advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দ্বিতীয় দিনেও ভোগান্তি কমেনি

২৪ মে ২০১৯ ০২:০০
আপডেট: ২৪ মে ২০১৯ ১০:৫০
advertisement

ঢাকঢোল পিটিয়ে রেলসেবাঅ্যাপ চালু করা হয়। এমন নিম্নমানের অ্যাপ কার স্বার্থে? গতকাল সকালে কথাগুলো বলছিলেন রংপুরগামী যাত্রী বিপুল। কমলাপুর রেলস্টেশনে ১ জুনের টিকিটের জন্য তিনি লাইনে দাঁড়িয়েছেন। জানান, অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট না পেয়ে বাধ্য হয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছেন।

গতকাল ছিল আগাম টিকিট বিক্রির দ্বিতীয় দিন। আজ বিক্রি হবে ২ জুনের টিকিট। টিকিট বিক্রির দ্বিতীয় দিনেও অ্যাপসের সমাধান হয়নি। অথচ ৫০ শতাংশ টিকিটই রাখা হয়েছে অনলাইনে বিক্রির জন্য। অ্যাপটি চালুর পরই অভিযোগ আসে সেবার মান নিয়ে।

রেলের যাত্রীসেবা বাড়ানোর জন্য এ বছর থেকে ৫০ শতাংশ টিকিট রেলওয়ের অ্যাপের মাধ্যমে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সাধারণ যাত্রীরা অভিযোগ করছেন, টিকিটের জন্য বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন। অ্যাপে টিকিট না পেয়ে কাক্সিক্ষত টিকিটের আশায় আবার গিয়ে দাঁড়িয়েছেন কমলাপুরসহ অন্যান্য টিকিট কাউন্টারে।

বৃহস্পতিবার সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, টিকিটপ্রত্যাশীদের ভিড়ে তিল পরিমাণ ঠাঁই নেই স্টেশনের খোলা জায়গায়। প্রতিটি লাইন দীর্ঘ হতে হতে চলে গেছে স্টেশনের বাইরের খোলা মাঠে।

হামিদ নামে এক যাত্রী বলেন, ২২ মে থেকে চেষ্টা করছেন অনলাইনে টিকিট কেনার জন্য। ব্যর্থ হয়ে স্টেশনে এসে লাইন ধরেন। তার মতে, এ রকম হয়রানি যেই অ্যাপসের মাধ্যমে হচ্ছে তাদের সঙ্গে আর চুক্তি হবে না, এটি বলে দায় এড়াতে পারে না মন্ত্রণালয়। তাৎক্ষণিক সমাধান করতে না পারলে লাইনে উন্মুক্ত করা হোক এসব টিকিট।

জানা গেছে, সিএনএস বিডি নামের প্রতিষ্ঠানটির রেলের টিকিট সেবা দিয়ে থাকে। তারাই অ্যাপ চালু করে। সক্ষমতার ত্রুটি থাকায় শুরু থেকেই অ্যাপ নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন মানুষ। এমনকি ঈদ মৌসুমে জটিলতা বাড়তে পারে এমন শঙ্কা ছিল আরও আগেই। তদপুরি বিকল্প ব্যবস্থা না রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও।

ঈদের কারণে অ্যাপটিতে একসঙ্গে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ হিট হয়। অথচ সিএনএসের সক্ষমতা মাত্র ২০ হাজার। তাই দুর্ভোগের মাত্রাও বেশি। ঢাকায় দিনে প্রায় ২৭ হাজার টিকিটের মধ্যে ৫ শতাংশ রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ৫ শতাংশ ভিআইপি ছাড়া বাকি সব টিকিটের ৫০ শতাংশ অনলাইন, এসএমএস ও অ্যাপে পাওয়ার কথা। অথচ টিকিটের জন্য হাহাকার চলছে সর্বত্র। ভবিষ্যতে এ সমস্যার সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমন আশ্বাসে আপাতত শান্ত থাকতে হচ্ছে সর্বসাধারণকে।