advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ মে ২০১৯ ০৯:২৮
advertisement

কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার ছলচাতুরী করে চিকিৎসা না দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কারাগারে রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গতকাল শুক্রবার সকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এক বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে থাকা খালেদা জিয়া বর্তমানে চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউতে রয়েছেন। খালেদার জামিনে বাধা দিয়ে তাকে সরকার কারাগারে আটকে রাখতে চাইছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন ফখরুল।

তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার আপনারা দেখেছেন, কীভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে দুটি মামলায়। যেটার সঙ্গে সঙ্গে জামিন হওয়ার কথা। সেখানে অ্যাটর্নি জেনারেল প্রথমে বলল, উনি অসুস্থ, পরে বলল, উনি আরেকটা কাজে ব্যস্ত। সেখানেও সরকার ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়োছে। দেশনেত্রীর মুক্তি তার আইনগত প্রাপ্যতা তাতেও সরকার উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিলম্বিত করছে এবং আদালতের ওপর হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে। আজকে জনগণের নেত্রী খালেদা জিয়াকে এভাবে আটক করে রেখে, তাকে চিকিৎসা না দিয়ে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের কাছে যেটা মনে হয়েছে, যেটা বিশ্বাস করতে চাই না, তারা (সরকার) কী দেশনেত্রীকে এভাবে বিনা চিকিৎসায় কারাগারের মধ্যেই মেরে ফেলতে চায়, তাকে হত্যা করতে চায়?

খালেদার জামিন আটকে সরকার তার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব। খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে তার চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া না হলে যে কোনো ঘটনার জন্য সরকারকে দায়ী হতে হবে বলে হুশিয়ারি দেন তিনি।

এক প্রশ্নে ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবির সঙ্গে বিএনপির সংসদে যোগদানের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে, গণতন্ত্রের স্বার্থে, আমাদের দলের স্বার্থে সংসদে গেছি। বেগম জিয়ার মুক্তি তো শর্তসাপেক্ষে হবে না, আইনগতভাবে হবে। জামিনে মুক্তি তার পাপ্য। আমরা সেটা চাই। বিএসএমএমইউতে চিকিসাধীন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে বলে দাবি করেছেন এক দিন আগেই বিদেশ থেকে ফেরা বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, আগে ছিল ম্যাডামের বাম শোল্ডার ফ্রোজেন, এখন তার ডান শোল্ডার ফ্রোজেন হতে যাচ্ছে। তার হাতগুলো নাড়াতে পারছেন না। পা সোজা থাকলে বাঁকা করতে পারছেন না তিনি। তিনি এখন কারও সাহায্য ছাড়া বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না। তাকে টয়লেটে যেতে হলেও সাহায্য নিতে হয়। আমরা যতটুকু জেনেছি, তার মাসলসগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে, অকেজো হয়ে যাচ্ছে। তার যে রিউমেটিকস আর্থ্রাইটিস যেটা আছে সেটাও অনেক বেড়ে গেছে। তার শরীর-স্বাস্থ্য এত খারাপ হয়ে গেছে, তিনি বিছানা থেকে উঠতে পারেন না। আমরা আগেও বলেছি তিনি অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে ভুগছেন। আমার কাছে যে তথ্য আছে এখন তিনি ইনসুলিন নিচ্ছেন। ইনসুলিন নেওয়ার পরও তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসছে না। বিএসএমএমইউতে যে কক্ষে বিএনপি চেয়ারপারসন রয়েছেন, তার পরিসর ছোট বলেও জানান ফখরুল।

তিনি বলেন, আমরা সরকারকে বারবার বলছি, তাকে উন্নত চিকিৎসা দিতে হবে। তিনি বাইরে থেকে চিকিৎসা করতে চান, সেই সুযোগটাও তাকে দেওয়া হচ্ছে না। হেলথ বুলেটিনের দাবি খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের নিত্যকার তথ্য জানাতে সরকারের প্রতি দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।

ফখরুল বলেন, প্রতিদিন যে খবরগুলো পাচ্ছি দেশনেত্রীর স্বাস্থ্যের ব্যাপারে, আমরা উদ্বিগ্ন। এটা তো তাদের দায়িত্ব ছিল প্রতিদিন একটা করে হেলথ বুলেটিন দেওয়া। সরকারের কাস্টডিতে আছেন। এটা ডিমান্ড করে, তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে তারা জানাবে। সেটা তারা জানায় না। আত্মীয়স্বজনদের নিয়মিত দেখা করাও তারা অ্যালাউ করে না। আগে ৭ দিনে দেখা করতে দিত, এখন ১৫ দিনেও দেয় না। আমরা দ্-ুএকবার দেখা করেছি, সেই সুযোগটাও দেওয়া হয় না।

এ সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী ও আবদুল কাইয়ুম।

advertisement