advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মোদির জয় ও বাংলাদেশের অভয়

ড. মিল্টন বিশ্বাস
২৬ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ মে ২০১৯ ২৩:৫৬
advertisement

২৩ মে (২০১৯) নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি অনায়াসে টানা দ্বিতীয় দফার জন্য বিপুল বিক্রমে ক্ষমতায় ফিরেছে। ভারতীয় ইতিহাসে নেহরু ও ইন্দিরা গান্ধীর কংগ্রেসের পর বিজেপির ভূমিধস সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অন্যদিকে এক টুইট বার্তায় নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘আমরা একসঙ্গে বড় হই, একসঙ্গে সমৃদ্ধ হই। একসঙ্গে আমরা শক্তিশালী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ভারত গড়ে তুলব।’ ১৯৪৭ সালের পর থেকে উদার ও ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শের কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় থাকলেও আশির দশক থেকে বিজেপির উত্থান ঘটতে থাকে। এবার তারা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসীন হলো। গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে হিন্দুত্ববাদী আদর্শে বিশ্বাসী বিজেপির মতো দলের উত্থান ঘটেছে ধীরে ধীরে। বিজেপির হিন্দুত্ববাদী আদর্শ ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলবে কিনা, তা নিয়ে এখনই জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। অবশ্য বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের ফল ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোনো বিশেষ দলনির্ভর নয়। যদিও আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের কংগ্রেসের একটি ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রয়েছে। এ কারণে ২০১৪ সালে যখন বিজেপি ক্ষমতায় এসেছিল, তখন অনেকেই বলেছিলেন, এর ফলে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ২০১৯ সালের এই নির্বাচনের পরও দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

বাংলাদেশে যেমন ২০১৮ সালের নির্বাচনে আমরা দেখেছি এ দেশের মানুষ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা চায় না বলেই আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে, তেমনি ভারতের লোকসভা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেখানকার জনগণ একটা স্থিতিশীল সরকার চায় তা প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি একটি শক্তিশালী ভারতের ধারণা দিতে পেরেছে সেখানকার জনগণকে। পক্ষান্তরে কংগ্রেসসহ অন্য দলগুলো মানুষকে স্বপ্ন দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচনোত্তর সহিংসতা কিংবা ফলাফল মেনে নিতে না পারার অসহিষ্ণু আচরণ প্রমাণ করেছে বিরোধী দলগুলোর সাংগঠনিক দক্ষতার সমন্বয় ছিল না। উল্লেখ্য, ১১ এপ্রিল থেকে ১৯ মে মোট সাতটি ধাপে ভোটগ্রহণ হয়েছে। ৫৪৩ আসনের লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য কমপক্ষে ২৭২টি আসন প্রয়োজন হয়। ২৭২ আসন বিজেপি এককভাবেই এবং জোটগতভাবে সাড়ে ৩০০ আসন পেয়েছে। সারাদেশে মোট ভোটার ছিল প্রায় ৯০ কোটি। ১ হাজার ৮৪১টি রাজনৈতিক দলের আট হাজারেরও বেশি প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৭২০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী চারজন।

নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদির সরকারের পুনঃআবির্ভাব বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। বলা হচ্ছে, একটি স্থিতিশীল ও শক্তিশালী সরকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রেও স্থিতিশীলতা দেবে। কিন্তু একই সঙ্গে দুশ্চিন্তার কারণ হিন্দুত্ববাদী আদর্শ শক্তির উত্থান উপমহাদেশজুড়ে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। পাকিস্তানে যেমন সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঘটেছে, তেমনি ভারতেও সে ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আমাদের সমূহ ক্ষতির কারণ হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’, পুতিনের ‘মেক রাশিয়া গ্রেট এগেইন’, শি জিনপিংয়ের ‘চীনের মানুষের নতুন করে জেগে ওঠার মতো সেøাগান দিয়েছেন মোদিও। তিনি বলেছেন, রাম ছিলেন একজন আদর্শ রাজা এবং তার শাসন ছিল আদর্শ ব্যবস্থা’, ‘রাম রাজ্য ছিল আমাদের প্রতিষ্ঠাতা জনক এবং বিজেপি সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।’ অর্থাৎ নির্বাচনের সময় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রাম এবং তার রাজত্বের হারিয়ে যাওয়া গৌরবের সেøাগান ব্যবহার করেছেন তিনি। যদিও বিজেপি নেতারা বরাবরই বলে এসেছেন, তারা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নন। তাদের দল ১৩০ কোটি ভারতীয়র জন্যই; ধর্ম নিয়ে কোনো বিভেদ করেন না। অবশ্য তাদের নির্বাচনী পোস্টারে রামের ছবি ছিল। সমালোচকদের মতে, গত পাঁচ বছরে বিজেপির শাসনামলে ভারতে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক সবচেয়ে অবনতি এবং দেশটিতে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ নরেন্দ্র মোদি ও তার দল পাকিস্তানকে টার্গেট করে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিল। নির্বাচনের আগে ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের বালাকোটে বিমান হামলা চালিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিল মোদি সরকার। প্রশ্ন হলো, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জনপ্রিয়তা ও ভোট পাওয়ার জন্য প্রতিবেশী দেশের ওপর চড়াও হওয়ার এই প্রবণতা সামনের দিনগুলোয় অব্যাহত থাকলে গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে। পরমাণু অস্ত্রের অনাকাক্সিক্ষত প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে। তখন বাংলাদেশও এর বাইরে থাকতে পারবে না। ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যুও সামনে আনা হয়েছিল ভোট পাওয়ার জন্য। তবে বাংলাদেশ নিরাপত্তার প্রশ্নে ভারতকে যেভাবে সহযোগিতা করেছে, তাতে এই ইস্যুতে পুনরায় বাংলাদেশকে টার্গেট করে করা হলে তা হবে সম্পর্ক বিনষ্টির অন্যতম কারণ।

অবশ্য নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সম্পর্ক অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো। ২০১৭ সালের ৭ থেকে ১০ এপ্রিল ভারত সফর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে তিনি ভারত সফর করেন ২০১০ সালে। ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। সেই সফরের সময় তিনি শেখ হাসিনাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ওই সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি, আইটিইএস, সাইবার সিকিউরিটি, স্পেস এবং বেসামরিক পরমাণু জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তি হয়। এ ছাড়া মেরিটাইম সিকিউরিটি ও যৌথ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে রোডম্যাপ হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে শেখ হাসিনার ভারত সফরে তিস্তা চুক্তি নিয়ে ইতিবাচক ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরোপুরি সমর্থন না থাকার কারণেই তিস্তা চুক্তি ইস্যুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে। ২০১১ সালে তার বিরোধিতায় তিস্তা চুক্তি হয়নি। বর্তমানে নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির দলের বিশাল জয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগের মতো বিষয়টি নিয়ে আর রাজনীতি করবেন না। মোদির বিজয়ে এ দেশের আওয়ামী লীগের নেতারা বলা শুরু করেছেন যে, তিস্তা নিয়ে একটি চুক্তি হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতবিরোধী সন্ত্রাসীদের কঠোর হস্তে দমন করে সুনাম কুড়িয়েছেন। ২০১৫ সালে নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের আগে সীমান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ এবং ৬ মে রাজ্যসভায় তা পাস হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। একাত্তরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক যে উচ্চতায় উঠেছিল, ওই বিল পাস হওয়ায় সেই সম্পর্ক আবার সেই উচ্চতায় পৌঁছায়। রচিত হয় সহযোগিতা ও বন্ধুতার এক নতুন সংজ্ঞা। সে সময় ছিটমহলের বাসিন্দারা উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। এতদিন পর্যন্ত ছিটমহলবাসীর কোনো রাষ্ট্র ছিল না; এখন স্থলসীমান্ত নির্দিষ্ট হলে নিজেদের পরিচয় বিকশিত হয়েছে। আর বিলটি পাস হওয়ায় ১৯৭৪ সালের বঙ্গবন্ধু-ইন্দিরা গান্ধী চুক্তি বাস্তবায়নের সব বাধা দূর হয়। উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দায়িত্ব গ্রহণ করেই প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি একাধিকবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ ব্যাপারে আশ্বাসও দেন। একই আশ্বাস দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন ভারতের বিশিষ্টজনরা এক কথায় স্বীকার করেছিলেন, বাংলাদেশ ভারতের সবচেয়ে বড় বন্ধু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের সবচেয়ে বড় মঙ্গলাকাক্সক্ষী।

