advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চান মোহনগঞ্জবাসী

ইন্দ্র সরকার,মোহনগঞ্জ
২৫ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ মে ২০১৯ ০৯:২০
advertisement

সংগঠক হিসেবে মুক্তিযাদ্ধা সংগ্রহ, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, চিকিৎসাসেবা দেওয়া ও শরণার্থীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণে দায়িত্ব পালন করলেও রাষ্ট্রীয় কোনো খেতাব পাননি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের কৃতী সন্তান ও সংবিধান প্রণেতাদের একজন ডা. আখলাকুল হোসাইন আহমেদ।

এ নিয়ে হাওরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে আছে হতাশা ও অসন্তোষ। তারা এই মুক্তিযোদ্ধার অন্তত একটা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চান। তবে ডা. আখলাকুলের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে এ নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই। মোহনগঞ্জের ডিঙ্গাপোতা হাওরপারের গ্রাম হাটনাইয়াতে ১৯২৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন ডা. আখলাকুল হোসাইন আহমেদ।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে ময়মনসিংহ-২২ (মোহনগঞ্জ-বারহাট্টা) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে তিনি সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। যুদ্ধকালে তিনি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের অন্তর্গত তুরা জেলার মহেষখলা ইয়ুথ ক্যাম্পের ইনচার্জ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেন।

পরবর্তীতে তিনি ময়মনসিংহ জেলার সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ (এনই জোন নং-১১) কাউন্সিলর নিযুক্ত হন। এ ছাড়াও নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জ এলাকার কৃষক, ছাত্র-জনতাকে সংগ্রহ করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে মুক্তিযুদ্ধে পাঠান। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পর ডা. আখলাক জন্মস্থান মোহনগঞ্জকে রাজাকারমুক্ত করতে প্রধান ভূমিকা রাখেন।

স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ১৯৭১ সালের ২২ ডিসেম্বর প্রকাশ্যে মোহনগঞ্জে ঐতিহাসিক লোহিয়ার মাঠে গণআদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। সেখানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ১১ যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে জানান গণআদালত পরিচালনাকারী মুক্তিযোদ্ধা গোলাম এরশাদুর রহমান। তিনি আরও জানান, গণপরিষদ সদস্য হিসেবে ডা. আখলাকুল হোসাইন আহমেদ ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন এবং সংবিধান রচনার পর তাতে স্বাক্ষর করেন। ২০১২ সালের ২৮ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ডা. আখলাকুল হোসাইন আহমেদ মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সভাপতি আব্দুল মান্নান এই বীর মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধে তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন।

advertisement