advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বামদের পতন সবখানেই

আমাদের সময় ডেস্ক
২৪ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ মে ২০১৯ ০৮:৫৬
advertisement

একসময় যে সিপিএমের দোর্দ- প্রতাপ ছিল পশ্চিমবঙ্গে, তৃণমূল জামানায় সে অবস্থা অনেকটাই এখন লুপ্ত। তবু ধুঁকে ধুঁকে টিকে থাকা দলটি আগের ঐতিহ্যের প্রতি বিশ্বাস রেখেই হয়তো ভেবেছিল এবার তৃণমূল ও বিজেপির লড়াইয়ের ভেতরেও কিছু হলেও আসন তারা পাবে।

কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা গেছে, রাজ্যের মানুষ যেন বামদের ওপর সব বিশ্বাসই হারিয়ে ফেলেছেন। কারণ ফল গণনার পর দেখা গেছে, রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ২২টি, বিজেপি ১৮টি এবং কংগ্রেস ২টি আসনে বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে আছে। তাতে সিপিএমের নাম-নিশানা নেই। রাজ্যে বাম নেতাদের এই করুণ পরিণতি প্রসঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে, সংসদীয় রাজনীতিকে আপন করে নিতে তাদের তাত্ত্বিক দ্বিধা ছিল।

কিন্তু সংসদীয় গণতন্ত্রে একবার তারা পা রাখার পর এ দেশে কখনো যা হয়নি, এবার তা-ই দেখছে ভারত! গোটা দেশের রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে প্রায় মুছে যাচ্ছে বামেরা! বাংলায় সব সমীক্ষার ইঙ্গিত সত্য প্রমাণ করে হাতে থাকা দুটি আসনই হারিয়েছে সিপিএম। গত বছর ত্রিপুরায় ক্ষমতা হারানোর পর সেখানে লড়াই যথেষ্ট কঠিন হয়ে গিয়েছিল। সেই ধারা বজায় রেখেই উত্তর-পূর্বের ওই রাজ্যে জোড়া আসনের দুটিই হাতছাড়া হয়েছে সিপিএমের। একখ- দ্বীপের মতো আশার বাতি জ্বলে ছিল শুধু কেরালা।

গোটা দেশ যখন নরেন্দ্র মোদির প্রত্যাবর্তনের পক্ষে রায় দিচ্ছে, মালাবার উপকূলই একমাত্র সম্পূর্ণ উল্টো দিকে গিয়ে বিজেপিবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু কেরালায়ও মোদিবিরোধী হাওয়ার কোনো ফায়দা বামেদের পালে আসেনি। গত বারের জেতা ৮টি আসনের জায়গায় এবার সেখানে শাসক বামরা এগিয়ে মাত্র একটি আসনে। বিহারে সিপিআইম প্রার্থী কানহাইয়া কুমারকে নিয়ে অনেকটা আশাবাদী ছিল বামশক্তি। কিন্তু সেখানেও তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বেগুসরাই আসনে বিজেপি নেতা গিরিরাজ সিংয়ের কাছে লজ্জাজনক ব্যাবধানে হেরেছেন ভারতের তরুণ প্রজন্মের বাম রাজনীতির মুখ কানাহাইয়া কুমার। আর তামিলনাড়ুতে সিপিএম, সিপিআই দুই চারটে আসন জিতলেও তা ডিএমকের সমর্থনে। তাতেও আসন সংখ্যা দুই অঙ্কের কাছাকাছি পৌঁছবে না।

ভারতের স্বাধীনতার পর কোনো লোকসভা নির্বাচনেই বামদের এমন সঙ্গিন অবস্থা হয়নি। এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে সিপিএমের আসন শূন্যে পৌঁছল। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হিসাব বলছে, বিজেপির ভোট এবার বেড়েছে হয়েছে ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ। আর বামেদের ভোট নেমে এসেছে প্রায় ৬ শতাংশে। অথচ ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেই বামফ্রন্ট পেয়েছিল প্রায় ২৬ শতাংশ ভোট।

advertisement