advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

এক ব্রেক্সিটে সরে গেলেন দুই প্রধানমন্ত্রী

হেফাজুল করিম রকিব,লন্ডন
২৫ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ মে ২০১৯ ০১:২৫
advertisement

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া (ব্রেক্সিট) ইস্যুতে টানাপড়েনের জেরে ক্ষমতা গ্রহণের প্রায় আড়াই বছরের মধ্যেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। গতকাল শুক্রবার সকালে কনজারভেটিভ পার্টির ব্যাকব্যাঞ্চ ১২২ কমিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে এক সংক্ষিপ্ত ভাষণে মে এই ঘোষণা দেন।

ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে দলের এমপিদের সমর্থন না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন যুক্তরাজ্যের এই দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ব্রেক্সিট ইস্যু কেন্দ্র করেই পদত্যাগ করেছিলেন মের পূর্বসূরি ডেভিড ক্যামেরন। ভাষণে মে জানান, আগামী ৭ জুন কনজারভেটিভ দলের নেত্রীর পদ থেকে তিনি ইস্তফা দেবেন। তবে দলের পরবর্তী নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, ‘এটা আমার কাছে খুব দুঃখের বিষয় যে, ব্রেক্সিটটা আমি করতে পারলাম না। এই দুঃখ আমার থেকেই যাবে। তবে নতুন যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন, তিনি দেশের স্বার্থে নিশ্চই সর্বোচ্চ কাজ করবেন। আগামী ৭ জুন কনজারভেটিভ ও ইউনিয়নিস্ট পার্টির নেত্রী পদে আমি ইস্তফা দেব। নতুন নেতা বাছাইয়ের কাজ তার পরের সপ্তাহেই শুরু হবে।’

কাঁদতে কাঁদতে মে বলেন, ‘আর কিছুদিনের মধ্যেই আমি আমার কাজ ছেড়ে দেব; কিন্তু যে সম্মান আমি নিয়ে যাচ্ছি তা সারাজীবন ধরে রাখব। দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলাম কিন্তু অবশ্যই শেষ নারী প্রধানমন্ত্রী হব না।’ ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে দলীয় এমপিদের সঙ্গে মের মতপার্থক্যের খবর অগে থেকেই পাওয়া যাচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রীর এই চুক্তির বিষয়টি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তিনবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে চতুর্থবারের মতো নতুন চুক্তির বিষয়টি পার্লামেন্টে উত্থাপনের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি; কিন্তু নতুন চুক্তির সঙ্গেও দ্বিমত পোষণ করে বুধবার পদত্যাগ করেন কনজারভেটিভ পার্টির হাউস অব কমনন্সের লিডার এন্ড্রিয়া লেডসাম। ফলে পিছিয়ে যায় চুক্তির বিষয়ে বিল প্রকাশের তারিখ। অন্যদিকে অনিশ্চিত হয়ে যায় পার্লামেন্টে এটি উত্থাপনের তারিখও।

তিন দফায় তারিখ পরিবর্তনের পর আগামী ৩১ অক্টোবর ব্রেক্সিটের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ভেতরে ইইউর কাছে নতুন চুক্তি উপস্থাপন করতে হবে ব্রিটিশ সরকারকে। আর এই নতুন চুক্তি নিয়েই কাজ করছিলেন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। এ নিয়ে বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতাদের সঙ্গে প্রায় দুই সপ্তাহ বৈঠকও করেছে সরকার; কিন্তু এ থেকে তেরেসা মে কিছুই অর্জন করতে পারেননি।

এর পরই মেকে অবিলম্বে পদত্যাগের জন্য পার্টির নেতারা চাপ দিতে থাকেন। তারা বলতে থাকেনÑ দলের জনপ্রিয়তায় ধস ঠেকাতে ও ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের স্বার্থে মেকে সরে যেতে হবে, যাতে নতুন কেউ নেতৃত্ব নিতে পারেন। বিবিসি জানিয়েছে, মের পদত্যাগের পর যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সম্ভাব্যদের তালিকায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও লন্ডনের সাবেক মেয়র বরিস জনসন, সাবেক ব্রেক্সিটমন্ত্রী ডমিনিক রাব, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট এবং পরিবেশমন্ত্রী মাইকেল গোভের নাম রয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশটির প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর আগে ২০১৬ সালে ইইউতে থাকা না থাকার প্রশ্নে গণভোটে হেরে পদত্যাগ করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। ওই সময় ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোটে জিতে প্রধানমন্ত্রী হন তেরেসা মে।