advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঈদের ছুটিতে বিয়ের কেনাকাটা

রেজাউল রেজা
২৬ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৬ মে ২০১৯ ০৯:৩০
advertisement

ঈদ মানেই খুশি। ঈদের ছুটিতে নাড়ির টানে ঘরে ফিরে যাওয়া। উৎসবের আমেজে পরিবার ও আত্মিয়-স্বজনদের সঙ্গে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করে নেওয়া। অনেকে আবার এ ছুটিকে কাজে লাগিয়ে সেরে ফেলেন বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। তাই প্রতিবছর দুই ঈদের ছুটিকে ঘিরে সারাদেশেই থাকে বিয়ের অনুষ্ঠানের হিরিক। সেইসঙ্গে ঈদের বাজারে জমে ওঠে বিয়েসাদির কেনাকাটা।

এবার ঈদেও এর ব্যতীক্রম ঘটেনি। রাজধানীর অভিযাত শপিং মল, বিপণি বিতান, বেনারসি ও শেরওয়ানির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের কেনাকাটার ফাঁকে বেশ ভালই চলছে বিয়ের কেনাকাটা।

শহরজুড়ে যেখানে সবাই ব্যস্ত ঈদের পোশাক কিনতে, সেখানে অনেকে এক দোকান আরেক দোকানে ছুটছেন পছন্দের বেনারসি অথবা শেরওয়ানিটির খোজে। তবে বেচা-বিক্রি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাজধানীর বিয়ের পোশাকের ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর নিউ এলিফেন্ট রোডের বাটা সিগনালে বিয়ের পোশাকের ব্যবসায়ীরা জানালেন, এবছর ক্রেতা বেশি; বিক্রিও ভালো।

গতবছরের তুলনায় এবছর প্রতিদিন ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা বিক্রি বেড়েছে। দুলহান দোকানের ব্যবসায়ী মো. ইউসুফ আলী জানান, এবার ঈদ মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। গত বছর যেখানে এসময় বিক্রি হয়েছিল প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৬ হাজার টাকা। এবার ক্রেতা বেশি। বাটা সিগনালের বিয়ের বাজার ঘুরে দেখা গেছে বরের পোশাক থেকে বিয়ের সব ধরনের অনুষঙ্গ পাওয়া যাচ্ছে এখানে। বরের শেরওয়ানি, পায়জামা, মাথার পাগড়ি, জুতা, নাগরা, রুমালসহ বিয়ের অন্যান্য অনুষঙ্গ- সাধ্যের মধ্যে বিভিন্ন দামে সবই পাওয়া যাচ্ছে এখানে।

বর কনে দোকানের ম্যানেজার মোহাম্মদ বাদল জানান, এখানকার শেরওয়ানিগুলো অনেক আধুনিক ও রাজকীয়। তাই বরের পোশাক কিনতে রাজধানীর দুর দুরান্ত থেকে বহু মানুষ ছুটে আসেন এখানে। জয়পুরী, মাহামারী, ধুপিয়ান, এনটিক, কাতানসহ আধুনিক পার্টি ও ফেন্সি শেরওয়ানিও পাওয়া যাচ্ছে এসব দোকানে। জয়পুরী, ধুপিয়ান ও পার্টি শেরওয়ানির বিক্রি সবচেয়ে বেশি। মালিবাগ থেকে শেরওয়ানি কিনতে এসে বন্ধুদের নিয়ে দোকান ঘুরছিলেন আহসানুল হক মানিক। তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে বিয়ের অনুষ্ঠান। তাই ঈদের বাজারেই বিয়ের কেনাকাটা সেরে নিচ্ছি। দুদিন ধরে রাজধানীর বেশ কয়েকটি জায়গা ঘুরছি পছন্দের শেরওয়ানি কিনতে। পছন্দ ও দামের সাথে মিলাতে হিমসিম খাচ্ছি। তবে এখানকার কালেকশনগুলো ভালো। জয়পুরী একটা শেরওয়ানি পছন্দ হয়েছে।

