advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অবশেষে সাড়া দিলেন শিমলা

২৪ মে ২০১৯ ০২:০০
আপডেট: ২৪ মে ২০১৯ ১০:৫৫
advertisement

বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট ছিনতাই চেষ্টার যে চাঞ্চল্যকর ঘটনায় শেষ পর্যন্ত কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) মুখোমুখি হওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন চিত্রনায়িকা শিমলা।

সিটিটিসি তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে গত তিন মাস ধরে নানাভাবে চেষ্টা করলেও সাড়া মিলছিল না ভারতে অবস্থানরত এ নায়িকার। তাদের বাড়ির ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হয়; শিমলার মা, ভাই ও বড় বোনের মাধ্যমেও চলে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা। কিন্তু শিমলার সাড়া মিলছিল না। অবশেষে গত বুধবার টেলিফোনে তিনি সিটিটিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

প্রসঙ্গত বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট ছিনতাইচেষ্টার মামলায় তদন্ত সংস্থা হিসেবে কাজ করছে সিটিটিসি। আর যিনি বিমানটি ছিনতাই করতে চেয়েছিলেন, সেই পলাশ আহমেদের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল শিমলার। বর্তমানে ভারতের মুম্বাইয়ে অবস্থানরত শিমলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট ময়ূরপঙ্খী ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার পথে উড্ডয়নের পর এর যাত্রী পলাশ আহমেদ ফ্লাইটটি ছিনতাই করতে উদ্যত হন। এর জেরে বিমানটি বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। সন্ধ্যার দিকে ৮ মিনিটের কমান্ডো অভিযানে নিহত হন পলাশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া আমাদের সময়কে জানান, বাংলাদেশে শিমলার অবস্থানের তথ্য না পেয়ে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলায় বাবার বাড়ির ঠিকানায় তাকে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে ফোন করা হয়। কিন্তু তিন মাসেও সাড়া দেননি শিমলা। পরে তার বড় বোনের মাধ্যমে তার কাছে বার্তা পাঠানো হয়, যোগাযোগ না করলে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলে। এর পরই শিমলা যোগাযোগ করেন। শিমলার বরাত দিয়ে রাজেশ বড়ুয়া বলেন, তিনি এখন শুটিংয়ের কাজে মুম্বাই আছেন। ঈদ পর্যন্ত ব্যস্ত থাকবেন। এর পর দেশে ফিরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিটিটিসিতে আসবেন।

বিমান ছিনতাইচেষ্টার ওই ঘটনায় চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রযুক্তি সহকারী দেবব্রত সরকার। মামলার তদন্তে নেমে শুরুতেই সিটিটিসির কর্মকর্তারা তথ্য পান যে, স্ত্রী সিমলার সঙ্গে বিচ্ছেদের জেরেই পলাশ ফ্লাইট ছিনতাইয়ের মতো চেষ্টা চালান। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৩ মার্চ শিমলা-পলাশের বিয়ে হয়; একই বছরের ৬ নভেম্বর হয় বিচ্ছেদ।

জানা গেছে, মামলায় পাইলট, ফার্স্ট অফিসার, কেবিন ক্রু, বিমানবন্দরের কর্মকর্তাসহ ১৮ জনকে এরই মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে ওই ফ্লাইটের ৩৫ যাত্রীকেও। এ ছাড়া শিমলার পাশাপাশি পলাশ আহমেদের আগের স্ত্রীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আর পলাশের বাবা আগামী সপ্তাহে সিটিটিসিতে যাবেন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।

কমান্ডো অভিযানে নিহত পলাশদের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলায় নিহত পলাশ আহমেদ ও অজ্ঞাতনামা একজনকে আসামি করা হয়েছে।

advertisement