advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বরিশালের সন্ধ্যা নদীতে নৌচলাচলে বিঘ্ন চরে চলে ফুটবল খেলা

আল মামুন,বরিশাল ও সরদার রহিম,উজিরপুর
২৫ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ মে ২০১৯ ০৯:৩১
advertisement

একসময়ের খরস্রোতা সন্ধ্যা নদীতে জেগেছে অসংখ্য বালু চর। এ সব চরে ফুটবল খেলায় মেতে ওঠে শিশু-কিশোর আর যুবারা। আর নাব্যতা সঙ্কটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে নৌ-চলাচল। ফলে নদী দিয়ে সবসময় লঞ্চ ও বিভিন্ন নৌযান আগের মতো নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছে না। বরিশাল জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলোর মধ্যে অন্যতম সন্ধ্যা। সেই সন্ধ্যার বিভিন্ন পয়েন্টে বালুচর ও ডুবোচর জেগে ওঠার কারণে এখন নৌযান চলাচলে মারাত্মকভাবে বিঘ্ন ঘটছে। কিন্তু নদী খননের উদ্যোগ না নেওয়ায় নদীর মাঝে জেগে ওঠা ডুবোচর দিন দিন স্থায়ী চরে রূপ নিতে যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর ধরে সন্ধ্যা নদীর বাবুগঞ্জ উপজেলার মোল্লার হাটের অংশের পয়েন্টে পলি জমে ডুবোচরের কারণে ওই এলাকা দিয়ে বড় নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এ ছাড়াও ভাঙার মুখ মুলাদী উপজেলার নন্দীর বাজার উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর সেতুর পাশে ডুবোচরের কারণে সন্ধ্যা নদীর অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে। স্থানীয়রা মনে করেন, দ্রুত সন্ধ্যা নদীতে ড্রেজিং করা না হলে পুরো নদীটি ডুবোচর আর ধু-ধু বালুচরে পরিণত হবে। ঢাকা-পিরোজপুর রুটে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি লঞ্চ সন্ধ্যা নদীর নাব্যতা ও ডুবোচরের কারণে প্রায় ৪০ কিলোমিটার নৌপথ অতিরিক্ত পারি দিয়ে (ঘুরে) চলাচল করছে। যার ফলে বেশ কয়েকটি নৌ-টার্মিনাল থেকে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘসময় ধরে ডুবোচরের কারণে সন্ধ্যা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে চর জেগে ওঠায় নদীটি ধীরে ধীরে মৃত্যুর পথে এগুচ্ছে। স্থানীয় রহিমগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেন জানান, ডুবোচর জেগে ওঠায় এক সময়ের সবচেয়ে বড় লঞ্চঘাট রহিমগঞ্জ এখন অকেজো। এ এলাকার নদী দিয়ে লঞ্চ চলাচল করতে না পারায় ঘাটটি এখন সম্পূর্ণরূপে অচল। সরকার এ ঘাটের কয়েক লাখ টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

পার্শ্ববর্তী বাহেরচর লঞ্চঘাটের ইজারাদার আবদুল খালেক জানান, একসময়ের বাহেরচর লঞ্চঘাটটি ছিল ঐতিহ্যবাহী। বর্তমানে ডুবোচরের কারণে এলাকা থেকে লঞ্চ চলাচল না করায় ঘাটটি এখন অস্তিত্বহীন। নদীর মধ্যে ডুবোচরের পাশাপাশি এখন ধু-ধু বালু আর বালু। ঢাকা-পিরোজপুর নৌরুটে চলাচলকারী রাজদূত লঞ্চের চালক খলিলুর রহমান জানান, ডুবোচর দেখা দেওয়ায় তারা প্রতিদিন প্রায় ৪০ কিলোমিটার নৌপথ অতিরিক্ত ঘুরে লঞ্চ চালাচ্ছেন। দীর্ঘ ৯ বছরেও সন্ধ্যায় কোনো ড্রেজিং করা হয়নি।

বরিশাল বিআইডাব্লিউটিএর উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু লঞ্চ চলাচলে বিঘ্ন হওয়ার কথা স্বীকার করে দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, সন্ধ্যা নদীর ডুবোচর অপসারণে ড্রেজিংয়ের কথা উল্লেখ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা আসলে ড্রেজিং শুরু করা হবে।