advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সবাই বিজেপির টাকা খেয়েছে

আমাদের সময় ডেস্ক
২৬ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৬ মে ২০১৯ ০০:৪৪

লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা খাওয়ার পর পুলিশ, প্রশাসন, সংবাদমাধ্যম, বামজোট সবাইকে দোষারোপ করলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষুব্ধ মমতার দাবি, সবাই বিজেপির কাছ থেকে টাকা খেয়ে কাজ করেছে। এমনকি তৃণমূলের অনেকে বিজেপির কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছিল বলেও অভিযোগ তার।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের এ নির্বাচনের ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন তিনি। লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দুদিন পর গতকাল শনিবার দলের নেতাদের বৈঠকে মমতা এমন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। কাজ করতে না দেওয়ার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছিলেন মমতা। যদিও দল তা গ্রহণ করেনি বলে জানিয়েছেন তিনি।

advertisement

খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া, জিনিউজ ও আনন্দবাজার। লোকসভা নির্বাচনের গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ফলে দেখা যায়, পশ্চিমবঙ্গে ৪২ আসনের মধ্যে ২২টিতে জিতেছে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস, ১৮টিতে বিজেপি। ২০১৪ সালে তৃণমূল জিতেছিল ৩৪টিতে। মমতা বরাবরই বলে আসছিলেন এবার ৪২ আসনের সবই পাবে তার দল। সেটি তো হয়ইনি, উল্টো ২০১৪ সালে দুটি আসন জেতা বিজেপি এবার এক লাফে জিতে নিয়েছে ১৮টি। দুই বছর পর অনুষ্ঠেয় বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির এই উত্থানকে তৃণমূলের জন্য অশনিসংকেত বলে মনে করা হচ্ছে।

নির্বাচনী ফল পর্যালোচনায় গতকাল মুখ্যমন্ত্রীর কালীঘাটের বাসভবনে দলের শীর্ষ ও জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মমতা। এতে জয়ী ও পরাজিত তৃণমূলের প্রার্থীদেরও ডাকা হয়। এ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তৃণমূল নেত্রী। সেখানে সবার বিরুদ্ধেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, নির্বাচন কমিশনই এ নির্বাচনের ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’। ওপেন গেম খেলেছে ওরা।

গণতন্ত্র টাকার কাছে বিকিয়ে গেলে সেই গণতন্ত্র বিপর্যস্ত হয়ে যায়। এ রকম আগে কখনো হয়নি। বিচারব্যবস্থা, কেন্দ্রীয় বাহিনীও বিজেপি নিয়ন্ত্রণ করেছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। উন্নয়নের কোনো দাম নেই মন্তব্য করে মমতা বলেন, পুলিশকে টাকা দিয়েছে বিজেপি, সিপিএমকে টাকা দিয়েছে, তৃণমূলের অনেককেও টাকা দিয়েছে। কোথাও লড়াই করেনি সিপিএম। পুরো ভোট বিজেপিকে দিয়ে দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমও বিজেপির হয়ে কাজ করেছে। তৃণমূলের যারা বিজেপির থেকে টাকা নিয়ে তাদের হয়ে কাজ করেছে, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়। বিজেপি সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়িয়ে জিতেছে দাবি করে তিনি বলেন, মানুষ ওদের (বিজেপি) বিশ্বাস করবে না। মানুষের ওদের আসলটা বুঝতে একটু সময় লাগবে।

এ বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পাঁচ মাস আমাকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। তিন মাস ধরে নির্বাচন চলেছে। তার আগে দুমাস ধরে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। অপমানিত বোধ করছি। সোজা বলেছি, এই পরিবেশে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে থাকতে চাই না, দলের সভানেত্রী হয়ে থাকতে চাই। চেয়ার আমার কাছে কিছু নয়। আগেও অনেকবার ছেড়ে এসেছি। কিন্তু ওরা (দল) আমাকে আটকে দিয়েছে।