advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

তারুণ্যের ঈদ পোশাকে আজিজ সুপার মার্কেট

২৪ মে ২০১৯ ০২:০১
আপডেট: ২৪ মে ২০১৯ ১০:৫১
advertisement

এক সময় বইয়ের দোকানের জন্য বিখ্যাত ছিল শাহবাগের আজিজ কো-অপারেটিভ সুপার মার্কেট; কিন্তু কালক্রমে এই মার্কেটটিতে বইয়ের দোকানের জায়গা নিয়েছে পোশাক। এখন পাঞ্জাবি, টি শার্ট, ফতুয়াসহ হাল ফ্যাশনের নিত্যনতুন পোশাকের জন্য তরুণ-তরুণীদের প্রিয় গন্তব্য এটি। ঈদ বা বিভিন্ন উৎসব এলে এই মার্কেটে তাই স্বাভাবিকের চেয়ে ভিড় তিনগুণ বাড়ে।

এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আসন্ন ঈদ সামনে রেখে এখন আজিজ মার্কেটে চলছে কেনাকাটার ধুম। আবার ক্রেতাদের কথা চিন্তা করেই এখানকার বুটিক শপগুলো নিয়ে এসেছে দারুণ সব পোশাকের সমাহার। ক্রেতা আকর্ষণে মার্কেটটিও সেজেছে নতুন সাজে।
ক্রেতারা জানান, মূলত এ মার্কেটের বুটিক শপগুলোয় দেশীয় উপকরণে তৈরি বৈচিত্র্যময় সব পোশাক পাওয়া যায়। এগুলোয় যেমন থাকে ডিজাইনে নতুনত্ব, তেমনি থাকে কাপড় ও রঙের ব্যবহারের ভিন্নতা। এ কারণেই তারা এখানে কেনাকাটা করতে আসেন।

আজিজ মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, ঈদ উপলক্ষে এখানকার দোকানগুলোতে এখন সব ধরনের পোশাকই পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে-হরেক রকমের দেশীয় শাড়ি, থ্রি পিস, সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, পলো শার্ট, টি শার্ট, শার্ট, প্যান্ট, জুতা। মেয়েদের পোশাকের মধ্যে বেশি বিক্রি হচ্ছে শাড়ি, থ্রি পিস, টি শার্ট। ছেলেদের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে পাঞ্জাবি, পাজামা ও টি শার্ট। বাচ্চাদের পোশাকেরও কমতি নেই। সব বয়সী বাচ্চাদের পোশাকও মেলে এ মার্কেটে।

ব্যবসায়ীরা জানান, গরমের কারণে আসন্ন ঈদুল ফিতরে ক্রেতারা টি শার্ট ও সুতি কাপড়ের পোশাক বেশি কিনছেন। এগুলোতেও বৈচিত্র্য এসেছে অনেক। ডিজাইন ও রঙের ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ নজর থাকছে; ফ্যাশনেও রয়েছে নতুনত্ব।

তারা জানান, এবার ঈদ উপলক্ষে অনেক নতুন ডিজাইনের পোশাক এনেছেন। মেয়েদের জন্য সালোয়ার-কামিজে ভিন্নতা এনেছেন ডিজাইনাররা। বিশেষ করে জামার হাতায় ভিন্নতা রাখা হয়েছে। এবার পোশাকের মধ্যে হালকা সবুজ রঙ বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। কেননা এ রঙটি গরমেও আরামদায়ক। আর পোশাকের ক্ষেত্রেও হাফ হাতার ব্যবহার বেড়েছে বেশি। যতটুকু পারা গেছে রিলাক্স দেওয়া হয়েছে। ফলে পোশাক পরে অস্বস্তি লাগবে না ক্রেতাদের।

