advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ছুটির দিনে মার্কেটে মার্কেটে জনসমুদ্র

গোলাম রাব্বানী ও রেজাউল রেজা
২৫ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ মে ২০১৯ ০৯:৩৩
advertisement

২৯টি রোজা হলে ঈদের বাকি আর মাত্র দশ দিন। রাজধানীর অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে খুপরি বস্তি পর্যন্ত সর্বত্র তাই ছড়িয়ে পড়ছে উৎসবের আমেজ; , দামি গাড়ি হাঁকানো ধনাঢ্য ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ‘নুন আনতে পান্তা ফুরোনো’ দরিদ্র শ্রমজীবী, সবার মাঝেই ছড়িয়ে পড়ছে আনন্দের রঙ।

রাজধানীর সুরম্য মার্কেট, বিপনীবিতান, দেশজোড়া খ্যাতি কুড়ানো ফ্যাশনহাউস থেকে শুরু করে খোলা আকাশের নিচে পশরা সাজিয়ে বসা ফুটপাথের অস্থায়ী দোকান, সর্বত্র বাড়ছে ভিড়। এর সঙ্গে গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন যোগ হওয়ায় এদিন রাজধানীর মার্কেটগুলো যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে মার্কেটে মার্কেটে ক্রেতা সমাগমও ততোই বাড়বে।

রাজধানীর নিউমার্কেট, চাঁদনি চক, গাউছিয়া, এলিফ্যান্ট রোড, হকার্স মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, মৌচাক, ফরচুন টাওয়ার, বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স, রাজধানী সুপার মার্কেট, আজিজ সুপার মার্কেট, রাপা প্লাজা ঘুরে দেখা গেছে, গত কদিনের তুলনায় বিক্রি বেশ বেড়ে গেছে। এখন চলছে গ্রীষ্মকাল। ঈদ পোশাক কেনাকাটায় এ বিষয়টিও মাথায় রাখছেন অধিকাংশ ক্রেতা। বরাবরের মতো এবারও তারুণ্যের ঈদ-পছন্দে রাজত্ব করছে ভারতীয় পোশাক। চাঁদনি চকে মুন ফ্যাশনস এর কর্ণাধার আবুল হোসেন বলেন, রমজান শুরুর পর ঈদ বাজারে আজ সর্বোচ্চ ভিড়। একদিকে ঈদ প্রায় আসন্ন তার উপর শুক্রবার হওয়ায় ক্রেতাদের সর্বোচ্চ উপস্থিতি। কারণে বিক্রিও ভালো।

ঈদ কেনাকাটায় মধ্যবিত্তদের পছন্দের রাজধানী মার্কেটে গতকাল গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা ক্রেতা চাহিদা পূরনে বাহারি ও বৈচিত্র্যময় পোশাকে দোকান সাজিয়েছেন। এ মার্কেটে শিশুসহ সব বয়সী মানুষের পোশাকই পাওয়া যায়। থ্রি পিস পাওয়া যাচ্ছে মানভেদে ৩শ থেকে ৫ হাজার টাকায়। ২০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে শিশুদের চমৎকার সব পোশাক। এ মার্কেটের পোশাক্যে আধিক্য রয়েছে ভারতের। নূর ট্রেডার্সের মালিক মতিন বেপারী বলেন, প্রতি বছরই ভারত থেকে পণ্য আনতে ঝামেলা হয় বলে এবার শবে বরাতের আগেই আমদানির কাজটি সম্পন্ন করে ফেলেছি। আজিজ সুপার মার্কেট, আড়ং, দেশি-দশ, অন্যমেলার মতো দেশীয় পোশাকের অভিজাত দোকানগুলোতে তারুণ্যের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে গতকাল।

আড়ংয়ের বসুন্ধরা সিটি শপিং মল শাখার ম্যানেজার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ছুটির দিনে ভিড় অনেক আমাদের এখানে। মেয়েদের ড্রেস ও পাঞ্জাবির অনেকগুলো ডিজাইন ইতিমধ্যেই ফুরিয়ে গেছে। ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। আমরা খুশি। তরুণদের অনেক ভিড় প্রায় প্রতিটি মার্কেটে। পাঞ্জাবি ও শার্টের দোকানে ভিড় সবচেয়ে বেশি। সুতির পাঞ্জাবি; বিশেষ করে ব্রাশু কটন, পেয়াজ কটন, চিনিগুড়া কটন, ফেন্সি কটনের পাঞ্জাবির কাটতি এবার বেশি।

বঙ্গমার্কেট কমপ্লেক্স মার্কেটের বিসমিল্লাহ বস্ত্র বিতানের ব্যবসায়ী মো. বাবুল মিয়া বলেন, ব্রাশু কটনের ওপর জলছাপ ও হাতের কাজ করা। বুকের একপাশে কারচুপি ও এম্ব্রয়েডারির ডিজাইন। এ ধরনের পাঞ্জাবির বিক্রি সবথেকে বেশি। সেমি লং ও লং -দুই প্যাটার্নেই পাওয়া যাচ্ছে এগুলো। দাম পরবে ৭৫০ থেকে ১ হাজার ২০০টাকা পর্যন্ত। এছাড়া সাডন কটনের ছাপা পাঞ্জাবির দাম ৩৮০ থেকে ৭০০টাকা পর্যন্ত।

পীর ইয়ামেনী মার্কেটের মায়ের দোয়া পাঞ্জাবি বিতাণের কর্ণধার মো. মোকলেসুর রহমান জানান, সাদা ও অফ হোইট রঙের নরম ধুতি কাপড়ের (পাতলা সুতি) ও ইউনিটিকা কটনরে পাঞ্জাবি-পায়জামার চাহিদাও কম নয়। ৭০০ থেকে ২ হাজার টাকায় মিলবে এসব পাঞ্জাবি। দেরিতে হলেও ঈদ বাজার জমে উঠেছে জানিয়ে পীর ইয়ামেনী মার্কেট দোকানদার সামিতির সভাপতি ও সাদ ফ্যাশনের কর্ণধার মোহাম্মদ কাউছার বলেন, চলতি সপ্তাহে বিশেষ করে আজ(শুক্রবার) আমাদের মার্কেটে পাঞ্জাবির বিক্রি অনেক বেড়েছে।

গতবছরের তুলনায় এবছর কমপক্ষে ১০ শতাংশ বেশি পাঞ্জাবি বিক্রির আশা করছি আমরা। অন্যদিকে অন্যদিকে গেল বছরের মতো এবারও অভিজাত বিপণি বিতান ও ব্র্যান্ডগুলোতে রাজত্ব করছে কাবুলি পাঞ্জাবীর সেট। এবছরও এর বিক্রি ভালো। দোকানে ঢুকেই ক্রেতারা প্রথমেই খুজছেন কাবুলি সেট।

পরনে একটু ঢিলেঢালা হওয়ায় গরমে পরতে বেশ আরামদায়ক এটি। ডিজাইন ও কাপড় ভেদে এগুলোর দাম পরছে ৩ হাজার ৫০০টাকা থেকে ৪ হাজার ৮০০টাকা পর্যন্ত। এছাড়া বিভিন্ন ডিজাইন ও মান ভেদে ছেলেদের গ্যাবাডিন কাপড়ের প্যান্ট পাওয়া যাচ্ছে ৭শ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকায়; জিনসের প্যান্ট ৬শ থেকে ১৮শ টাকার মধ্যে।

advertisement