advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

লঞ্চ ও স্পিডবোটগুলো জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম ব্যবহারে উদাসীন

সম্পা রায়,শিবচর ও রুবেল ইসলাম,লৌহজং
২৫ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ মে ২০১৯ ০৯:২২
advertisement

পারাপারে সময় কম লাগায় প্রতিবারের মতো এবার ঈদেও শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বর্ষা মৌসুম আসন্ন হওয়ায় এ রুটে ঝড়ো আবহাওয়া ও স্রোতের গতিবেগ নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। চলমান লঞ্চ ও স্পিডবোটগুলো জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম ব্যবহারে আগের মতোই উদাসীন থাকায় ঝুঁকি বেড়েছে।

পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শঙ্কা আরও বেড়েছে। বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএসহ একাধিক সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর সঙ্গে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুট হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের দূরত্ব কম হওয়ায় প্রতিবছরই দেশের রেকর্ডসংখ্যক যাত্রীর ঢল নামে এ রুটে। সেই সঙ্গে যানবাহনের চাপও বাড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ।

আসন্ন ঈদে এ ভিড় আগের যে কোনো বারের চেয়েও আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঈদ সামনে রেখে শিমুলিয়া ঘাটে জেলা পুলিশ, নৌপুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, র‌্যাব, আনসারসহ সাড়ে তিনশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে ১৭টি ফেরি দিয়ে যাত্রী পারাপার চলছে।

ঈদের ৫ দিন আগে এ নৌরুটে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে আরও একটি ফেরি সংযুক্ত হবে। বিআইডব্লিউটিএর দুটি ড্রেজার প্রস্তুত আছে। পদ্মা নদীর লৌহজং টার্নিং পয়েন্ট ও হাজরা চ্যানেলে পলি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ড্রেজিং করা হচ্ছে, যাতে ফেরিগুলো চলাচলে কোনো সমস্যা না হয়। লঞ্চ টার্মিনালে (ঘাট) যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ঘাটের সিঁড়ি-ব্রিজগুলো আরও উন্নত করা হয়েছে। ৮৭টি লঞ্চ দিয়ে যাত্রী পারাপার হবে কাঁঠালবাড়ী, কাওড়াকান্দি ও মাঝিকান্দি ঘাটে। লঞ্চের ভাড়া ৩৩ টাকা ছিল, তা-ই থাকবে।

২ জুন রাত থেকে এ রুটে কোনো ট্রাক পারাপার হবে না। ট্রাক এলে তাদের ঈদের ৭ দিন শিমুলিয়া ঘাটে অপেক্ষায় থাকতে হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তায় অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোল রুম, ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ, সিসিটিভি ক্যামেরা ও যাত্রীসেবায় মেডিক্যাল টিম কাজ করবে। গত ১৩ মে ঈদ সামনে রেখে লৌহজং প্রশাসনের আয়োজনে শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রীদের নিরাপদে বাড়ি ফেরার জন্য বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা করা হয়।

সেখানে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা বলেন, এ ঘাটে এক সময় বেশ অনিয়ম ছিল। অনেক কষ্ট করে এ ঘাট দিয়ে পার হতে হয়েছে। যাত্রীদের সেই কষ্ট করতে যেন না হয়, তাই তিনি লঞ্চ মালিক সমিতি, পরিবহন মালিক সমিতি ও বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতা চেয়েছেন। এ সভায় জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম পিপিএম জানান, বাস-ট্রাক দিয়ে রাস্তা আটকে দেওয়া হয়। ফেরি আসার পরে গাড়ি নামতে পারে না। এটা যেন না হয়, এ জন্য গাড়ি মালিকদের দৃষ্টি আর্কষণ করে তিনি সহযোগিতার কথা বলেন।

অন্যদিকে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে গিয়ে জানা যায়, অন্যবারের চেয়ে এবারের প্রস্তুতিও ব্যাপক। থাকবেন ভ্রাম্যমাণ আদালত, পুলিশ, র‌্যাবসহ বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। তবে বর্ষা মৌসুম চলায় ঝড়ো আবহাওয়া ও স্রোতের গতিবেগ বেড়ে ভোগান্তি ও ঝুঁকির কারণ হতে পারে। নদীতে স্রোতের সঙ্গে পলি ভেসে এসে বিভিন্ন পয়েন্টে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে লৌহজং টার্নিং এলাকায় বিকল্প চ্যানেল খননে কাজ শুরু করেছে বিআইডব্লিউটিএ।

বিআইডব্লিউটিসি ইতোমধ্যেই নদীতে ড্রেজার বসিয়ে একটি বিকল্প চ্যানেল তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে চলমান লঞ্চ, স্পিডবোটগুলো জীবনরক্ষাকারী বয়া, লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারে উদাসীন হওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে মাঝ পদ্মায় উদ্ধারকারী জাহাজ রাখা ও ঘাটে পর্যাপ্ত সচল ফেরি রাখার দাবি যাত্রীসাধারণের।

লঞ্চযাত্রী হাসান মিয়া বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের সময় লঞ্চ ও স্পিডবোটগুলোয় অনেক ভিড় হবে। এখন ঝড়ো হাওয়ার সময়। নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঢেউও অনেক। আমরা চাই ঈদের সময় যেন লঞ্চগুলোয় অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা হয়। বিআইডব্লিউটিএ কাঁঠালবাড়ী ঘাট টার্মিনাল ইন্সপেক্টর আক্তার হোসেন বলেন, আসন্ন ঈদে যাত্রী পারাপারে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। আমাদের প্রতিটি লঞ্চে পর্যাপ্ত জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম রয়েছে। কোনো অবস্থায়ই কোনো লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে দেওয়া হবে না। লঞ্চে পর্যাপ্ত জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম না থাকলে সেই লঞ্চের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

বিআইডব্লিউটিসি কাঁঠালবাড়ী ঘাট সহকারী ম্যানেজার মো. জসিমউদ্দিন বলেন, আসন্ন ঈদে যাত্রী পারাপারে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। ইতোমধ্যে সব ফেরি মেরামত করে সচল রাখা হয়েছে। নতুন ফেরিও যোগ করা হবে। নদীতে নাব্য সংকট না দেখা দিলে খুব ভালোভাবেই যাত্রী পারাপার করা যাবে।

মাদারীপুর সহকারী পুলিশ সুপার আবির হোসেন বলেন, প্রতিবারের মতো এ বছরও কাঁঠালবাড়ী ঘাটে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। আমরা লঞ্চ, ফেরি ও স্পিডবোট ঘাট আলাদাভাবে নিয়ন্ত্রণ করব। অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ যে কোনো যাত্রী হয়রানি করা হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

advertisement