মার্কেটের ‘মেঘ’ শোরুমে দেখা গেছে, ছেলেমেয়েদের পোশাকে গত বছরের চেয়ে এবার অনেক ভিন্নতা রয়েছে। গত বছর ভারী কাপড়ে লাল রঙ বেশি ব্যবহার করা হয়েছিল। এবার দেশি সুতির হালকা কাপড়ে সবুজ রঙ বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। পোশাকের মধ্যে টি শার্টে এসেছে নিত্যনতুন ডিজাইন। বিশেষ করে গ্রাম-বাংলা, পশু-পাখির চিত্র স্থান পেয়েছে বেশি। এ ছাড়া আছে একতারা, দোতারার ডিজাইন। রয়েছে খাদি টাঙ্গাইল তাঁতের শাড়ি। আবার তাঁতের কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয়েছে সালোয়ার-কামিজ, থ্রি পিস। গত বছর ব্যবহার করা হয়েছিল খাদি কাপড়।

কে-ক্র্যাফটে আছে মেয়েদের নতুন ডিজাইনের নানা ধরনের পোশাক। এর মধ্যে তাঁতের কাপড়ে বুটিকের কাজ করে তৈরি করা হয়েছে থ্রি পিস ও সালোয়ার-কামিজ। ছেলেদের পাঞ্জাবিতেও রয়েছে নতুনত্ব। পাঞ্জাবিগুলো আগের মতো লম্বা না করে একটু খাটো করা হয়েছে। মেয়েদের পাঞ্জাবির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে। থ্রি পিস বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যে। গরমের কথা চিন্তা করে এবার সুতি কাপড়ে হালকা রঙের ব্যবহার করা হয়েছে। পোশাক ঋতু উপযোগী করে করা হয়েছে বলে জানান বিক্রয়কর্মী সারোয়ার হোসেন।

‘নিত্য উপহার’-এ শাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক বিক্রি হচ্ছে। তারা টাঙ্গাইল, রূপগঞ্জ, মিরপুর, সিরাজগঞ্জের তাঁতিদের কাছে অর্ডার দিয়ে শাড়ি তৈরি করে আনেন। ফলে তাদের সব শাড়ির ডিজাইনেই নতুনত্ব থাকে। এ ছাড়া তাদের অন্য পোশাকেও বৈচিত্র্য থাকে বলে দাবি করেন বিক্রয়কর্মী পর্শিয়া সুলতানা। ১২০০ থেকে ১২ হাজার টাকা দামের শাড়ি পাওয়া যায় এখানে। জামদানি শাড়ির দাম বেশি পড়ে বলে জানান তিনি।

‘ইজি’তে ছেলেমেয়েসহ সব ধরনের পোশাক মেলে। এবার নতুন ডিজাইনের টি শার্ট ও পাঞ্জাবি নিয়ে এসে ইজি। টি শার্টগুলোও করা হয়েছে হালকা কাপড়ে। গরমের কারণে বুকের সামনে বোতাম রাখা হয়েছে। ৩০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে এগুলো বিক্রি হচ্ছে।

ঈদ উপলক্ষে মার্কেটটির প্রায় সব দোকানেই বিশেষ ছাড় রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ বা কার্ডে কেনাকাটা করলে দেওয়া হচ্ছে ‘ক্যাশ ব্যাক’ অফার। অনেক দোকানেই বিকাশ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নেক্সাস পের আউটলেট রয়েছে। ফলে এগুলোর মাধ্যমে পোশাকের দাম পরিশোধ করে বিশেষ ছাড় পাচ্ছেন ক্রেতা। ৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস। বিভিন্ন শো রুমে টি শার্ট ৩০০ থেকে ১২০০ টাকা, পাঞ্জাবি ৬০০ থেকে ১২ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

মার্কেটের নিচতলা, দোতলা ও তিনতলাজুড়ে রয়েছে পোশাকের দোকান। ঈদের কারণে মঙ্গলবার মার্কেটের সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও খোলা থাকছে। সকাল ৯টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বেচাকেনা চলে। ১৫ রোজার পর থেকে রাত ১টার পরও মার্কেট খোলা থাকছে বলে জানান দোকানিরা।

advertisement
Evall
advertisement