advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দারিদ্র্য ও ভিক্ষুকমুক্ত হবে সব গ্রাম

ইউসুফ আরেফিন
২৬ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৬ মে ২০১৯ ০১:০০
advertisement

‘সবাই মিলে গড়ব দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’- প্রতিপাদ্যে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে সমন্বিত সঞ্চয় ও ক্ষুদ্রঋণ বাস্তবায়ন নীতিমালা করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সামাজিক নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে তৈরি এ নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে কোনো ব্যক্তি সরকারের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে নিয়োজিত দপ্তরগুলো থেকে একাধিকবার ঋণ নিতে পারবেন না।

সেই সঙ্গে যারা ক্ষুদ্রঋণের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন, তারা সবাই ঋণ পাবেন। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ অঙ্গীকার পূরণের অংশ হিসেবেই এ নীতিমালা বাস্তবায়ন করবে সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব গ্রামকে পুরোপুরি দারিদ্র্য ও ভিক্ষুকমুক্ত করতে এটি বেশ সহায়ক হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে সমাজসেবা, সমবায়, মহিলা, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর; বিআরডিবি, বিসিক এবং আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প সরকারের পক্ষে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে নিয়োজিত।

তবে এসব দপ্তরে সঞ্চয়, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে ঋণ বিতরণ, কিস্তি আদায়, সার্ভিস চার্জ, ঋণের পরিমাণ ও অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে রয়েছে ভিন্নতা। এগুলো দূর করে দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করতে সঞ্চয় ও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে দ্বৈততা পরিহার ও চাহিদানুযায়ী উপকারভোগীর ঋণ পাওয়া নিশ্চিত করার জন্য ২০১৪ সালে সোশ্যাল মিডিয়া সংলাপ করে সমাজসেবা অধিদপ্তর।

এর পরের বছর প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সেখানে একটি সমন্বিত নীতিমালা তৈরির বিষয়টি উঠে আসে। কর্মকর্তারা জানান, এ নীতিমালা প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় বা বিভাগের চলমান সঞ্চয় ও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের সমন্বয় ও দ্বৈততা পরিহার; অর্থাৎ এক ব্যক্তি যেন একই সময়ে দুবার ঋণ না পায় তা নিশ্চত করা।

সেই সঙ্গে সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ বিতরণের মাধ্যমে অতিদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে তাদের পছন্দ অনুযায়ী পেশা বা উৎপাদনমূলক ও আয়বর্ধক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর নিজস্ব তহবিল গঠনপূর্বক তাদের স্বাবলম্বী করা। নীতিমালার অধীন একটি লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর জন্য অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা, প্রাথমিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি, মা ও শিশুর যতœ, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা, বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানি পান এবং ব্যবহার, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ দূষণ রোধ, সাক্ষরতা, খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদন ইত্যাদি কার্যক্রমে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়ন করবে সরকার।

পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করা, বাল্যবিয়ে ও বহুবিয়ে নিরুৎসাহিত করা, যৌতুক পথা রোধ করা এবং নারীদের সব উন্নয়ন কর্মকা-ে অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নে উদ্বুদ্ধ করা। ঋণগ্রহীতাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণেরও সুযোগ সৃষ্টি করা হবে এর মাধ্যমে। আর তাতে করেই ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতিটি গ্রামে সমন্বিত সঞ্চয় ও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিটি গ্রামকে সম্পূর্ণ দারিদ্র্য ও ভিক্ষুকমুক্ত করা হবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, গ্রাম থেকে শহর এবং সমগ্র বাংলাদেশেই বিস্তৃত হবে এ কার্যক্রম। প্রথম পর্যায়ে প্রতিটি বিভাগের দারিদ্র্যপীড়িত একটি উপজেলার প্রত্যেক পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার জরিপ করা হবে। এর মাধ্যমে পরিবারের অর্থনৈতিক সক্ষমতা চিহ্নিতকরণ, কর্মদল ও গ্রাম কমিটি গঠন, চাহিদা নিরূপণ, প্রাপ্ত সম্পদের ভিত্তিতে আর্থসামজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে সরকার।

তবে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি আইন-২০০৬ এবং মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি বিধিমালা ২০১০-এর বিধানাবলি এ নীতিমালার আওতাবহির্ভূত থাকবে। সমন্বিত সঞ্চয় ও ক্ষুদ্রঋণ বাস্তবায়ন নীতিমালা ২০১৯-এর আওতায় উপকারভোগীকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণির বার্ষিক আয় সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা, ‘খ’ শ্রেণির আয় ১ লাখ ১ থেকে ২ লাখ টাকা এবং ২ লাখ ১ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয়ের লোকজন ‘গ’ শ্রেণিভুক্ত।

মূলধনের অপর্যাপ্ততার কারণে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘ক’ শ্রেণিকে অগ্রাধিকার দিয়ে শুধু ‘ক’ ও ‘খ’ শ্রেণির মধ্যে ঋণ বিতরণ সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধ রাখা হবে। তবে বরাদ্দ পাওয়াসাপেক্ষে ‘গ’ শ্রেণিকেও এর আওতায় আনা হবে। আর সমন্বিত সঞ্চয় ও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের যথাযথ বাস্তবায়ন, বাজেট পর্যালোচনা, কর্মপরিকল্পনা পরীক্ষা ও সমন্বয়, ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী দপ্তরগুলোর উপকারভোগী নির্বাচনের নীতি, পদ্ধতি, তালিকা পর্যালোচনা ও সমন্বয় এবং মাঠপর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সমন্বিত কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করতে জাতীয়, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন বা পৌরসভা ও কর্মদল পর্যায়ে কমিটি থাকবে।