advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বঞ্চিতদের মাঝে সেবা ছড়াচ্ছে এজেন্ট ব্যাংকিং

হারুন-অর-রশিদ
২৬ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ মে ২০১৯ ২৩:৫৬
advertisement

প্রযুক্তিনির্ভর ঝামেলাবিহীন এজেন্ট ব্যাংকিং দ্রুত সারাদেশে সেবা ছড়াচ্ছে। যেখানে ব্যাংকের শাখা নেই এবং স্বল্প আয়ের মানুষদের ব্যাংকিং সেবা নেওয়ার মতো সামর্থ্যও নেই সেখানেই সেবা প্রদানের জন্য খোলা হচ্ছে এজেন্ট ও আউটলেট। সেবাবঞ্চিত মানুষদের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। এ ছাড়া এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম ও রেমিট্যান্স বিতরণ এক বছরে দ্বিগুণ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

ব্যাংকিং সেবাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে কম খরচে সেবার আওতায় আনতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পর এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালা জারির পরের বছর ব্যাংক এশিয়া প্রথমে এ সেবা চালু করে। এজেন্ট পয়েন্ট থেকে আমানত সংগ্রহ, ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ, সুবিধাভোগীর কাছে রেমিট্যান্সের অর্থ পৌঁছে দেওয়া, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় ভাতাভোগীকে অর্থ প্রদান, অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স জানা, অ্যাকাউন্ট ফরম সংগ্রহ, ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের আবেদন ফরম এবং চেক বই সংগ্রহ করতে পারেন গ্রাহকরা। চলতি মার্চ পর্যন্ত ১৯টি ব্যাংকে এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, ব্যাংকিং সেবা শহরে কেন্দ্রীভূত হলেও এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা গ্রামমুখী। মার্চ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য মতে, সর্বমোট ৪ হাজার ৮৬৬টি এজেন্টের মধ্যে ৪ হাজার ৩৬৫টিই গ্রামে অবস্থিত। আর ৭ হাজার ৮৩৮টি আউটলেটের মধ্যে ৭ হাজার ৮৪টি গ্রামে।

চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত হিসাবে এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাব খুলেছেন ২৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৫ জন। এর মধ্যে ২৫ লাখ ২২ হাজার জন গ্রামের অধিবাসী। আগের বছরের মার্চে হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৯৭ জন। অর্থাৎ এক বছরে গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এই গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই জমার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা। জমার পরিমাণ বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৭৪৮টি আউটলেট রয়েছে ব্যাংক এশিয়ার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২ হাজার ৭১৫ আউটলেট ডাচ-বাংলা ব্যাংকের। এ ছাড়া এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ৫৬৩টি, ইসলামী ব্যাংকের ৩৪৯টি, মধুমতি ব্যাংকের ৩১৪টি, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ২১৭টি, অগ্রণী ব্যাংকের ২০০টি আউটলেট রয়েছে। তবে হিসাব সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষে ডাচ-বাংলা। এই ব্যাংকে হিসাব সংখ্যা ১৩ লাখ ৬৩ হাজার ৭২১টি। এ ছাড়া সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ২৪ কোটি টাকা জমা আছে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে। এ ছাড়া ডাচ-বাংলা ব্যাংকে ৯৫৫ কোটি, ব্যাংক এশিয়ায় ৭৫৩ কোটি, ইসলামী ব্যাংকে এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবে জমার পরিমাণ ৪৯৩ কোটি টাকা।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের যাত্রা শুরু ব্যাংক এশিয়ার আরফান আলীর হাত ধরে। তিনি এখন ব্যাংক এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। মো. আরফান আলী আমাদের সময়কে বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার জন্য এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করা হয়েছে। মানুষের দোরগোড়ায় সেবা দেওয়ার কারণে এটির দ্রুত পসার হচ্ছে। আমরা আমানত সংগ্রহের পাশাপাশি ঋণ বিতরণ করছি। ভবিষ্যতে আমানত সংগ্রহ ও ঋণ বিতরণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবাকে ব্যাপক প্রসারের সুযোগ রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২১০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। আগের বছর একই সময়ে ঋণের পরিমাণ ছিল ১২২ কোটি টাকা। অর্থাৎ ঋণ বিতরণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ১৯টি ব্যাংকের মধ্যে ৬টি ব্যাংক ঋণ বিতরণ শুরু করেছে। ঋণের মধ্যে ১৯২ কোটি টাকাই দিয়েছে ব্যাংক এশিয়া। এ ছাড়া দি সিটি ব্যাংক ৯ কোটি, আল আরাফাহ ৫ কোটি, ডাচ-বাংলা ২ কোটি ও মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ১ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রেমিট্যান্স বিতরণ প্রায় ৩ গুণ বেড়েছে। চলতি বছরের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৭ হাজার ১৮২ কোটি টাকা রেমিট্যান্স দেওয়া হয়েছে। আগের মার্চে যা ছিল ২ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স সরবরাহ বেড়েছে ১৬৮ শতাংশ। রেমিট্যান্স বিতরণে শীর্ষে ডাচ-বাংলা। এই ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স বিতরণ হয়েছে ২ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। এ ছাড়া ব্যাংক এশিয়ার এজেন্টরা ২ হাজার ২৫৩ কোটি, আল আরাফাহ ব্যাংকের এজেন্ট ১ হাজার ৫৬ কোটি, ইসলামী ব্যাংকের এজেন্টরা ৬৪৮ কোটি, অগ্রণী ব্যাংকের এজেন্টরা ৩৭০ কোটি টাকা রেমিট্যান্স বিতরণ করেছে।

advertisement