advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ক্ষমাপ্রাপ্তির দিনগুলো চলে যায়...

মুফতি আবুল আহসান
২৪ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ মে ২০১৯ ০০:৫৩
advertisement

রহমতের দশকের পর চলে যাচ্ছে মাগফিরাতের দশকও। মাহে রমজানের বিগত দিনগুলোয় মহান প্রভুর কাছ থেকে কতটা রহমত-বরকত আর ক্ষমা-ভালোবাসা লাভ করতে পারলাম, কতটা নৈকট্য অর্জন করতে পারলাম তার, সেই হিসাব কষা দরকার। আমলনামায় কী যোগ হলো কিছু? ক্ষমার এই দশকে নিজের মনকে এই বলে আশ্বস্ত করা

গেল কি?Ñ আমার রব, আমার খোদা ক্ষমা করেছেন আমাকে? কিছুটা হলেও নিজিকে নির্ভার করতে পেরেছি কি?Ñ এসব প্রশ্ন করুন মনকে। মন অবশ্যই উত্তর দেবে। আর বলে দেবে পরবর্তী করণীয়।

পবিত্র রমজানের ফজিলত অপরিসীম-অপরিমেয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনÑ ‘মানুষ যদি জানত মাহে রমজান কত বড় নিয়ামত, তা হলে তারা সারাবছর রমজান মাস থাকার আকাক্সক্ষা করত।’ আল্লাহতায়ালা আমাদের এমন একটি নেয়ামতভরা মাস উপহার দিয়েছেন; যে মাসে তার রহমতের ধারা বয়ে যায়, যে মাসে তিনি তার বান্দাদের ক্ষমা করেন এবং নাজাত দেন। এখন প্রশ্ন হলোÑ আমরা প্রভুর ওই রহমত-মাগফিরাত হতে কতটা নিতে পারছি? দয়াময় রবের ক্ষমা পাচ্ছি তো এই রমজানে? যদি ক্ষমা না পাই, হেদায়েত নসিব না হয়, তা হলে তো বড়ই আফসোসের কথা! এ রকম সুবর্ণ সুযোগও কি মুমিন-মুসলমানের হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে!

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিতÑ রাসুলের (স) হাদিস উল্লেখ করে তিনি বলেন, রমজানের প্রতি রাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন ঘোষক ডেকে বলেন, হে কল্যাণপ্রত্যাশী! অগ্রসর হও। হে পাপাচারী নিবৃত্ত হও। এর পর তিনি বলেন, আছ কি কেউ ক্ষমাপ্রত্যাশী? আজ তোমাকে ক্ষমা করা হবে। আছ কি কেউ তওবাকারী? আজ তোমার তওবা কবুল করা হবে। আছ কি কেউ সাহায্য প্রার্থনাকারী? আজ তোমার চাওয়া পূরণ করা হবে। ঘোষণার এ ধারাবাহিকতা রাতভর চলতে থাকে।

আল্লাহতায়ালা বান্দাদের ক্ষমা করার জন্য তার মাগফিরাতের দুয়ার খুলে অপেক্ষায় আছেন। প্রতিনিয়ত ডাকছেন। তবু যদি আমরা সজাগ না হই, তার দুয়ারে হাজির হয়ে আকুতি না জানাই; তবে তো আমরা হতভাগ্যই! মাগফিরাতের এ সৌসুমে আসুন সবাই রব্বুল ইজ্জতের কাছে কায়মনোবাক্যে তওবা করি। তিনি তো দয়ার আধার, রহমানুর রাহিম। তিনি অবশ্যই তার বান্দার তওবা কবুল করবেন।

হজরত জায়েদ (রা) বর্ণনা করেনÑ রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিম্নোক্ত ভাষায় আল্লাহতায়ালার দরবারে তওবা ও এস্তেগফার করে, তাকে অবশ্যই ক্ষমা করা হবে, যদিও সে জিহাদের ময়দান থেকে পলায়নের মতো গুরুতর গোনাহ করে থাকেÑ আস্তাগফিরুল্লা হাল্লাযি লা-ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহি। অর্থাৎÑ আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি, যিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। যিনি চিরজীবী, বিশ্বের প্রতিষ্ঠাকারী। আমি তারই সমীপে তওবা করছি।

রোজা সংক্রান্ত মাসআলা

সফর অবস্থায় রোজা রাখলে তা আর ভাঙা জায়েজ নয়। ভেঙে ফেললে গুনাহগার হবে। তবে কাফফারা ওয়াজিব হবে না। শুধু কাজা করলেই চলবে। হজরত আনাস (রা) বলেন, ‘কেউ রোজা রেখে সফরে বের হলে রোজা ভাঙবে না। তবে যদি পিপাসার কারণে প্রাণনাশের আশঙ্কা হয়, তা হলে রোজা ভাঙতে পারবে এবং পরে তা কাজা করবে।