ভারতের আন্তরিকতার জন্য দেশহীন, নাগরিকত্বহীন ‘ছিটের মানুষ’গুলো সেদিন থেকে স্বপ্ন দেখেছে। নিজেদের দেশ-মাটি ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন। আবদ্ধ জীবনযাপনের কষ্ট, যাতায়াত, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার কষ্ট, নিরাপত্তা ও বিচ্ছিন্নতার কষ্ট সব মিলিয়ে হাহাকারের এক জীবন ছিল তাদের। এসব সমস্যা উত্তীর্ণ হয়েছি আমরা। মোদির আমলে আসামে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান হয়েছে; লাঠিটিলা-দুমাবাড়িতে অচিহ্নিত সীমানা চিহ্নিতকরণেও তা সহায়তা করছে। পরিষ্কারভাবে সীমানা চিহ্নিত হওয়ায় সীমানায় কাঁটাতার দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও উগ্র সন্ত্রাসবাদীদের চলাচলও ঠেকানো যাচ্ছে। মূলত ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওই নতুন অধ্যায় মানবিক কারণে খুব প্রশংসিত হচ্ছে। ২০১৫ সালে ‘খালি হাতে’ ঢাকা সফরে আসা মোদির ‘ঠিক হবে না’ বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন সে দেশের কূটনীতিকরা। এ জন্যই অমীমাংসিত ইস্যুকে মীমাংসা করতে তৎপর হয় মোদি সরকার।

মোদির দ্বিতীয় দফার মেয়াদ শেষ হবে ২০২৪ সালে। তখন ভারত চীনকে টপকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশে পরিণত হবে আর এ দেশটি ২০১৯ সালেই হবে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। অন্যদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নেতৃত্ব এখন মোদির হাতে। এ জন্য হিন্দু জাতীয়তাবাদী আদর্শের পাশাপাশি তাকে ধর্মনিরপেক্ষ আচরণও প্রদর্শন করতে হবেÑ এটাই স্বাভাবিক। সংবাদপত্রে প্রচারিত সূত্র থেকে জানা যায়, বেকারত্ব থাকলেও যুক্তরাজ্যকে টপকে বিশ্বের পঞ্চম অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠবে ভারত, যাদের রয়েছে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য জরুরি এক বিশাল তরুণ কর্মশক্তি। কেবল গত বছরেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় কোম্পানিগুলোয় ৪৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। দেশটিতে অনেক নতুন নতুন সড়ক তৈরি হয়েছে, প্রান্তিক পর্যায়ে উন্নয়ন, গরিবদের জন্য সস্তায় রান্নার গ্যাস, গ্রামে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা তৈরি, একটি একক বিক্রয় কর, প্রতিশ্রুতিশীল একটি স্বাস্থ্যবীমা নীতি তৈরির মতো কাজও করেছে মোদি সরকার। বাড়তে থাকা অর্থনীতির সঙ্গে তাল মেলাতে হলে দেশটিকে প্রতি মাসে কয়েক লাখ নতুন চাকরি তৈরি করতে হবে, যাতে সেখানকার তরুণ জনগোষ্ঠীকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়। গত মেয়াদে নরেন্দ্র মোদির সরকার এটি করতে পারেনি, কিন্তু এবার তাদের তা করতেই হবে।

ভারতের সব সমস্যার সমাধান করবেন নরেন্দ্র মোদিÑ আমরা আশাবাদী। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্তের নিরীহ মানুষ হত্যা বন্ধ এবং পানির ন্যায্য হিস্যাপ্রাপ্তি ঘটবে বাংলাদেশ-ভারতের সুসম্পর্কের প্রধান প্রত্যাশা আমাদের। মোদি সরকার অনেক বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েই বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস। ২০১৫ সালে মোদি সরকার বাংলাদেশ সফরের সময় খালি হাতে ফিরে যাননি। বিশেষত তিস্তা চুক্তি এবং বাণিজ্যিক অসাম্য দূর করার প্রচেষ্টা ছিল তার সরকারি সফরের মুখ্য উদ্দেশ্য। যদিও সেই উদ্দেশ্য তখন সফল হয়নি। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে সব অমীমাংসিত বিষয়ের সমাধান হবে বলে আমরা মনে করি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ভারতের পরম বন্ধু, এটি প্রতিষ্ঠা করতে পরস্পরের আস্থা-বিশ্বাস আরও দৃঢ় করতে হবে। এ জন্য মানবিক হতে হবে মোদি সরকারকে। বাংলাদেশের মানুষকে ভালোবাসার দৃষ্টান্ত স্থাপনই হোক উভয় দেশের সম্পর্কের মৌল স্তম্ভ।

য় ড. মিল্টন বিশ্বাস : অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ এবং পরিচালক, জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

advertisement