advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রাষ্ট্র মেরামতে ১৮ প্রস্তাব সুজনের

২৪ মে ২০১৯ ০১:২৭
আপডেট: ২৪ মে ২০১৯ ০৯:১৬
advertisement

রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সংবিধান সংশোধন, বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকার, স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা, নির্বাচন পদ্ধতি ও নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কারে ১৮টি প্রস্তাব দিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। চলমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য এসব সংস্কার জরুরি বলে মনে করছে সংগঠনটি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব সংস্কার-প্রস্তাব তুলে ধরে সুজন।

সংগঠনটি বলেছে, গত বছর নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময়ে তরুণরা ‘রাষ্ট্র মেরামতের’ দাবি তুলেছিল। সাম্প্রতিক নির্বাচন ও পরবর্তী সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে এটি সুস্পষ্ট, রাষ্ট্র মেরামতের বিষয়টি এখন সময়ের দাবি। প্রয়োজনীয় আইনকানুন-নীতিকাঠামো-মূল্যবোধ, পদ্ধতি-প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠান একটি রাষ্ট্রের গভর্ন্যান্স বা শাসনব্যবস্থার অপরিহার্য অঙ্গ। রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে শাসনকাঠামোর এসব অঙ্গ সক্রিয়তা অর্জন করে। ক্ষমতার সঠিক ব্যবহার হলে শাসনকাঠামো কার্যকর হয়, যা রাষ্ট্রে সুশাসন কায়েম করে।

আর ক্ষমতার লাগামহীন ব্যবহার হলে, রাষ্ট্রে ‘চেকস অ্যান্ড ব্যালেন্স’ বা নজরদারিত্বের কাঠামো ভেঙে গেলে এসব অঙ্গ কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে, রাষ্ট্রে অপশাসন কায়েম হয় এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নের বিস্তার ঘটে। তাই রাষ্ট্র মেরামতের সূচনা হতে হবে শাসনকাঠামোকে কার্যকর করার মাধ্যমে, এ জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনায় কতগুলো সুদূরপ্রসারী সংস্কার।

অনুষ্ঠানে ‘রাষ্ট্র মেরামতের লক্ষ্যে রাজনৈতিক সংস্কার’ শিরোনামে প্রস্তাব পাঠ করেন সুজনের প্রধান সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। এতে বলা হয়, ১৯৯০ সালে তিন জোটের রূপরেখা স্বাক্ষর সফল হলেও ব্যর্থ হয়েছে তার বাস্তবায়ন। তিন জোটের রূপরেখার আদলেই নতুন জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিতে হবে।

গোলটেবিলে অংশ নেওয়া সব বক্তাই সংস্কারের পক্ষে তাদের মতামত তুলে ধরেন। সুজন সভাপতি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, রাষ্ট্রের মেরামত জরুরি হয়ে পড়েছে। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, এটা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো কিছু একটা বের করতে হবে।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ছাড়া সমস্যার সমাধান হবে না। উদার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে। সংক্রামক ব্যাধির মতো উগ্রপন্থিদের উত্থান ঘটছে বিশ্বজুড়ে। তাই এখানেও এমন শঙ্কা আছে।

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, শাসনব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশ অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হবে। তাই আলোচনা-মতামতের ভিত্তিতে সংস্কার-প্রস্তাব সংশোধন করে সারাদেশে জনমত তৈরি করতে হবে।

মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন বলেন, আইয়ুব খানের সময়েও অনেকটা স্বাধীনভাবে লেখা হয়েছে। এরশাদের সময়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ হয়েছে। অথচ আজ মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথাও স্পষ্ট করে বলা যায় না। নানা ধরনের চাপের মধ্যে থাকতে হয়।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক সিআর আবরার, বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী, বিএনপির নেত্রী রুমিন ফারহানা, নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় সদস্য জাহেদ উর রহমান, সিপিবির সভাপতিম-লীর সদস্য আবদুল্লাহ আল ক্বাফি রতন প্রমুখ।

সুজনের সংস্কার প্রস্তাবে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য সৃষ্টি, ৭০ অনুচ্ছেদের সংস্কার, দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিলুপ্তি, জনপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে দলীয়করণের প্রভাবমুক্ত করা, ন্যায়পাল নিয়োগ, গণমাধ্যমের ওপর সব নিবর্তনমূলক বাধা-নিষেধের অবসান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিবর্তনমূলক সব ধারা সংশোধন এবং গুম, অপহরণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যা অবসানের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংস্কৃতির অবসান করার কথা বলা হয়েছে। ঋণখেলাপিসহ লুটপাটকারীদের পৃষ্ঠপোষকতার পরিবর্তে বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে সংস্কার প্রস্তাবে।

advertisement