advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বড় জয়ে আবার মোদি

সুমন মজুমদার
২৪ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ মে ২০১৯ ০১:১৫
advertisement

ভারতের লোকসভার নির্বাচনে সপ্তম দফা ভোটের পর বুথফেরত জরিপে আগেই আভাস দেওয়া হয়েছে বিজেপির গেরুয়া ঝড়ের। তবে বিরোধী দলগুলো এই সমীক্ষাকে পাত্তা দেয়নি। বিশেষজ্ঞরাও বলেছিলেন, বুথফেরত জরিপের ফল সত্যি না-ও হতে পারে।

কিন্তু সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ঘোষিত বেসরকারি ফলেই নিশ্চিত হয়ে গেছে, আগামী পাঁচ বছরে আবার বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট বা এনডিএই ভারতের শাসন ক্ষমতায় বসতে চলেছে।

আর এই জোটকে পথ দেখিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতন্ত্রের দেশটির প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদি। এর মধ্য দিয়ে ইতিহাসে ঢুকে পড়লেন তিনি।

কারণ ভারতের ইতিহাসে মোদিই হতে চলেছেন তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী, যিনি পর পর দুইবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসছেন। অর্থাৎ কোনো জোট বা শরিক দলের সাহায্য ছাড়াই সরকার গঠনের জন্য ম্যাজিক ফিগার ২৭২ আসনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেল কোনো দল।

ভারতের ইতিহাসে এর আগে জওহরলাল নেহরু পর পর তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন কংগ্রেসের হয়ে।

এ ছাড়া ১৯৬৭ এবং ১৯৭২ সালে পর পর দুইবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। দেশটির গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গতকাল রাত পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যে ভোট গণনার ফল স্পষ্ট বলছে, ২০১৪ সালের মতোই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ভারতে সরকার গঠন করতে চলেছে বিজেপি, যার স্পষ্ট প্রভাব পড়েছে এনডিএ জোটের ভোটের ফলেও।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবর অনুযায়ী গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট ৫৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে এনডিএ জোট ৩৪৪টি আসনে এগিয়ে আছে। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট এগিয়ে আছে ৮৩টি আসনে। এ ছাড়া লালুপ্রসাদ যাদবের নেতৃত্বাধীন মহাগঠবন্ধন বা এমজিবি ১৮টি ও অন্য দলগুলো ৯৭টি আসনে এগিয়ে আছে।

এনডিটিভির খবর অনুযায়ী, প্রাথমিক ফলে এনডিএ এগিয়ে আছে ৩৪৬ আসনে। অন্যদিকে ইউপিএ ৯০, আর অন্যরা ১০৬টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, এনডিএ ৩৫০ আসনে, ইউপিএ ৯৩ এবং অন্যরা ৯৯ আসনে এগিয়ে আছে। বিভিন্ন রাজ্যভিত্তিক ফলেও বিজেপি অন্য সব দলের চেয়ে অনেক যোজন এগিয়ে আছে।

মহাগুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত উত্তরপ্রদেশের মোট ৮০ আসনের মধ্যে এনডিএ এগিয়ে আছে ৬১টি আসনে। সেখানে এমজিবি ১৭ ও কংগ্রেস এগিয়ে আছে মাত্র ১টিতে। মহারাষ্ট্রের মোট ৪৮টি আসনে এডিএ এগিয়ে আছে ৪১টিতে। এ ছাড়া ইউপিএ ৫টি ও অন্য দলগুলো ২টি আসনে এগিয়ে আছে।

আনন্দবাজারের খবর অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের মোট ৪২টি আসনের মধ্যে রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস ২৩টি, বিজেপি ১৮টি, কংগ্রেস ১টি আসনে এগিয়ে আছে। বিহারের মোট ৪০টি আসনের মধ্যে এনডিএ ৩৭টি, ইউপিএ ৩টি আসনে এগিয়ে আছে। তামিলনাড়–র ৩৯টি আসনের মধ্যে ৩১টি, এনডিএ ২টি এবং অন্য দলগুলো ৫টি আসনে এগিয়ে আছে।

