advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঘরের আসনে ধরাশায়ী রাহুল

আমাদের সময় ডেস্ক
২৪ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ মে ২০১৯ ০৯:০২
advertisement

উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লক্ষেèৗ থেকে ১৩০ কিলোমিটার দূরের ধূলিধূসর গ্রামীণ অঞ্চল আমেথি। ভারতের প্রভাবশালী গান্ধী পরিবারের ‘পারিবারিক’ আসন এটি। দেশটির স্বাধীনতার পর থেকে এ আসন নিয়ে গান্ধী পরিবারের প্রার্থীদের কোনো দুশ্চিন্তা পোহাতে হয়নি। তবে এবার শুধু দুর্ভাবনা নয়, কংগ্রেসের জন্য লজ্জার কারণও হয়ে দাঁড়িয়েছে আমেথি। কারণ

কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী তার ‘ঘরের’ আসনেই হেরে বসে আছেন। অবশ্য রাহুল কেরালার ওয়ানাড় আসন থেকে জয়ী হয়েছেন। ফলে তাকে লোকসভায় পাচ্ছে কংগ্রেস। কিন্তু আমেথিতে এ পরাজয় ৪৮ বছর বয়সী এ রাজনীতিকের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয়। দলের ভরাডুবিতে তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়ে উঠতে পারে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বেসরকারি ফল প্রকাশের পরই রাহুল তার পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে বিজয়ী বিজেপির প্রার্থী স্মৃতি ইরানিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি আশা করি, স্মৃতি ইরানি জনগণের আস্থা বজায় রাখবেন, আমেথিকে ভালোবেসে দেখে রাখবেন। আর স্মৃতি ইরানি তার চমক জাগানিয়া জয়ের পর টুইট করেছেন-কে বলে অসম্ভবকে কেউ জয় করতে পারে না।

পাশাপাশি নরেন্দ্র মোদিকেও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাহুল। তিনি টুইটারে লিখেছেন- ‘দেশের মানুষের রায়কে স্বাগত। নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা।’ তবে তিনি এ-ও বলেন, ‘পরাজিতদের বলছি, ভয় পাবেন না। এটা দুই দলের মতাদর্শের লড়াই। আমরা ঘুরে দাঁড়াব।’

২০০৪ সাল থেকে এ আসনে ইন্দিরা গান্ধীর নাতি রাহুল গান্ধী বলতে গেলে বিনা পরিশ্রমে জয়ী হয়ে আসছিলেন। তবে ২০১৪ সালের নির্বাচনে তার ঘাড়ের ওপর শ্বাস ফেলেছিলেন স্মৃতি ইরানি। সে নির্বাচনে রাহুল বিজয়ী হলেও ব্যবধান ছিল এক লাখ ভোটের কম। তখনই স্মৃতির উত্থানের আভাস পাওয়া গিয়েছিল।

এর পর গত পাঁচ বছর আসনটিতে লেগে ছিলেন স্মৃতি। আর নির্বাচনের সময় আক্ষরিক অর্থেই ঘাঁটি গেড়ে আসনটিতে অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি। বিপরীতে রাহুল গোটা নির্বাচনী প্রচারের সময় সেখানে গেছেন মাত্র একবার, তা-ও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়। সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে ব্যস্ততার মধ্যে তার নিজ আসনে সময় না দিতে পারাই স্বাভাবিক। তার বোন কংগ্রেসের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াংকা গান্ধী আমেথিতে বেশ কয়েকবার নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। তাই বলে এমন পরাজয়-এটি বড় ধাক্কাই বটে।

১৯৯৮ সাল বাদ দিলে গত তিন দশকে আমেথিতে কংগ্রেস কখনো হারেনি। ৮০ আসনের উত্তরপ্রদেশে শুধু আমেথি ও সোনিয়া গান্ধীর আসন রায়বেরেলি-এই দুটি ছিল কংগ্রেসের জন্য নিশ্চিত। ফলে এবার আমেথি দখল বিজেপির জন্য অন্যতম বড় পাওয়া। সোনিয়া গান্ধী জয়ী হয়েছেন। ফলে রাজ্যে এই একটি মাত্র আসন পেয়েছে কংগ্রেস। বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৬০টি।

advertisement