advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিস্ময় আমি বিশ্ববিধাত্রীর

ফয়সাল আহমেদ
২৫ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ মে ২০১৯ ১০:০৭
advertisement

আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২০তম জন্মজয়ন্তী। তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার বরপুত্র। বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংগীত, সাংবাদিকতা, রাজনীতি, নাটক, বেতার, গ্রামোফোন ও চলচ্চিত্র- তার প্রতিভার দানে হয়েছে সমৃদ্ধ। তিনি নিজেই লিখেছেন, ‘বিস্ময় আমি বিশ^বিধাত্রীর’। আমরা আজ জানাব বিদ্রোহী কবি কীভাবে, কতভাবে জড়িত ছিলেন চলচ্চিত্র-নাটকের সঙ্গে।

সরাসরি জড়িত যেসব চলচ্চিত্রে নজরুলের জন্ম উপমহাদেশে চলচ্চিত্র আবির্ভাবকালে। উপমহাদেশের চলচ্চিত্র সবাক হওয়ার মুহূর্তে (১৯৩১ সাল) তিনি চলচ্চিত্রে জড়িত হন। অসুস্থ হওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি পরিচালক, সংগীতকার, সুরকার, গীতিকার, অভিনেতা, গায়ক, কাহিনিকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপকার, পৃষ্ঠপোষক ও সংগঠক হিসেবে চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন।

সরাসরি জড়িত ছিলেন প্রায় ২০টি চলচ্চিত্রে। এগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ পরীক্ষামূলক চিত্র জলসা (১৯৩১), প্রহল্লাদ (১৯৩২), বিষ্ণুমায়া (১৯৩২), ধ্রুব (১৯৩৪), পাতালপুরী (১৯৩৫), গ্রহের ফের (১৯৩৬), বাংলা ও হিন্দি বিদ্যাপতি (১৯৩৮), গোরা (১৯৩৮), হারবাংলা (১৯৩৮), সাপুড়ে (১৯৩৯), নন্দিনী (১৯৪১), চৌরঙ্গী (১৯৪২), দিকশূল (১৯৪২), অভিনয় নয় (১৯৪৩) ও একটি উর্দু ছবি এবং প্রামাণ্য চিত্র ‘বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম’ (১৯৫৭)। ১৯৪১-৪২ সালে ‘মদিনা’ নামে একটি চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যকার, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক ছিলেন নজরুল।

এ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি ১৫টি গান লেখেন। কিন্তু ১৯৪২ সালে নজরুল অসুস্থ হয়ে পড়ায় এটি আর মুক্তি পায়নি। ঢাকার চলচ্চিত্রে ঢাকার চলচ্চিত্রে নজরুলের সৃষ্টি ব্যবহƒত হয়েছে কাহিনি বা বিষয়বস্তু, গান ও সুরের ক্ষেত্রে। নজরুলের ‘মেহের নেগার’ গল্প অবলম্বনে ২০০৬ সালে একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। এটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন মুশফিকুর রহমান গুলজার ও চিত্রনায়িকা মৌসুমী।

নজরুলের গল্প নিয়ে মতিন রহমান নির্মাণ করেন ‘রাক্ষুসী’ চলচ্চিত্রটি। এতে অভিনয় করেন রোজিনা ও ফেরদৌস। এর আগে নজরুলের গল্প ‘জিনের বাদশাহ’ নিয়েও চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়। এ কবির উপন্যাস ‘মৃত্যুক্ষুধা’ এবং গল্প ‘ব্যথার দান’ ও ‘পদ্মগোখরা’ অবলম্বনেও চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। তার দুটি কবিতা ‘লিচুচোর’ এবং ‘খুকি ও কাঠবিড়ালি’ অবলম্বনে শিশুদের জন্য দুটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি থেকে।

চলচ্চিত্রের কাহিনি-গান নজরুলের কাহিনি নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র এবং তার গান ব্যবহার করা হয়েছে যেসব চলচ্চিত্রে; গানÑ নবাব সিরাজদ্দৌলা (১৯৬৭), পরশমণি (১৯৬৮), জীবন থেকে নেয়া (১৯৭০), কোথায় যেন দেখেছি (১৯৭০), মুক্তির গান (১৯৭১-১৯৯৫), বধূ বিদায় (১৯৭৮), লাইলী-মজনু (১৯৮৩), সোনালী আকাশ (১৯৮৫), চন্দ্রকথা (২০০৩), নন্দিত নরকে (২০০৬), দারুচিনি ™^ীপ (২০০৭), প্রিয় তুমি সুখী হও (২০১৪)। জীবন ও সৃষ্টিÑ বিদ্রোহী কবি (১৯৭০), কবি নজরুল (১৯৮০-৮১), বাংলার দামাল ছেলে।

