advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অর্থের অভাবে ঝরে যায়

২৬ মে ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ২৬ মে ২০১৯ ০৯:১৫
advertisement

এ বছর উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করেছে ১৪ লাখ ১৫ হাজার ৮২৫ শিক্ষার্থী। অথচ মাধ্যমিক পাস করেছিল ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৫ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ কলেজে ভর্তির আবেদন করেনি ২ লাখ ৪২ হাজার ৪২ শিক্ষার্থী। ধারণা করা হচ্ছে, তারা ঝরে পড়ছে। ‘বাংলাদেশ এডুকেশন স্ট্যাটিস্টিকস ২০১৮’-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষাজীবনে মাধ্যমিক স্তরে থেকে ঝরে যাচ্ছে ৩৭ দশমিক ২১ শতাংশ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৪০ দশমিক ১৯ শতাংশ ছাত্র এবং ৩৬ দশমিক ০১ শতাংশ ছাত্রী।

এ বিষয়ে গতকাল আমাদের সময়ের সঙ্গে আলাপকালে বিশিষ্ট লেখক, শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, লেখাপড়ার খরচের জোগান না দিতে পেরে, অর্থের অভাবে অনেক ছেলেমেয়ে ঝরে যায়। মাধ্যমিক পার হয়ে অনেকে কর্মের দিকে ছুটে। কেউ পাস করার পর আর কলেজে যায় না। আবার কেউ কেউ মাধ্যমিক পরীক্ষার আগেই ঝরে যায়।

তিনি বলেন, আমাদের সরকার তো প্রাথমিকে কত ছেলেমেয়ে ভর্তি হলো তা নিয়ে মাতামাতি করে। আবার কত সংখ্যক ছেলেমেয়ে পাস করল আর জিপিএ-৫ পেল, এসব নিয়ে হৈ চৈ করে। কিন্তু যারা এর মধ্যেই শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে গেল, তাদের ব্যাপারে কোনো ভাবনা আছে বলে জানি না। জিপিএ ৫-এর প্রতিযোগিতার জন্য প্রাইভেট কোচিংয়ে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়, অনেক পরিবারেরই সেই সামর্থ্য নেই।

মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের বেশি ঝরে পড়ার কারণ বিষয়ে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ছেলেরা উপার্জনের জন্য বিদেশ চলে যায়, মেয়েরা অনেকে মনে করে তার লেখাপড়াই সম্বল। এ ক্ষেত্রে তারা চেষ্টা চালিয়ে যায় পড়ালেখা চালিয়ে নিতে। তাদের জন্য বৃত্তি, উপবৃত্তি তো সরকার দিচ্ছে। এ ছাড়া এখন অনেক পরিবার বাল্যবিয়ের বিষয়ে সচেতন। যে কারণে মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের ঝরে পড়ার হার বেশি। তিনি আরও বলেন, মূলত, উচ্চমাধ্যমিকে যে ব্যয় হবে, সেটি নিয়ে অসচ্ছল পরিবারের একটা উদ্বেগ থাকে। তারা সাধারণত কলেজে পড়ার আগ্রহ থেকে আয়-রোজগারে প্রবেশ করার চিন্তা করে। আবার কোথাও কোথাও মেয়েদের পরিবার নিরাপত্তাহীনতার কারণে বিয়ে দেওয়াটাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।

সরকারের করণীয় সম্পর্কে এ শিক্ষাবিদ বলেন, ইচ্ছে করলেই সবার উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি নিশ্চিত করা যাবে, এমনটা নয়। ঝরে পড়াটা আরও কমিয়ে এনে তাদের জন্য বিকল্প কিছু সরকারকে ভাবতে হবে। কতজন পাবলিক পরীক্ষায় জিপিএ পেল, তা নিয়ে মাতামাতি না করে সুশিক্ষা নিশ্চিত করার দিকে মনোযোগী হতে হবে।

advertisement
Evall
advertisement