advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল যে কারণে পর্যুদস্ত

আমাদের সময় ডেস্ক
২৫ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ মে ২০১৯ ০১:৩৬
advertisement

বামদের হটিয়ে এবারের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে বিজেপি। যার ফলও মিলেছে হাতেনাতে। নির্বাচনের ফলে দেখা গেছে আসনের দিক থেকে তৃণমূলের ঘাড়ে এখন নিঃশ্বাস ফেলছে বিজেপির গেরুয়া শিবির।

রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে ২২টিতে তৃণমূল জিতলেও ১৮টি গেছে বিজেপির দখলে। আর কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ২টি আসন। অথচ ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি এই রাজ্য থেকে জিতেছিল মাত্র ২টি আসনে। রাজ্যের বিভিন্ন গণমাধ্যমে চলছে এখন তৃণমূলের এই কোণঠাসা হওয়ার কারণ অনুসন্ধান। একই বিষয়ে আলোচনা করছেন তৃণমূল নেতারাও।

অনেকেই বলছেন, ভারতে এই লোকসভা নির্বাচন সিনেমার থেকে কোনো অংশে কম ছিল না। সরকার ও বিরোধীদের আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ, অভিযোগ, সাসপেন্স মিলিয়ে বেশ জমে উঠেছিল লড়াই। অবশ্য পশ্চিমবঙ্গের ছবি একটু আলাদা ছিল। নির্বাচনের আগেই পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতার যে চিত্র দেখা গিয়েছিল, তার জন্য পুরো দেশের মিডিয়ার নজর ছিল রাজ্যের ওপর।

পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম নরেন্দ্র মোদির কথার লড়াইয়ের ওপরও নজর ছিল সবার। রাজ্যের আসনগুলো ধরে রাখার ব্যাপারে মমতা বেশ আত্মবিশ্বাসীও ছিলেন। কিন্তু ফল ঘোষণার পরই উল্টে গেছে তৃণমূলের পাশার দান। দলের এমন বিপর্যয়ে আজ কলকাতার কালীঘাট কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন মমতা। বলা হচ্ছে এই বৈঠকেই আলোচনা হবে দলের এ হাল সম্পর্কে।

আসতে পারে বেশ কিছু কঠোর সিদ্ধান্তও। জি নিউজ এক খবরে জানিয়েছে, তৃণমূল নেতারা মনে করছেন রাজ্যে ব্যাপক মেরুকরণের ফলেই গেরুয়া শিবিরের এমন উত্থান ঘটেছে। বিশেষ করে সিপিএমের নিষ্ক্রিয় ভূমিকাই বিজেপিকে সে সুযোগ করে দিয়েছে। ২০১৪ সালে সিপিএম ২৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, ১৭ শতাংশ ভোট ছিল বিজেপির। অথচ এবার বিজেপির পক্ষে ভোট পড়েছে ৩৯ শতাংশ।

অর্থাৎ বাম ভোটের কার্যত পুরোটাই চলে গেছে বিজেপির ঝুলিতে। আবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে সহিংসতার জেরে জনমতও প্রতিফলিত হয়নি। আর সে কারণে দলের বাস্তব অবস্থা বোঝা যায়নি। মানুষ ভোট দিতে না পারার শোধ তুলেছে লোকসভা ভোটে। একইভাবে স্থানীয় নেতাদের কোন্দলও ভুগিয়েছে তৃণমূলকে।

পাশাপাশি সাংগঠনিক ব্যর্থতার কারণেও বিজেপির উত্থানের রিপোর্টও ঠিকমতো আসেনি মমতাসহ শীর্ষ নেতাদের কাছে। আবার তৃণমূলের যুব সংগঠনের নেতাকর্মীদের উশৃঙ্খল আচরণ এবং ঔদ্ধত্য মেনে নিতে পারেননি মানুষ। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল অতিরিক্ত প্রশাসননির্ভর হয়ে পড়েছে। তাতে সংগঠনে একাধিক ফাঁকফোকর তৈরি হয়েছে।

তবে পশ্চিমবঙ্গ কব্জায় নিতে এবার মোদি-অমিত শাহরা যেভাবে মরিয়া হয়ে কাজ করেছেন সেটিও বিজেপির সাফল্যের অন্যতম কারণ। প্রধানমন্ত্রী মোদিসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে পেয়ে উজ্জীবিত হয়ে কাজ করেছে রাজ্য বিজেপি।

ফলে নির্বাচনী প্রচারে অনেক বেশি সক্রিয় ছিল দলটির কর্মী সমর্থকরা। এ ছাড়া হিন্দুবাদীদের সেøাগান ‘জয় শ্রী রাম’ বলার ওপর মমতার বিষোদ্গার, রোহিঙ্গা মুসলিম ও অনুপ্রবেশকারীদের সমর্থনও রাজ্যের মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। একই সময়ে মমতা সরকারের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রিতিও তৃণমূল থেকে মানুুষের দৃষ্টি ফিরিয়ে নিচ্ছে। চিটফান্ডের মাধ্যমে বহু মানুষের অর্থ তুলে নেওয়ার ঘটনা রাজ্যের জনগণের মনে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

advertisement