কাহিনি- সুখ দুঃখ (১৯৭১) মায়ার বাঁধন (১৯৭৬)। খান আতাউর রহমান ১৯৬৬ সালে শুরু করেন ‘নবাব সিরাজদ্দৌলা’ চলচ্চিত্র নির্মাণ। এটি ১৯৬৭ সালে মুক্তি পায়। পরিচালক এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ঢাকায় প্রথম নজরুলের গান ব্যবহার করেন। তিনি ছবিতে ‘পথ হারা পাখি কেঁদে ফিরে একা’ বাঈজী আলেয়ার ঠোঁটে (ফেরদৌসী রহমানের কণ্ঠে) এবং মাঝির ঠোঁটে ‘একূল ভাঙে ওকূল গড়ে এই তো নদীর খেলা’ (আব্দুল আলীমের কণ্ঠে) ব্যবহার করেন। জহির চৌধুরী পরিচালিত ‘পরশমণি’ (১৯৬৮) ছবিতে নজরুলের বিখ্যাত গান ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু’ গানটি সমবেত কণ্ঠে ব্যবহƒত হয়েছে। গানে কণ্ঠ দিয়েছেন শাহনাজ বেগম, গীতা সাহা, লাভলী ইয়াসমীন ও মিলি জেসমিন।

জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেয়া’ (১৯৭০) ছবিতে নজরুলের লেখা ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’ ব্যবহƒত হয়েছে সমবেত কণ্ঠে। একইভাবে ‘লায়লী-মজনু’ চলচ্চিত্রে ‘লাইলী তোমার এসেছে ফিরিয়া, মজনু গো আঁখি খোলো’ গানটির সার্থক ব্যবহার দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। নাটকে নজরুল কাজী নজরুল ইসলাম যেসব নাটক রচনা করেছেন, তাতে জীবনের হুবহু অনুকরণ ঘটেনি- তা হয়েছে জীবনের ব্যাখ্যা। লেটো দলের জন্য পালা রচনার মধ্য দিয়ে নজরুলের নাট্য প্রতিভার যাত্রা শুরু। গীত ও নাটের যুগল বন্ধনে দীর্ঘকাল ধরে চর্চিত হয়েছে বাংলা নাটক।

এই ধারার আধুনিক রূপায়ণ ঘটিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আর নজরুলের নাটকে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। পূর্ণাঙ্গ নাট্য নিদর্শন হিসেবে ‘আলেয়া’, ‘ঝিলিমিলি’, ‘সেতুবন্ধন’, ‘শিল্পী’, ‘ভূতের ভয়’, ‘মধুমালা’ নাটকের নাম উল্লেখ্য। ‘আলেয়া’র গল্পটি প্রেমমূলক আখ্যানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এ নাটকের নায়িকা জয়ন্তীর প্রেম ব্যাকুলতা, সিদ্ধান্তহীনতা এবং আবেগের তীব্রতা শেষ পর্যন্ত ঘটনায় ট্র্যাজিক আবহ তৈরি করেছে। বাস্তবতা ও কল্পনার মিশেলে লেখা নজরুলের আরেকটি নাটক ‘ঝিলিমিলি’।

বাস্তবজীবনের প্রেম ও বিরহকে কেন্দ্র করে এটি লেখা হয়েছে। বাস্তবতার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এই নাটকের কাহিনিতে যন্ত্রণা ও চেয়ে না পাওয়ার একটি তীব্র বেদনাবোধের বাণীচিত্র দেখা গেছে। নজরুলের ‘মধুমালা’ দৃশ্য ও কাব্যের সংমিশ্রণে গঠিত বলে এটি সত্যিকার অর্থেই দৃশ্যকাব্য। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ‘রাক্ষুসী’ গল্প নিয়ে নাটকও নির্মিত হয়েছে।

তবু আমারে দেব না ভুলিতে ‘তবু আমারে দেব না ভুলিতে’ নাটকের একটি দৃশ্যে আফরান নিশো ও অপর্ণা ঘোষ। সারওয়ার রেজা জিমির চিত্রনাট্য ও তুহিন হোসেনের পরিচালনায় এতে আরও অভিনয় করেছেন এ কে আজাদ সেতু, চৈতালী চৈতী, সুবহা প্রমুখ। এনটিভিতে আজ রাত ৯টা ৫ মিনিটে নাটকটি প্রচার হবে। রাক্ষসী ‘রাক্ষসী’ টেলিছবির একটি দৃশ্যে শাহাদাত হোসেন ও নাজিরা মৌ।

কাজী নজরুল ইসলামের গল্প অবলম্বনে এর চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন রুশো রকিব। গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন শর্মীমালা। মাছরাঙা টিভিতে আজ রাত সাড়ে ৮টায় টেলিছবিটি প্রচার হবে।

advertisement