advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ভালোর মধ্যকার চ্যালেঞ্জগুলোয় মনোযোগ দিতে হবে

২৬ মে ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ২৬ মে ২০১৯ ০৯:৩৭
advertisement

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় রয়েছে। বলা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী যখন দুদেশের সরকারপ্রধান তখনকার মতোই ঘনিষ্ঠ উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে এখন।

নরেন্দ্র মোদির এটি টানা দ্বিতীয় মেয়াদ হতে যাচ্ছে। তার আত্মবিশ্বাস এবং প্রকৃত শক্তি এই মেয়াদকালে বাড়বে। তার সামনে ভারতবর্ষের দুই দীর্ঘমেয়াদি শাসক পিতাপুত্রী নেহরু ও ইন্দিরার মতোই নিজ শাসনকালকে ইতিহাসে গুরুত্বে ও মর্যাদায় উচ্চ স্তরে তুলে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

জরুরি অবস্থা জারি, বিরোধী মতামত দমন, ক্ষমতা একক হাতে কেন্দ্রীভূত করা, পুত্র সঞ্জয়ের বাড়াবাড়িকে প্রশ্রয় দান ইত্যাদি ইস্যুতে বিতর্ক থাকলেও ১৯৭১ সালে পাকিস্তানকে যুদ্ধে সম্পূর্ণ পরাস্ত করা এবং সে দেশেরই একাংশের স্বাধীনতায় বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনের জন্য ইন্দিরা গান্ধীর স্থান আধুনিক ভারতের ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। জওহরলাল নেহরুর ঔজ্জ্বল্য তো প্রশ্নাতীত।

নরেন্দ্র মোদি নিজ রাজ্য গুজরাটে দাঙ্গার অভিযোগ এবং কট্টর হিন্দুত্ববাদের প্রতি সমর্থনের সমালোচনা মাথায় নিয়েই ক্ষমতায় এসেছিলেন ২০১৪ সালে। তার আগে অর্থনীতিবিদ মনমোহন সিংয়ের কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইউপিএ জোটের দুই মেয়াদের সরকারের আমলে অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ হলেও রাজনীতির মাঠে কংগ্রেসের কণ্ঠস্বর ও ভূমিকা কখনো স্পষ্ট হয়নি। যে দেশে বিপুল সাধারণজনের জীবন নিত্য নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত থাকে, সেখানে রাজনীতিতে বাগ্মিতা ও বাগাড়ম্বরের অবকাশ থাকে প্রচুর।

কেননা দরিদ্র, বঞ্চিত, সমস্যাজর্জরিত ক্ষুব্ধ মানুষ আশা ও স্বপ্নের কথা শুনতে ভালোবাসে। সেদিক থেকে বলা যায়, রাজনীতির ময়দানে বাকপটু, জনতার মন বোঝায় দক্ষ, ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত, সাহসী উচ্চাভিলাষী নরেন্দ্র মোদির জন্য রঙ্গমঞ্চ তৈরিই ছিল। তিনি সহজেই রাজনীতির মরুকে কথায়, প্রতিশ্রুতিতে আর সাহসী পদক্ষেপে মরূদ্যানে রূপান্তরিত করেছেন। বাংলাদেশের দিক থেকে এখন প্রশ্ন হবে নতুন আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান মোদি কি আধুনিক ভারতের রূপকারের ভূমিকায় নামবেন নাকি তার আদি-আদর্শিক বিশ্বাসে হিন্দু-ভারতের নির্মাতার দায় গ্রহণ করবেন।

একদিকে তিস্তাচুক্তি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা বাড়বে, অন্যদিকে নাগরিক পঞ্জি প্রণয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশি চিহ্নিত করার দিকে ঝোঁকার আশঙ্কা থাকবে। বাংলাদেশকে মোদির ভারত কতটা গুরুত্ব দেয় তার কিছু নমুনা মানবিক বিপর্যয়ের বিভিন্ন সময়ে আমরা পেয়েছি, কিন্তু রোহিঙ্গা সমস্যার সূত্রে এ-ও বুঝেছি তার এমন কিছু নিতান্ত দেশীয় বিবেচনা আছে যার কাছে বাংলাদেশের কঠিন সংকট ও জরুরি প্রয়োজনও উপেক্ষিত হতে পারে। তাই আমাদের এনডিএ সরকারের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক রাখার পাশাপাশি ভারতের অন্য নাগরিক প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে ও সক্রিয় করতে হবে। আর একই সঙ্গে নিজেদের যেসব কঠিন সংকটে ভারতের সহায়ক ভূমিকা প্রয়োজন তার জন্যও দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক তৎপরতা চালিয়ে যেতে হবে।

advertisement