advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

‘তার প্রেমিকসত্তাই ছিল সকল সংগীতের প্রেরণা’

তারেক আনন্দ
২৫ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ মে ২০১৯ ০৯:১৯
advertisement

আজ জাতীয় কবির ১২০তম জন্মজয়ন্তী। বিশেষ এই দিনে কথা হয় নজরুলসংগীতশিল্পী ও গবেষক সম্পা দাসের সঙ্গে। তিনি বলেছেন অনেক কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, তারেক আনন্দ সম্পা দাসকে

নজরুলসংগীতশিল্পী হিসেবে কবে থেকে মানুষ চেনা শুরু করে?

২০০০ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে নজরুলসংগীতশিল্পী হিসেবে সরাসরি তালিকাভুক্ত হই। সে সময় আমাদের গ্রুপে মেহের আফরোজ শাওনও ছিলেন। বিচারক হিসেবে ছিলেন ফেরদৌসী রহমান, অনুপ ভট্টাচার্য, আকতার সাদমানী। হলভর্তি দর্শকের উপস্থিতিতে পরীক্ষা দিয়ে তালিকাভুক্ত হয়েছি। এর পর টেলিভিশনে নিয়মিত প্রোগ্রাম করা হয়। তার পরের বছরই বাংলাদেশ বেতারে তালিকাভুক্ত হই। মূলত যাত্রাটা এভাবেই।

নজরুলের কোন ধরনের গান আপনাকে বেশি টানে?

নজরুলের প্রেমের গানই বরাবর আমাকে বেশি টানে। কারণ নজরুল তো প্রেমের কবি। তার এই প্রেমিকসত্তাই সব সংগীত সৃষ্টির ক্ষেত্রে সহায়তা করেছে। প্রেম-বিরহের গীতিকবি হিসেবেই তাকে বারবার খুঁজে পাই। শুধু প্রেমের গানগুলোতেই নয়, সব সংগীতে এই প্রেমই ছিল মুখ্য বিষয়। আপনি তো কবিকে নিয়ে গবেষণা করছেন দীর্ঘদিন।

নজরুল গবেষক হিসেবে তার সৃষ্টির জায়গাটি সম্পর্কে একটু বলবেন?

আমরা কাজী নজরুল ইসলামকে প্রেমের কবি, গানের কবি, জাতীয় কবি হিসেবে চিনি। আমি বোধ করি এ অভিধাগুলো ঠিক নজরুলকে বিশেষায়িত করার জন্য যথেষ্ট নয়। নজরুলসত্তাকে চিনতে হলে চার হাজারেরও বেশি গানকে জানতে হবে। নজরুল যতটা না কবি, তার চেয়েও বেশি তিনি একজন গীতিকবি। বাংলা সাহিত্যে সংগীতের ধারায় প্রচলিত সবকটি ধারা নিয়ে তিনি কাজ করেছেন, পাশাপাশি নতুন ধারারও জন্ম দিয়েছেন। নতুন রাগ-রাগিনী সৃষ্টি করেছেন, তাল সৃষ্টি করেছেন, ভারতবর্ষের হারিয়ে যাওয়া রাগগুলোকে পুনঃউদ্ধার করেন। মানুষের সব অনুভূতির রূপদান করেন। তিনিই প্রথম গীতিকবি যিনি সংগীতে রাগ-রাগিনীর ব্যবহার করেছেন, পাশাপাশি একই গানে একাধিক রাগ-রাগিনী ব্যবহার করেছেন। সুর নিয়ে এত নিরীক্ষাধর্মী কাজ নজরুলের আগে কেউ করেননি। একজন গবেষক হিসেবে আমার মনে হয় নজরুলকে জানতে হলে তার সংগীতকেই জানতে হবে।

নজরুলের কোন বিষয় নিয়ে গবেষণা করছেন?

আমার গবেষণার বিষয় নজরুলের গানের চিত্রকল্প, প্রেম, দ্রোহ ও সমাজ ভাবনা। তাকে নিয়ে আপনার প্রকাশিত গ্রন্থ সম্পর্কে জানতে চাই। প্রথম বই ছিল ‘এ কী মধুর শ্যাম বিরহে’ ও ‘যুগস্রষ্টা নজরুল’। এ ছাড়া বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নজরুল সম্পর্কিত গবেষণাধর্মী লেখা প্রকাশ হচ্ছে। প্রকাশিত অ্যালবামের সংখ্যা কয়টি হলো? আমার প্রথম একক অ্যালবাম ‘কোথায় ঘনশ্যাম’ (২০১৫) প্রকাশ হয় জি-সিরিজ থেকে। ‘আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু’ (২০১৭)। এটি প্রকাশ হয় লেজারভিশন থেকে।

শিগগির নতুন কোনো গান প্রকাশ হচ্ছে?

নিয়মিত গান প্রকাশ করছি। তবে এখন তো আর অ্যালবাম প্রকাশই হচ্ছে না। নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে প্রতি সপ্তাহেই গান, গবেষণাধর্মী আলোচনা সম্পর্কিত অডিও-ভিডিও প্রকাশ করে থাকি।

কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তাকে নিয়ে কিছু বলুন।

সাধারণত দেখা যায়, জন্মদিন ও মৃত্যুদিনেই তাকে বেশি স্মরণ করা হয়। জাতীয় কবির যে সৃষ্টির বিশালতা রয়েছে, ঐশ্বর্যতা রয়েছে, তা কেবল জন্মদিন কিংবা মৃত্যুদিনের অনুষ্ঠানগুলোতেই যথেষ্ট নয়। নজরুল মানবতার কবি, তার সব সৃষ্টি ছিল মানুষের কল্যাণে উৎসর্গকৃত। কৃষক, কামার-কুমার, জেলে, মাঝিমাল্লাসহ সর্বস্তরের মানুষের জন্য তিনি তার সংগীত রচনা করেছেন। যে গীতিকবি মানুষের জন্য এত সৃষ্টিকর্ম রেখে গেছেন তাকে শুধু বিশেষ দিনে স্মরণ করা যথেষ্ট নয়, বাঙালি কবিকে মূল্যায়ন করার কিছুটা সুযোগ আমাদের তখনই আসবে যখন তার এই সৃষ্টিশীলতা সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারব এবং নজরুলচর্চা প্রতিদিনের হবে।

প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে নজরুলচর্চা কতটা হচ্ছে?

প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে লক্ষণীয় পাঠ্যবইয়ে খুব স্বল্প পরিসরে নজরুল অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। যে কোনো জাতির মনন তৈরির জন্য সে দেশের শিল্পস্রষ্টা শিল্পের ধারক-বাহক তথা প্রধান কবি-সাহিত্যিকদের সৃষ্টিকর্ম পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রয়োজন। যে শিশু বড় হবে তার শিক্ষাজীবনের পাঠ্যবইয়ে যে বিষয়গুলো থাকে সেগুলো সারাজীবনের জন্য জ্ঞানের ভিত্তি হিসেবে থাকে। আমি বলতে চাই, কাজী নজরুল ইসলামকে আরও বড় পরিসরে শ্রেণিশিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। আমরা তাকে যত বেশি প্রচার করতে পারব, তার সৃষ্টিশীলতা সম্পর্কে তত বেশি মানুষ জানতে পারবে।