advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ভোগান্তির নাম ট্রেনের আগাম টিকিট

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৬ মে ২০১৯ ০৯:১৭
advertisement

একে তো সোনার হরিণ, তার মধ্যে ভোগান্তিরও আরেক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ঈদের টিকিট। বিক্রির চতুর্থ দিন গতকাল শনিবারও টিকিট প্রত্যাশীদের ছিল উপচেপড়া ভিড়। ৩ জুনের টিকিট কিনতে ঢাকার বিভিন্ন স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তারা। তাদের মুখে ছিল আগের অভিযোগইÑ অনলাইনে এবং মোবাইল অ্যাপে টিকিট কিনতে নানা ভোগান্তি।

গতকাল সকাল ৯টায় টিকিট বিক্রি শুরু হলেও কমলাপুর স্টেশনে অনেকেই অবস্থান নেন আগের দিন বিকাল থেকেই। বিকাল ৪টা পর্যন্ত বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত সময়ের পরও কাউন্টারের সামনে অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে অসংখ্য টিকিটপ্রত্যাশীকে। টিকিট দিতে ধীরগতির অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, গতকাল ৩৩টি আন্তঃনগর এবং চারটা বিশেষ ট্রেনসহ ৩৭টি ট্রেনের ২৮ হাজার ২২৪টি টিকিট বিক্রি হয়। কমলাপুর স্টেশন থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে যাতায়াতকারী ১৬টি ট্রেনের ১৪ হাজার ৯৫টি টিকিট বিক্রি হয়। এর মধ্যে কাউন্টার থেকে ৫ হাজার ৯৪৪টি এবং অনলাইন ও মোবাইল অ্যাপে বিক্রি হয় ৮ হাজার ১৫১টি টিকিট। বিমানবন্দর স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী সাতটি আন্তঃনগর ট্রেনের ৪ হাজার ৮৭৯টি টিকিট বিক্রি হয়। তেজগাঁও স্টেশনে বিক্রি হয় জামালপুরগামী পাঁচটি ট্রেনের ৩ হাজার ৪৪৪টি টিকিট। বনানী রেলওয়ে স্টেশনে মোহনগঞ্জ রুটের দুটি ট্রেনের এক হাজার ২৫৮টি টিকিট বিক্রি হয়। ফুলবাড়িয়া পুরাতন রেলভবনে বিক্রি হয় সিলেট ও কিশোরগঞ্জ রুটের সাতটি আন্তঃনগর ট্রেনের চার হাজার ৫৪৮টি টিকিট।

রাজশাহীতে যাওয়ার জন্য বনলতা এক্সপ্রেসের টিকিট কিনতে ভোর পৌনে ৪টার দিকে কমলাপুর স্টেশনে এলেও বিকাল পৌনে ৪টার দিকে কাউন্টারেই পৌঁছতে পারেননি ব্যাংক কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘অ্যাপস থেকে টিকিট কিনতে না পেরে আমার মতো সবাই লাইনে এসে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু সোনার হরিণের দেখা পাইনি।’

সেহরি খেয়ে লালমনি এক্সপ্রেসের টিকিট কিনতে আসেন শান্ত প্রধান। তিনি জানান, একটা টিকিট দিতে ১০ মিনিটের বেশি সময় নেওয়া হচ্ছে। ২৯৯ নম্বর সিরিয়াল ছিল তার। বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্তও টিকিট পাননি। গেটের কাছ থেকে স্টেশন ভবন পর্যন্ত আসতেই তার লেগেছে সাড়ে সাত ঘণ্টা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে কেউ কেউ লাইন ভেঙে টিকিট নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আমিনুল ইসলাম নামে একজন।

তিনি বলেন, ‘রেলের পুলিশ, পোশাক পরা পুলিশ লাইন ভেঙে টিকিট নিয়ে যাচ্ছে। তাই যারা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন তারা সময় মতো টিকিট পাচ্ছেন না।’ এ বিষয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ কেউ দেয়নি। সিরিয়ালের বাইরে থেকে এসে কারও টিকিট নেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’