advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নিখোঁজ ঢাকায় লাশ মিলল গাজীপুরে

গাজীপুর প্রতিনিধি
২৪ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ মে ২০১৯ ০০:৫৩
advertisement

রাজধানীর শ্যামলী থেকে নিখোঁজ হওয়ার ১২ দিন পর সন্ধান মিলেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ২৪ বছর বয়সী ইসমাইল হোসেন জিসানের। তবে জীবিত নয়, গাজীপুরের একটি সেপটিক ট্যাংকের

ভেতর থেকে গতকাল সকালে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। থানায় করা একটি জিডির তদন্ত সূত্র ধরে হাসিবুল ইসলাম নামে সন্দেহভাজন একজনকে পুলিশ আটক করার পর তার দেওয়া তথ্যে জিসানের লাশের সন্ধান পায়। তাকে হত্যা করা হয়েছে জানিয়ে পুলিশ বলছে, এ কা-ের মূল হোতা দুজন। তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে, যে কোনও মুহূর্তে আটক করা হবে।

গাজীপুরের কামারজুড়ির মধ্যপাড়ায় একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে গতকাল জিসানের লাশটি উদ্ধার করা হয়। তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বোর্ডবাজারের কাথোরা এলাকার সাব্বির হোসেন শহীদের ছেলে। ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষার্থী জিসান এক বন্ধুর সঙ্গে শ্যামলীর ২ নম্বর রোডের ১৬/ডি হোল্ডিংধারী বাড়িতে থাকতেন। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে রাইড শেয়ারিং অ্যাপস উবার চালনা করে শিক্ষাখরচ যোগাতেন তিনি। এর মাধ্যমে তিনি পরিবারকেও আর্থিক সহায়তা করতেন। গত ১১ মে শ্যামলী থেকে গাজীপুরে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন জিসান। সন্তানের সন্ধান না পেয়ে এর পরদিন গাজীপুরের গাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা। চারদিন পর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায়ও জিডি করেন তিনি।

শেরেবাংলা থানার এসআই তোফাজ্জল হোসেন জানান, জিডির তদন্ত সূত্র ধরে ১২ মে সন্দেহভাজন হিসেবে হোটেল ব্যবসায়ী হাসিবুল ইসলামকে গাছা থানা এলাকা থেকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে জব্দ করা হয় জিসানের মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন। এরপর হাসিবুলের দেওয়া তথ্যেই ওই বাসার সেপটিক ট্যাংক থেকে জিসানের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

এসআই তোফাজ্জল আরও জানান, আটক হাসিবুল এ হত্যাকা-ের সহযোগী। তার সঙ্গে নিহত জিসানের কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না। এ কা-ে জড়িত বাকি দুজন মূল হোতা। তাদের সঙ্গে জিসানের পরিচয় ছিল। ব্যক্তিগত কোনও দ্বন্দ্ব থেকেই তারা জিসানকে হত্যা করে থাকতে পারে বলে ধারণা করে তিনি বলেন, ওই দুজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে আটক করাও সম্ভব হবে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হাসিব জানান, ১২ মে রাতে জিসানকে শ^াসরোধে হত্যার পর তার লাশ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়।

নিহত জিসানের বাবা সাব্বির হোসেন শহীদ জানান, তার জানামতে জিসানের কোনো শত্রু নেই। কারা, কেন তাকে হত্যা করেছে, সে সম্পর্কে কোনো ধারণা করতে পারছেন না তিনি।

শেরেবাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম মুন্সি জানান, জিসানকে উবারের বদৌলতে ভাড়া নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মোটরসাইকেলের জন্যই তাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।