advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মাশরাফিদের পথচলা শুরু

মাইদুল আলম বাবু কার্ডিফ থেকে
২৬ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৬ মে ২০১৯ ১১:৪০
advertisement

কার্ডিফে আসতেই মনটা নরম হয়ে যায়। বিদেশ-বিভুঁইয়ে এমন অনুভবের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এটি মনে হয় বাংলাদেশের দ্বিতীয় হোম ভেন্যু। এই মাঠে ১৪ বছরে দুটি ম্যাচ খেলেছে টাইগাররা। জয় পেয়েছে দুটিতেই।

সর্বশেষ ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিউজিল্যান্ড বিপক্ষে জয়ের স্মৃতি এখনো মনে জ্বলজ্বল করছে। এই মাঠেই হাবিবুল বাশার সুমন, যিনি ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়া-বধের সাক্ষী তিনি কাল এলেন। স্মৃতি রোমন্থন করলেন। আজ বাংলাদেশের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচ। বলে দেওয়া যায় বিশ্বকাপই শুরু।

মেহেদী হাসান মিরাজ আশার কথা বললেন। তিনি আশাবাদী প্রস্তুতি পর্ব ভালোই হবে। পাকিস্তান কাল অনুশীলন করেনি। তাদের সপ্রতি ওয়ানডে রেকর্ড ভালো নয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সম্প্রতি সিরিজ হেরেছে। বিশ্বকাপের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচেও হেরেছে, আফগানিস্তানের বিপক্ষে। ১৯৯৯ সালে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপে অংশগ্রহণেই বাজিমাত করেছিল বাংলাদেশ।

পাকিস্তানকে হারিয়ে দেন সুজন-রফিক-পাইলট-নান্নু-আকরাম-বুলবুলরা। ২০ বছর পর আরও একটি বিশ্বকাপ শুরুর অপেক্ষা। সেই পাকিস্তানের সঙ্গে ‘ড্রেস রিহার্সেল’ ম্যাচে মুখোমুখি হবে আজ টাইগাররা। অবশ্য সরল বাংলায় বললে ‘পোশাকি’ লড়াই এটা। গা-গরম করে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতেই এমন আয়োজন করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল।

আফগানদের কাছে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির প্রথম ম্যাচে হেরে এমনি তোপের মুখে পাকিস্তান। তারা দলের কম্বিনেশনটা এখনো বুঝে উঠার চেষ্টা করবে। বাংলাদেশ অবশ্য ২৮ মে আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবেÑ এই কার্ডিফে। প্রতিপক্ষ সেটাও দক্ষিণ এশিয়ার আরেক জায়ান্ট ভারত। এই প্রথম মনের কোণে বারবার উঁকিঝুঁকি দেয় একটি কথাইÑ এবারই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ। ভাবতে কেমন হিম হিম ভয় লাগছে। অবশ্য শিহরণ ও রোমাঞ্চ কম হচ্ছে না। বিশ্বকাপ যতই কাছে আসছে, উত্তেজনার পারদ ততই ওপরে উঠছে, বেড়েই চলেছে।

মূল পর্বেও ভারত-পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচ রয়েছে। এবার সবার সঙ্গেই খেলতে হবে। প্রস্তুতি ম্যাচে লাভ হচ্ছে, একটু আগে থেকে যুঝে নেওয়া আর কী। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে স্বপদে বেশি দিন থাকছেন না। বিশ্বকাপের ম্যাচÑ আবহাওয়া যেমন হওয়া উচিত ছিল এমনিতেই তেমনটা নেই। গতকালের সব পত্রিকাজুড়ে শুধুই বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর বিশাল ছবি। শহরজুড়ে তেমন ফিসফাঁসও নেই।

ইংলিশরা জাতিগতভাবেই কেমন যেন নির্বিকার। বিশ্বকাপ নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার মতো ইংলিশদের উন্মাদনা নেই। অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর চলে যাওয়া নিয়েও নেই বাড়তি আবেগ। সব কিছুই যেন জলের মতো। স্বাভাবিক নিয়মেই গড়িয়ে গড়িয়ে চলছে। লন্ডনের মতো কার্ডিফ ওয়েলশ স্টেডিয়ামের বাইরেও বোঝার উপায় নেইÑ কদিন পরেই ক্রিকেট বিশ্বকাপ শুরু হতে যাচ্ছে।

স্টেডিয়ামের বাইরে শুধু ব্যানার টাঙানো হয়েছে। বড়-বড় পোস্টার-ফেস্টুন দেখে মনে হচ্ছে- ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ওয়ানডে টুর্নামেন্টটি আসন্ন। কয়েকটি পত্রিকা বিশেষ ফিচার করেছে ইংলিশ ক্রিকেটারদের নিয়ে। সেটাতেও রঙ ছড়ায়নি। ক্রিকেট বিশ্বকাপ শুরু হবে ৩০ মে। বাংলাদেশ ২ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার মোকাবিলা করে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে।

এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ২টি প্রস্তুতি ও ৯টি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলবে। সেরা ৪টি দল যাবে সেমিফাইনালে। বাংলাদেশ বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়ে এসেছে আয়ারল্যান্ড থেকে। ত্রিদেশীয় সিরিজের বৃষ্টি-বিঘিœত ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে শিরোপা জেতে। এটাই বাংলাদেশের ক্রিকেট-ইতিহাসে প্রথম ট্রফি। এমন বাড়তি আত্মবিশ্বাস সঙ্গে নিয়ে এসে উড়ন্ত সূচনার অপেক্ষায় মাশরাফিরা।

advertisement