আরেক ক্রেতা হাবিবুর রহমান বলেন, ঈদে সব আত্মিয় স্বজন এক হয় গ্রামে। এ সুযোগে সবাইকে নিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে গ্রামে। হাতে সময় নেই শেরওয়ানির পাশাপাশি আরও অনেক কেনাকাটা বাকি। বাজার ঘুরে জানা গেলো, জয়পুরী শেরওয়ানি পাওয়া যাচ্ছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে। এছাড়া কাতান ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা, মহামারী ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা, ধুপিয়ান ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা, এনটিক ডিজাইনের শেরওয়ানি পাওয়া যাচ্ছে ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা।

ধুপিয়ান পায়জামাসহ বিভিন্ন ডিজাইনের পায়জামা পাওয়া যাচ্ছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে।৭০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে রাজস্থানী, কানঢাকা ও প্লেইন পাগড়ি। বরের জুতা ও নাগরা পাওয়া যাচ্ছে ৩৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে। এক্ষেত্রে বাড়তি জমকালো ডিজাইন ও স্টোনের কাজ করা নাগরা মিলবে ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে। বাধন শেরওয়ানির ম্যানেজার জানান, এ মৌসুমে শেরওয়ানির মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ ‘বিরাট কোহলি’ শেরওয়ানি।

ভারতীয় ক্রিকেটার ভিরাটের শেরওয়ানির ডিজাইনের আদলে জমকালো এ শেরওয়ানি পাওয়া যাবে ২০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে। অন্যদিকে রাজধানীর নামিদামি বেনারশি, লেহেঙ্গাসহ কনের পোশাকের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সেখানেও আসতে শুরু করেছেন ক্রেতারা। পছন্দের বিয়ের শাড়ি কিংবা লেহেঙ্গা কিনতে দোকান থেকে দোকানে ঘুরছেন স্বপরিবারে।

নিউ মার্কেটের ফারাবী শাড়ির দোকানে পরিবারের সঙ্গে লেহেঙ্গা কিনতে এসেছেন হালিমা আক্তার তুরনী। তুরনী বলেন, ঈদের দুদিন পরেই বিয়ের অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারন করা হয়েছে। সময় নেই হাতে। তাই একরকম ব্যস্ত হয়েই দোকান ঘুরছি লেহেঙ্গা কিনতে। তবে দাম অনেক বেশি চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তুরনী। তিনি বলেন, ভারতীয় একটা লেহেঙ্গা পছন্দ হয়েছে। দাম চাওয়া হচ্ছে ৪০ হাজার। শেষমেষ ৩০ হাজারেও রাজি হচ্ছেন না বিক্রেতারা। তাই একটু হতাশই হতে হচ্ছে। বিক্রেতা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ভারত থেকে আনা হয় এগলো তাই দামও বেশি। এছাড়া ক্রেতাও কম। তাই ব্যবসা পুসিয়ে নিতে দামে বেশি ছাড় দিতে পারছি না আমরা।

নিউমার্কেটের মায়াবী শাড়ির কর্ণধার আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর ক্রেতা কমেই যাচ্ছে। কনের কেনাকাটায় সবাই এখন ভারতমুখি হচ্ছে। এটা এখন যেন ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর এসময় বাংলাদেশ থেকে অনেক ক্রেতারা কলকাতায় গিয়ে ভিড় করেন বিয়ের কেনাকাটা করতে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ব্যবসা বন্ধ হতে বেশিদিন লাগবে না। সরকারের উচিত এবিষয়ে নজর দেওয়া। নিউমার্কেট, গাউছিয়া, মিরপুর বেনারশি পল্লীসহ রাজধানীর কনের পোশাকের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভারতীয় বেনারসি পাওয়া যাচ্ছে ৮ হাজার থেকে দেদড় লাখ টাকার মধ্যে।

দেশি বেনারশি ৫ হাজার টাকা থেকৈ ৫০ হাজার টাকা, কাতান ২ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা, কাঞ্চিপুরাম কাতান পাওয়া যাচ্ছে ৩ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে। কণের পোশাকে লেহেঙ্গার চাহিদাটা এখন সবচেয়ে বেশি। বুটিকস-এর লেহেঙ্গা পাওয়া যাচ্ছে ৮ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকার মধ্যে এবং স্টোনের ভাড়ি কাজ করা লেহেঙ্গা পাওয়া যাচ্ছে ৭ থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে। এছাড়া দোপাট্টা পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে।