাল ডেলিভারি দিয়েছে বলে জানায়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে দারুস সালাম থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। সেইলরের অ্যাসিসটেন্ট মার্কেটিং ম্যানেজার সাইদুজ্জামান বলেন, আমাদের কপিরাইট করা ছবি ওরা কপি করে তাদের পেজে ডিসপ্লে করত। এ ধরনের প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানান তিনি।

advertisement