advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রাহুলেই কি শেষ হতে যাচ্ছে গান্ধী অধ্যায়ের

যুবা রহমান
২৫ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ মে ২০১৯ ০১:২০
advertisement

ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ে এসে পড়েছে ভারতের সবচেয়ে প্রাচীনতম দল কংগ্রেস। পর পর দুইবার লোকসভা নির্বাচনে দলটিকে শোচনীয় পরাজয়ের গ্লানি সইতে হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসি বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এই প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, রাহুল গান্ধীর হাতেই কি গান্ধীযুগের ইতি ঘটতে চলেছে? অথচ দলটির রয়েছে দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ রাজনীতির ইতিহাস।

রাহুল গান্ধীর নানা জওহরলাল নেহরু ছিলেন ভারতের প্রথম ও সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী। রাহুল গান্ধীর দাদি ইন্দিরা গান্ধী ছিলেন ভারতের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। আর তার বাবা রাজীব গান্ধী ছিলেন ভারতের সবচেয়ে তরুণ প্রধানমন্ত্রী। অথচ কংগ্রেসের আজ এ অবস্থা যে, দলটি ভারতের নিম্নকক্ষে বিরোধী দলের মর্যাদাও পাচ্ছে না। এবারের লোকসভা নির্বাচনের ফল গত বৃহস্পতিবার প্রকাশ হয়।

এতে দেখা যায়, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ২০১৪ সালের চেয়ে বেশি আসন নিয়ে সরকার গঠন করতে চলেছে। অন্যদিকে কংগ্রেস জোট পরে রয়েছে ৯০ এর কোঠায়। আর কংগ্রেস এককভাবে পেয়েছে মাত্র ৫২টি আসন। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর যে প্রশ্নগুলো ঘুরেফিরে আসছে সেগুলো হলোÑ বিজেপি ৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও কি করে এতো আসন পেলো।

কংগ্রেস কি এতো বাজে পর্যায়ে নামলো কী করে? জনগণের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্য এতো নিচে নেমে এসেছে? পরাজয়ের তালিকায় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃবৃন্দই বা কেন? যে কারণে আমেথিতে হারলেন রাহুল আমেথি হলো কংগ্রেসের পারিবারিক আসন হিসেবে পরিচিত। স্বাধীন ভারতে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে সেগুলোর মধ্যে শুধু ১৯৯৮ সালে এই আসন কংগ্রেসের হাতছাড়া হয়েছিল।

আর সেই আসনে কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী ৫৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। জয় পেয়েছেন অভিনেত্রী থেকে রাজনীতি বনে যাওয়া স্মৃতি ইরানি। এটা এবার লোকসভা নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক! গত লোকসভা নির্বাচনেই স্মৃতি রাহুল গান্ধীর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। সেইবার অল্প ব্যবধানে জিতেছিলেন রাহুল গান্ধী। এর পরও কি কংগ্রেস বিষয়টি আমলে নিয়েছিল?

সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বলছে- ২০১৪ সালে পরাজয়ের পরও আমেথির মাটি কামড়ে পড়েছিলেন স্মৃতি। নিয়মিত তিনি আমেথির লোকজনের সঙ্গে মেলামেশা করেছেন। আর ভোটে হারার পরও বিজেপি সরকার স্মৃতিকে মন্ত্রী পরিষদের সদস্য করেছিল। আর এ সুযোগে আমেথিতে তিনি বেশ কাজও করেছেন। অন্যদিকে রাহুল গান্ধীকে আমেথির লোকজন বলতেন ‘মিসিং এমপি’।

মূলত এ কারণেই রাহুলকে নিজের ‘ঘরেও’ পরাজয়ের গ্লানি নিতে হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কংগ্রেস কি বিরোধী দলের মর্যাদা পাবে? ভারতে লোকসভায় ৫৪৩ আসনের মধ্যে বিরোধী দলের মর্যাদা পেতে অন্তত একটি দলকে ৫৫ আসন পেতে হয়। আর এবার নির্বাচনে কংগ্রেস এককভাবে পেয়েছে ৫২ আসন। অর্থাৎ বিরোধী দলের মর্যাদা পেতে আরও তিন আসন বাকি থেকে যাচ্ছে। গত লোকসভা নির্বাচনে দলটি পেয়েছিল ৪৪ আসন। সেই আসন নিয়ে কংগ্রেস পার্লামেন্টে বৃহত্তম বিরোধী দলের মর্যাদার দাবি করেছিল। কংগ্রেসের সেই দাবি বাতিল হয়ে যায় অতীতের একটি সূত্রের বরাতে।

এর আগে ১৯৫৮ সালে তেলেগু দেশ পার্টি ছিল সংসদের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল কিন্তু তাদের বিরোধী দলের মর্যাদা দেওয়া হয়নি। সেই সময় ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস। তবে এবার পরিস্থিতি পাল্টে যেতে পারে। এবার কংগ্রেস বিরোধী দলের প্রয়োজনীয় আসন সংখ্যা থেকে মাত্র তিন আসন পিছিয়ে রয়েছে। পরিস্থিতিসাপেক্ষে বিজেপি সরকার এটি আমলে নিতে পারে বলে জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।

কংগ্রেসের কৌশল কেন ব্যর্থ হলো : এই মুহূর্তে এটি কোটি টাকার প্রশ্ন। খোদ কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী এ প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন। কিন্তু বিশ্লেষকরা নানাভাবে বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। এবার কংগ্রেস দেশের কোথাও জোট গঠনে আন্তরিক ছিল না। দিল্লিতে আম আদমির নেতা ও মুখ্যমন্ত্রী বারবার জোট গঠনের আগ্রহ দেখালেও কংগ্রেস সাড়া দেয়নি।

উত্তর প্রদেশে দলটি যে কৌশল নিয়েছিল সেটি ছিল আসলে বিজেপির ভোট কাটার কৌশল আদতে জয়ের জন্য ছিল না। এতে ফল উল্টো হয়েছে। কংগ্রেস যেখানে সবচেয়ে বেশি আশা করেছিল সেটি হলো মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় ও রাজস্থানে। এই তিনটি রাজ্যে মাত্র সাতমাস আগে তারা বিধানসভা নির্বাচনে জয় পেল। অথচ লোকসভা নির্বাচনে সবগুলো রাজ্য হাতছাড়া হলো।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে এমন ঘটনা বিরল না। বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসকে ভোট দিলেও লোকসভায় তারা ঠিকই বিজেপির দিকে ফিরে গেছে। আরেকটি কারণ বলা হচ্ছে তা হলো কংগ্রেস আসলে ধরি মাছ না ছুঁই পানি কৌশল অবলম্বন করেছে যা ভোট টানতে পারেনি।

এ ছাড়া রাহুল গান্ধী রাফায়েল মামলা নিয়ে নরেন্দ্র মোদিকে যেভাবে ‘চৌকিদার চৌর হ্যায়’ বলে ব্যক্তি আক্রমণ করেছেন এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করেন অনেকে। সবচেয়ে বড় যে কারণ সেটি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির ইমেজের কাছে রাহুলের ইমেজ চরমভাবে মার খেয়েছে। আর কংগ্রেস তো রাহুলকে প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনয়নও দেয়নি। সব মিলিয়েই ভারতের সবচেয়ে পুরনো এ দলটিকে সবচেয়ে করুণ পরাজেয়ের স্বাদ নিতে হচ্ছে।

advertisement