মোদির রাজ্য গুজরাটের মোট ২৬টি আসনের মধ্যে সবগুলোতেই দেখা গেছে এনডিএর জয়জয়কার। কর্নাটকের মোট ২৮টি আসনের মধ্যে এনডিএ ২৪টি, ইউপিএ ২টি এবং অন্য দলগুলো ২টিতে এগিয়ে আছে। তবে কেরালা নিজেদের দকলেই রেখেছে কংগ্রেস।

সেখানে মোট ২০ আসনের মধ্যে ১৬টিতেই এগিয়ে আছে তারা। আবার মধ্যপ্রদেশের ২৯টি আসনের একটি ছাড়া সবগুলোয়ই বিপুল ব্যাবধানে এগিয়ে আছে এনডিএ।

রাজস্থানেও মোট ২৫টি আসনের সবগুলোই এনডিএ নিজেদের দখলে রেখেছে। এ ছাড়া উত্তরাখন্ড, ত্রিপুরা, আসাম, মিজোরাম, মেঘালয়, জম্মু-কাশ্মীর, পদুচেরি, দমন-দিউ, গোয়া, নাগাল্যান্ড, লক্ষ্যদ্বীপ, হিমাচল, হরিয়ানার মতো রাজ্যগুলোয়ও চলছে এনডিএর জয়জয়কার। এদিকে লোকসভা নির্বাচনের ফল নিয়ে এই প্রথমবার মুখ খুলেছেন উচ্ছ্বসিত মোদি।

এক টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘সবার সঙ্গে, সবার বিকাশ, সবার বিশ্বাস নিয়েই ভারত আবারও জয়ী হলো।’ আরেক টুইটে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ লিখেছেন, ‘দেশের মানুষের ভরসা জিতে নিয়েছেন মোদি। বিরোধীদের ভিত্তিহীন ও মিথ্যা রাজনীতির বিরুদ্ধে এই জয়।

পারিবারিক রাজনীতির পরম্পরা পরাজিত হয়েছে।’ এর মধ্যেই বিজয়ের আভাস স্পষ্ট হওয়ায় দলের ২০ হাজার কর্মীকে রাজধানী নয়াদিল্লিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বিজেপি।

সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, নিরঙ্কুশ এই জয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদিকে সংবর্ধনা দিতেই ডেকে পাঠানো হয়েছে তাদের। অন্যদিকে হার মেনে নিয়ে মোদি ও বিজেপিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী।

জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা শিরোধার্য বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। একই রকম কথা বলেছেন মোদির প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস তাদের খবরে জানায়, এবারের নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএর অন্যতম ভরসা ছিল রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ের ওপর। কারণ মাত্র কয়েক মাস আগে এই তিন রাজ্যে বিজেপিকে সরিয়ে কংগ্রেস ক্ষমতায় এসেছিল।

কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে ওই তিন রাজ্যেও তাদের হতাশ হতে হলো। ছত্তিশগড়ে কিছুটা লড়লেও অন্য দুই রাজ্য কংগ্রেস যেন নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করেছে বিজেপির কাছে।

আবার পশ্চিমবঙ্গসহ কেরালায়ও বাম শক্তির চূড়ান্ত পরাজয় ঘটেছে। বিশেষ করে বিহারে সিপিআইএম প্রার্থী কানহাইয়া কুমারকে নিয়ে অনেকটা আশাবাদী ছিল বামশক্তি। কিন্তু সেখানেও তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বেগুসরাই আসনে বিজেপি নেতা গিরিরাজ সিংয়ের কাছে লজ্জাজনক ব্যবধানে হেরেছেন ভারতের তরুণ প্রজন্মের বাম রাজনীতির মুখ কানাহাইয়া কুমার।

অন্যদিকে কংগ্রেসের ঘাঁটি বলে পরিচিত উত্তরপ্রদেশের আমেঠিতে বিজেপির স্মৃতি ইরানির কাছে হেরেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল। এর আগে ২০১৪ সালে ভারতের ষষ্ঠদশ লোকসভা নির্বাচনে ৩৩৬টি আসনের নিরঙ্কুশ জয় নিয়ে সরকার গঠন করেছিল বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট।

সেবার কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট আসন পেয়েছিল মাত্র ৫৯টি। এবারের নির্বাচনে কংগ্রেস তথা ইউপিএর আসন আগের চেয়ে বাড়লেও তা মোদি ম্যাজিককে ছাপিয়ে যেতে ব্যর্থ।