advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ইউরোপে যাচ্ছে কলারোয়ার আম

মোস্তাক আহমেদ, কলারোয়া
২৫ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ মে ২০১৯ ০১:০৪
advertisement

মাটি ও আবহাওয়াজনিত কারণে অন্য এলাকার তুলনায় সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার আম আগে পাকে। স্বাদে, গুণে ও মানে বিখ্যাত হওয়ায় এখানকার আম ইউরোপের বাজারেও সুনাম অর্জন করেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহেই সুুস্বাদু ল্যাংড়া, হিমসাগর ও আম্রপালি আম উড়াল দেবে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে। বিষমুক্ত আম রপ্তানির লক্ষ্যে শেষমুহূর্তে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রান্তিক চাষিরা। এর মধ্যে কলারোয়ার বিখ্যাত আম হিমসাগর পাড়া শুরু হয়েছে গেল বুধবার থেকে। বর্তমানে তা দেশের বাজারেও মিলছে।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিদেশে আম রপ্তানিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে কলারোয়া। একই সঙ্গে বিষমুক্ত আম উৎপাদনে বিপ্লব ঘটাবে। চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ৬০২ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। ছোট-বড় বাগান রয়েছে ২৬০০টি। বিষমুক্ত রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে এর মধ্যে ১২৫টি বাছাইকৃত আমবাগান কৃষি অফিস সরাসরি তত্ত্বাবধান করছে। এসব বাগানের কৃষকরা বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। সেই সঙ্গে কৃষি অফিস থেকে তাদের জৈব সার, আর্সেনিকমুক্ত পানি ও মাছি-পোকা দমনে ফেরোমন ফাঁদ দেওয়া হয়। আবার সেখান থেকে ৫০টি আমবাগানের বাছাইকৃত ১০০ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানি করা হবে।

বাকি ৭৫টি বাগান থেকে ৩০০ মেট্রিক টন বিষমুক্ত আম যাবে দেশের বৃহৎ সুপারশপে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মহাসীন আলী জানান, চলতি মৌসুমে কলারোয়া থেকে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় আম রপ্তানি হবে। এ ছাড়া স্বপ্ন, আগোরাসহ দেশের নামকরা সুপারশপেও আম সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে। ফলে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও দেশের সুপারশপগুলোর প্রতিনিধিরা বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন। তবে অনেক আগেই ইতালি ও যুক্তরাজ্য থেকে আম আমদানিকারক প্রতিনিধিরা উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে একাধিক বিষমুক্ত বাগান পরিদর্শন করেছেন। এ ছাড়া রাজধানীর সুপারশপগুলোর পক্ষ থেকে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, কলারোয়ার মাটি ও আবহাওয়া আম উৎপাদনের জন্য উপযোগী হওয়ায় অন্য জেলার থেকে ১৫-২০ দিন আগেই আম পাকে এবং এসব খেতেও সুস্বাদু। আর সে কারণেই রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জকে পেছনে ফেলে রপ্তানির বাজারে জায়গা করে নিয়েছে কলারোয়ায়ার ল্যাংড়া, হিমসাগর ও আম্রপালি আম। ইতোমধ্যে আম রপ্তানির প্রক্রিয়া চলছে। গাছ থেকে আম পাড়া, পচনরোধে হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিংয়ের ওপর এখানকার চাষিদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে।

এদিকে প্রশাসনিক আদেশের পর গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ ও বৈশাখীসহ স্থানীয় জাতের আম বাজারজাত শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে কলারোয়ার বাজারগুলোয় বিষমুক্ত সুস্বাদু ও মিষ্টি আম আসতে শুরু করেছে। জমে উঠেছে জেলার বৃহৎ পাইকারি বাজার কলারোয়ার বেলতলাও।

advertisement