advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পানিবাহিত রোগ থেকে বাঁচতে

কেয়া আমান
২৪ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ মে ২০১৯ ০৮:৫৪
advertisement

বৈশ্বিক উষ্ণতায় বাড়ছে গরমের মাত্রা। তীব্র দাবদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তৃষ্ণা মেটাতে ওয়াসার দূষিত পানির পাশাপাশি দোকানের জারের দূষিত পানি, রাস্তাঘাটের লেবুর শরবত, পানিমিশ্রিত আখের রস, চটপটি, ফুচকা, ফলের জুসসহ নানারকম পানীয় পান করছে অনেকেই। এতে বাড়ছে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ। শুধু আইসিডিডিআরবিতেই প্রতিদিন সহস্রাধিক রোগী ভর্তি হচ্ছে। এ ছাড়া দেশের অন্য হাসপাতালেও পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক প্রতিবেদনে জানা যায়, বিশ্বে প্রতিবছর ১৮ কোটি মানুষ পানিবাহিত রোগে মারা যায়। বিশেষত ডায়রিয়ার কারণে শিশু মৃত্যুহার অনেক বেশি। আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোয় শিশুরা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয় সবচেয়ে বেশি। ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আহসান উল্লাহ বলেন, পানি যেমন আমাদের জীবন, আবার এই পানি জীবননাশের কারণ হতে পারে।

কারণ পানি দূষিত হলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। পানিবাহিত রোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হতে দেখা যায় ডায়রিয়া, কলেরা, কৃমি, টাইফয়েড, প্যারাটাইফয়েড, জন্ডিস, জ্বরে। তিনি আরও বলেন, নিরাপদ পানির অভাবেই পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ ছাড়াও পচা-বাসি খাবার, রাস্তাঘাটের শরবত কিংবা অন্য পানীয় খাওয়ার ফলেও পানিবাহিত রোগের সংখ্যা বাড়ছে। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে পানিবাহিত যে কোনো রোগ জীবনঘাতী হতে পারে।

পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ : বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডায়রিয়া। পচা-বাসি খাবার, দূষিত পানীয় পান করায় ডায়রিয়া হয়ে থাকে। প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়রিয়া হলে বারবার পানি ও খাওয়ার স্যালাইনের পাশাপাশি বিভিন্ন তরল খাবার খাওয়াতে হবে। শূন্য থেকে ৫ মাস বয়সী শিশুদের স্যালাইনের পাশাপাশি মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। এর চেয়ে বেশি বয়সী বাচ্চাদের বুকের দুধের পাশাপাশি স্যালাইন ও স্বাভাবিক খাবার নির্দিষ্ট সময় পর পর খেতে দিতে হবে। অবস্থার উন্নতি না হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

কলেরা : মারাত্মক ধরনের ডায়রিয়ার আদিরূপ। দূষিত জীবাণুযুক্ত পানি পান করলে কলেরা হয়ে থাকে। কলেরা হলে পাতলা পায়খানার সঙ্গে প্রচুর বমি হয়।

হেপাটাইটিস : দূষিত পানি পান করলে হেপাটাইটিস ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর ফলে জন্ডিস হয়। জন্ডিস হলে খাওয়ার অরুচি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বমি, জয়েন্টে ব্যথা হয়ে থাকে। সঠিক চিকিৎসা না হলে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

টাইফয়েড : সলমনেলা টাইফি এবং প্যারাটাইফি নামক পানিবাহিত জীবাণুর কারণে টাইফয়েড হয়ে থাকে। জ্বর যদি সাত দিনের বেশি থাকে, ২০৩ কিংবা ২০৪ ডিগ্রি উঠে আবার ১০০ ডিগ্রিতে নামে আবার বাড়তে থাকলে ভেবে নিতে পারেন টাইফয়েড হয়েছে। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

আর্সেনিক দূষণ : পানিতে অতিমাত্রায় আর্সেনিকের কারণে এ রোগ দেখা দেয়। ত্বক, হৃৎপি-, লিভার এবং কিডনির সমস্যা এ আর্সেনিক দূষণ থেকে হয়ে থাকে।

কৃমি : কৃমির আক্রমণ অন্যতম প্রধান পানিবাহিত রোগ। কৃমি থেকে দূরে থাকতে খালি পায়ে বাথরুমে যাওয়া বন্ধ এবং বাথরুমের জন্য আলাদা জুতা ব্যবহার করতে হবে।

খোসপাঁচড়া : এটি ত্বকের পানিবাহিত রোগ। দূষিত পানির সংস্পর্শে খোসপাঁচড়া, চুলকানিসহ ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা হয়।

করণীয় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে : বিশুদ্ধ পানি পান করুন: পানিবাহিত রোগ থেকে দূরে থাকতে বিশুদ্ধ পানি পান ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বিশুদ্ধ পানি পাওয়া না গেলে পানি ভালোমতো ফুটিয়ে নিন। ৩০ মিনিট ফুটিয়ে ফিটকিরি ব্যবহার করে অথবা পাঁচ লিটার পানিতে একটি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দিয়ে পান করতে পারেন। বাসার ছাদে পানির ট্যাংক চার মাস পর পর ব্লিচিং পাউডার দিয়ে পরিষ্কার করুন। ঘরে পানি সংরক্ষণের পাত্রগুলোকেও পরিষ্কার রাখুন।

বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন : রাস্তার ধারে বিক্রি হওয়া শরবত, কাটা ফল, জুসসহ বিভিন্ন রকম খাবার ও পানীয় খাওয়া থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকুন। বাইরের খোলা খাবার তৈরি এবং ধোয়ার কাজে যে পানি ব্যবহার করা হয় তার অধিকাংশ বিশুদ্ধ নয়। বাইরের খোলা খাবার একেবারেই খাওয়া উচিত নয়।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন : পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা জরুরি। এ জন্য খাওয়ার আগে ও পরে যেমন সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে, ঠিক তেমনি খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের সময়ও হাত ধুয়ে নিন। নখ ছোট রাখুন। মলত্যাগের পরে হাত অন্তত ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে পরিষ্কার করুন। শিশুদেরও অভ্যাসগুলো রপ্ত করাতে চেষ্টা করুন। বন্যার পানি ব্যবহারে সতর্কতা বন্যাকবলিত স্থানগুলোয় বন্যা কিংবা জলাশয়ের পানি বিশুদ্ধ না করে খাওয়া, থালাবাসন ধোয়া, কাপড় কাচা ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করলে ডায়রিয়াসহ নানা ধরনের পানিবাহিত রোগ হতে পারে। তাই এসব পানি অবশ্যই ফুটিয়ে কিংবা পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যবলেট দিয়ে বিশুদ্ধ করে ব্যবহার করতে হবে। জলাশয়ের পানি ১০ মিনিট ফুটিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিলে অনেকটাই জীবাণুমুক্ত হবে।