advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সময় ও অর্থ অপচয়ের দায় কার

২৬ মে ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ২৫ মে ২০১৯ ২৩:৫৬
advertisement

সরকার জনগণের জীবনমান এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতির উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প হাতে নেয়। কিন্তু সরকারি প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। প্রকল্পের নামে দেশের আর্থিক খাতে চলছে বিশৃঙ্খলা। আর এ বিশৃঙ্খলার কারণে ঘটছে অপচয়।

গতকাল শনিবার আমাদের সময়ের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছেÑ সরকারের নির্মাণাধীন বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয় এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রই নির্দিষ্ট সময়ে উৎপাদনে আসতে পারছে না। দফায়-দফায় সময় বাড়িয়েও উৎপাদনের জন্য তৈরি হচ্ছে না এগুলো। কোনো কোনো প্রকল্প গত সাত বছরেও আলোর মুখ দেখেনি, যা হতাশাজনক। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সরকারি উদ্যোগে বৃহৎ আইপিপি বা বৃহৎ ১২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের বেশ কয়েকটির নির্মাণকাজ কয়েক বছর আগে শুরু করলেও এর একটিও এখনো উৎপাদনে আসতে পারেনি। দুই-তিন বছর আগে অনেকগুলোর নির্মাণ চুক্তি হলেও কাজই শুরু করা যায়নি কোনো কোনোটির। সরকারের ১২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ ৩৩৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র একটি। এটি স্থাপনে চুক্তি স্বাক্ষর হয় ২০১২ সালের ২৮ মে। গত সাত বছরেও প্রকল্পটি উৎপাদনে আসতে পারেনি। ফলে এ অবস্থায় তেলভিত্তিক ছোট ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর ভরসা রাখতে হচ্ছে সরকারকে।

শুধু বিদ্যুৎ খাতেই নয়, বাংলাদেশে অবকাঠামোগত প্রায় সব প্রকল্পের বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, ব্যয় বৃদ্ধি ও স্থবিরতা যেন অনেকটা নিয়মে পরিণত হয়েছে। বস্তুত এভাবে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে দেশে দুর্নীতি ও লুটপাট বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন কিছু প্রকল্প রয়েছে যাতে শতভাগ অর্থ ব্যয় করা হলেও কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। এভাবে উন্নয়নের নামে রাষ্ট্রের সম্পদ বা জনগণের অর্থ অপচয়ের মানে কী হতে পারে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। ফলে সরকারের বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনাসহ প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায়ই হোঁচট খেতে হচ্ছে। ঢিমেতালে কাজ চলার কারণে যেমন ব্যয় বাড়ছে, তেমনি প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ও দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এ অবস্থ’ার অবসান হওয়া জরুরি। প্রকল্প বাস্তবায়নে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও সক্ষমতা অর্জনের ওপর জোর দিতে হবে। তবেই সুফল পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যববস্থা নেওয়া হবে- জনগণ তাই প্রত্যাশা করে।

advertisement