advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিরান শূন্য পথের পাথেয় জোগান

মুফতি আবুল আহসান
২৫ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ মে ২০১৯ ০৯:২৭
advertisement

পবিত্র রমজান দানশীলতা, উদারতা ও মহত্ত্বের শিক্ষা দেয়। রমজানের বরকতময় দিনে কেউ দান করলে সওয়াব মেলে অনেক গুণ বেশি। রাসুলুল্লাহও (স) এ মাসে অন্য সময়ের তুলনায় দান-সদকা বেশি করতেন। দানের গুরুত্ব তুলে ধরে নবী করিম (স) বলেছেন, ‘একজন কৃপণ আবেদের চেয়ে একজন মূর্খ দানশীল ব্যক্তি আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়।’

তিনি উম্মতকে রমজানে দানের প্রতি উৎসাহিত করতে এ মাসে দানের ফজিলত সম্পর্কে এরশাদ করেছেন, ‘রমজানে এক দিরহাম দান-খয়রাতের বিনিময়ে সহস্র দিরহামের পুণ্য লিপিবদ্ধ করা হয়।’

পৃথিবীর কেউ সম্পদ নিয়ে কবরে যেতে পারেনি। সব ফেলেই একা একা হাঁটতে হয় বহুদূরের বিপদসঙ্কুল সেই পরকালের পথে। যেই বিরান শূন্য পথে পাথেয় হতে পারে শুধু ইহকালীন পুণ্য আর সেইসব মানুষের দোয়া, যারা অনুগ্রহ পেয়েছিল, ভালোবাসা পেয়েছিল ওই পথিকের। তাই দান গ্রহীতার জন্য যতটা উপকারের, দাতার জন্য পরকালে তার প্রতিদান আরও বেশি ফলদায়ক।

অন্যদিকে আল্লাহ তায়ালা তার দেওয়া রিজিক থেকে অসহায়দের প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এরশাদ করেন, তোমাদের মুখ পূর্ব দিকে বা পশ্চিম দিকে ফেরানোর মধ্যে কোনো পুণ্য নেই। বরং সৎকাজ হচ্ছে এই-মানুষ আল্লাহ, কিয়ামতের দিন, ফেরেশতা, আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাব ও নবীদের মনেপ্রাণে মেনে নেবে এবং আল্লাহর প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের প্রাণপ্রিয় ধনসম্পদ আত্মীয়স্বজন, এতিম, মিসকিন, মুসাফির, সাহায্যপ্রার্থী ও ক্রীতদাসদের মুক্ত করার জন্য ব্যয় করবে (সুরা আল বাকারা)।

রমজানে দানের প্রতিদান হিসেবে অনেক বেশি সওয়াব মেলে। তাই এ মাসে অধিক হারে দান করা উচিত। মানুষের ভেতরে সম্পদের প্রতি মোহ ও আকর্ষণ খুব প্রবল। ইহকালে ধনসম্পদের প্রয়োজনীয়তাই এ আকর্ষণ তৈরি করে। অর্থের জন্য বিভোর থাকা মানুষের মনে এমন এক চাহিদা তৈরি হয়, যা আর শেষ হয় না; যতক্ষণ না মৃত্যু তাকে ছিনেয়ে নেয়।

এ স্বল্প আয়ুর জীবনে অর্থের পিছে ছুটে সব বরবাদ করা কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। অর্থ তো মানুষের কল্যাণের জন্য। আপনার সম্পদ যদি মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়, আপনার অর্থ যদি অসহায়ের মুখে হাসি ফোটাতে পারে, তবেই তা হয়ে উঠে অর্থবহ। নতুবা অর্থই যে অর্থের মূল,  মৃত্যুমুখে তা অনুধাবন করেন সবাই। রাসুল (স) বলেন, পানি যেমন আগুনকে নিভিয়ে দেয়, নিশ্চয় তেমনি সদকাও কবরের আজাবকে বন্ধ করে দেয় (তিরমিজি)।

যারা সম্পদশালী নন, তারাও দানে পিছিয়ে থাকবেন না। আপনার যতটা সামর্থ্য আছে, যতটা সম্ভব হয় দান করুন। নিয়ত গুণেই আমলের সওয়াব দেবেন আল্লাহ তায়ালা। নবী করিম (স) বলেছেন, তোমরা খেজুরের সামান্য অংশ সদকা করে হলেও নিজেদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো (বোখারি ও মুসলিম)। কেউ যদি অভাবীদের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্যের হাত সম্প্রসারিত করে, তা যত কম বা সামান্যই হোক না কেন, প্রভুর কাছে তা অতিপ্রিয় বলে বিবেচিত হয়।

দানের ক্ষেত্রে প্রথমেই গুরুত্ব দিন আত্মীয়স্বজনকে। শুরুতে পরিবারে সচ্ছলতা, সমতা ফিরিয়ে আনতেই ইসলাম এ নির্দেশ দিয়েছে। আত্মীয়স্বজনকে সহযোগিতার পর পর্যায়ক্রমে নিজের এলাকার গরিব, এতিমদের দান করুন। এর পর অন্যদের, যারা আপনার দরজায় এসে কড়া নাড়তে লজ্জাবোধ করেন; কিন্তু অসহায়, তাদের নিজে গিয়ে দান করুন। আর যারা আপনার দরজায় এসে কড়া নাড়েন, তাদের কখনো বিমুখ করবেন না।

দুর্ব্যবহার করবেন না। ধমক দেবেন না। তারা মনে কষ্ট পায়, এ ধরনের কোনো আচরণ প্রকাশ করবেন না। তারাও আপনার মতো একই খোদার বান্দা। আপনার মতো একই রক্তে-মাংসের মানুষ। এই জীবনে তিনি হয়তো সম্পদশালী নন, পরজীবনেও যে নিঃস্ব থাকবেন, সে কথা কি বলতে পারেন? একদিন তো তার সঙ্গে আপনার দেখা হয়ে যাবে। দান করুন গোপনে, পরিশুদ্ধ নিয়তে। কেবলই সেই রবের জন্য, যিনি আপনার রিজিকদাতা; পালনকর্তা। লোক দেখানোর জন্য দান করলে তা কবুল হবে না।

হজরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন আল্লাহর ছায়া ছাড়া কোনো ছায়া থাকবে না, তখন আল্লাহ তায়ালা সাত শ্রেণির মানুষকে তার (আরশের) ছায়া দান করবেন। (তাদের মধ্যে একজন হলো) যে ব্যক্তি এত গোপনে সদকা বা দান করে যে, ডান হাত যা দান করে, বাম হাত তা টের পায় না (বোখারি, মুসলিম, তিরমিজি, মুসনাদে আহমদ)। রোজাসংক্রান্ত মাসআলা দাঁত থেকে রক্ত বের হয়ে তা যদি থুতুর সঙ্গে ভেতরে চলে যায় আর রক্তের পরিমাণ থুতুর সমান বা বেশি হয়, তবে রোজা ভেঙে যাবে।