advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

গরিবদের স্বাবলম্বী করতে অর্থায়নে জোর দেওয়া হচ্ছে

২৬ মে ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ২৬ মে ২০১৯ ০৯:৩৯
advertisement

১৯৯৯ সালের ২ জুন বাংলার ব্যাংক স্লোগানে যাত্রা শুরু করে মার্কেন্টাইল ব্যাংক। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মরহুম আবদুল জলিলের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকটি কার্যক্রমের ২০ বছর পার করে ২১ বছরে পদার্পণ করেছে। ব্যাংকিং সেবা ছড়িয়ে দিতে সারাদেশে বিস্তার করেছে এর নেটওয়ার্ক। সেবাবঞ্চিত গরিব মানুষের ব্যাংকের সেবার মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে কাজ করছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক।

ব্যাংকটির নতুন বছর শুরু হচ্ছে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী মো. কামরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বে। আমাদের সময়কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্যাংকের অর্জন ও আগামী দিনের লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেছেন এমডি কামরুল ইসলাম চৌধুরী। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আমাদের সময়ের নিজস্ব প্রতিবেদক হারুন-অর-রশিদ

আমাদের সময় : ব্যাংকের শুরু ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বলুন।

কামরুল ইসলাম চৌধুরী : মরহুম আবদুল জলিল মার্কেন্টাইল ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন গরিব মানুষের সেবা দেওয়ার জন্য। ব্যাংকটি ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছে। এ সময়ে আমরা সারাদেশে ১৩৯টি শাখা স্থাপন করেছি। এটিম বুথ স্থাপন করেছি ১৬৯টি। বিশ্বের ৬৩৫টি ব্যাংকের সঙ্গে এবং ৩৩টি দেশের এক্সচেঞ্জ হাউসের সঙ্গে আমাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। এসবের মূল উদ্দেশ্য দৌরগোড়ায় গিয়ে গ্রাহকের সেবা দেওয়া। এ ছাড়া দুটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে-মার্কেন্টাইল ব্যাংক সিকিউরিটিজ ও মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জ হাউস (ইউকে) লিমিটেড।

আমাদের সময় : নতুন বছরে ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা কী?

কামরুল ইসলাম চৌধুরী : মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীন হওয়ার মূল লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাবলম্বী করার মাধ্যমে মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি দেওয়া। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আমার এবং আমাদের ব্যাংকের লক্ষ্য অর্থায়নের মাধ্যমে গরিব মানুষকে স্বাবলম্বী করা। তাদের আয় বৃদ্ধি পায় এমন কার্যক্রম গ্রহণ করা। আমরা তেলামাথায় তেল দিতে চাই না। যাদের প্রয়োজন তাদের পাশে গিয়ে ঋণ দেব। এ জন্য আমাদের মূল লক্ষ্য কৃষি ঋণ বিতরণ বৃদ্ধি করা, এসএমই ঋণ প্রদান ও নারী উদ্যোক্তাদের প্রকল্পে অর্থায়ন। এসএমই খাতকে ফোকাস করে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে আমরা ‘স্টার্টাপ প্রকল্প’ চালু করেছি। নারীদের ব্যাংকমুখী করতে অপরাজিতা নামে নতুন সঞ্চয়ী প্রকল্প চালু করেছি। নারীদের বেশি সুদ দিয়ে তাদের ব্যাংকমুখী করতে চাই।

উল্লেখ্য, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা এমএ হালিমের গর্বিত সন্তান কামরুল ইসলাম চৌধুরী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং বিভাগ থেকে স্নাত্মক ও স্নাত্মকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে ১৯৮৩ সালে ন্যাশনাল ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু করেন। ২০০১ সালে মার্কেন্টাইল ব্যাংকে যোগদান করেন। এই ব্যাংকে এমডি পদে নিয়োগ পান চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি। আমাদের সময় : ব্যাংকিং খাতে এক ধরনের অস্থিরতা চলছে। এ সময়ে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের অবস্থান সম্পর্কে বলুন।

কামরুল ইসলাম চৌধুরী : ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট চলছে। অনেক ব্যাংক ঋণ আমানত অনুপাত (এডিআর) বেড়ে গেছে। এদিক থেকে মার্কেন্টাইল ব্যাংক ভালো অবস্থানে রয়েছে। আমরা সেবার মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছি। আমাদের রয়েছে স্বল্প আয়ের মানুষদের আকৃষ্ট করার মতো প্রকল্প। ফলে আমাদের তারল্য সংকট সৃষ্টি হয়নি। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা। ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ ২২ হাজার ৬১১ কোটি টাকা। ব্যাংকের মাধ্যমে মার্চ পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ৪ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা এবং রপ্তানি হয়েছে ৪ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। রেমিট্যান্স সংগ্রহে আমরা জোর দিয়েছে। এ জন্য রেমিট্যান্সপ্রবাহ প্রায় ৬৮ শতাংশ বেড়েছে। মার্চ পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৪৫ কোটি টাকা। ব্যাংকিং কার্যক্রম গতিশীল থাকায় মার্চ প্রান্তিকে মুনাফা হয়েছে ১৫৯ কোটি টাকা।

আমাদের সময় : অল্টারনেটিভ ব্যাংকিং চ্যানেল শক্তিশালী কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন কিনা?

কামরুল ইসলাম চৌধুরী : প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবাগুলোর প্রসার ঘটানো হচ্ছে। ক্যাশলেস ব্যাংকিং সিস্টেমকে যুগোপযোগী করে তা জনপ্রিয় করার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিং সচল রয়েছে। কার্ডভিত্তিক লেনদেন বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যেখানে শাখা নেই এমন অঞ্চলের ব্যাংকিং সেবা পৌঁছানোর জন্য এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করা হচ্ছে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানো আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এখন কর্মী নিয়োগ ও অন্যান প্রস্তুতি সম্পন্ন করছি। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডো চালু করার জন্য আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের আবেদন করেছি।

আমাদের সময় : সিএসআর খাতের ব্যয় আপনাদের অগ্রাধিকার খাত কী?

কামরুল ইসলাম চৌধুরী : ব্যবসায়িক কর্মকা-ের পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজ কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে ২০০০ সালে ‘মার্কেন্টাইল ব্যাংক ফাউন্ডেশন’ গঠন করা হয়েছে। সামাজিক কল্যাণ ও দারিদ্র্য বিমোচন, গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সুদবিহীন শিক্ষা ঋণ প্রদান এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা, বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানে সাহায্য করাই হলো এ ফাউন্ডেশনের উদ্দেশ্য। ২০১৮ সালে ঈঝজ খাতে ব্যাংক প্রায় ১২ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয় করেছে।

এর মধ্যে ৯১৫ শিক্ষার্থীকে ১ কোটি ৩৬ লাখ বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল দেওয়া হয়েছে ১ কোটি টাকা। এর বাইরে বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে এককালীন অনুদান প্রদান করা হয়েছে। আর ব্যাংকাদের উৎসাহিত করতে ইয়াং ব্যাংকার্স অ্যাপ্রিসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড প্রদান করছি। গত বছর পাঁচজনকে দেওয়া হয়েছে। এ বছরও অ্যাওয়ার্ড প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।