advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

২০ কোটি টাকার লিচু বেচাকেনা হবে

মোখলেছুর রহমান, মাগুরা
২৬ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ মে ২০১৯ ২৩:৫৭
advertisement

মাগুরার লিচুপল্লীর চাষিদের মাঝে এখন আনন্দ-উৎসব বিরাজ করছে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যাপারিরা বাগানে এসে লিচু কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন। সদর উপজেলার লিচুপল্লীখ্যাত তিন ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামে এবার লিচুর দারুণ ফলন হয়েছে। এ এলাকার লিচু স্বাদ ও রসের দিক দিয়ে অনেক ভালো। তাই বাজারে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরে সারাদেশে এ লিচু হাজরাপুরি নামে পরিচিতি পেয়েছে। এবার এখানে প্রায় ২০ কোটি টাকার লিচু কেনাবেচা হবে বলে চাষিরা জানিয়েছেন।

জেলার সদর উপজেলার হাজরাপুর, হাজীপুর ও রাঘবদাইড় ইউনিয়নের ইছাখাদা, মিঠাপুর, গাঙ্গুলিয়া, খালিমপুর, মির্জাপুর, পাকাকাঞ্চনপুর, বীরপুর, রাউতড়া, বামনপুর, আলমখালী, বেরইল, লক্ষ্মীপুর, নড়িহাটিসহ ৩০টি গ্রামের চাষিরা তিন দশক ধরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লিচুর চাষ করে আসছেন। এবার প্রথম দিকে খরা ও ঝড় নিয়ে চাষিরা কিছুটা শঙ্কিত ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে সেই আশঙ্কা কেটে যাওয়ায় লিচুর ফলন ভালো হয়েছে।

ইছাখাদার অন্যতম লিচুচাষি কাজী সাইফুল ইসলাম জানান, এক সময় এ এলাকার কৃষকরা ধান-পাটসহ প্রচলিত ফসল চাষে অভ্যস্ত ছিলেন, যা থেকে তাদের উৎপাদন খরচ উঠত না। যে কারণে তারা পেঁপে, পেয়ারার পাশাপাশি লিচুর চাষ শুরু করেন। পরে লিচু চাষ অপেক্ষাকৃত লাভজনক হওয়ায় গোটা এলাকার কৃষকরা লিচুর চাষ শুরু করেন।

মিঠাপুর গ্রামের চাষি রজব আলী জানান, লিচুর বাগান করতে প্রথম বছর একটু খরচ হয়। পরে তেমন উল্লেখযোগ্য খরচ নেই। প্রতিবছর লিচুর ফুল এলে শুধু গাছে স্প্রে ও সামান্য পরিচর্যা করতে হয়। এলাকার মাটি লিচু চাষের জন্য উপযোগী। এখানে বোম্বাই, চায়না থ্রি, মোজাফ্ফর ও স্থানীয় হাজরাপুরি জাতের লিচুর চাষ হয়ে থাকে। বিগত কয়েক বছর ধরে সারাদেশে এ লিচুকে হাজরাপুরি লিচু নামেই পরিচিতি পেয়েছে।

ঢাকা থেকে আসা লিচুর ব্যাপারী শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি হাজরাপুরের বিভিন্ন লিচুচাষির কাছ থেকে ৮টি বাগান ১০ লাখ টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছেন। যেখান থেকে তিনি ১০ লাখ লিচু সংগ্রহের আশা করছেন। যার পাইকারি বাজারমূল্য কমপক্ষে ১৫ লাখ টাকা। শহিদুল ইসলাম জানান, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। এ ছাড়া হাজরাপুরি লিচু স্বাদে ও রসের দিক দিয়ে অনেক ভালো হওয়ায় বাজারে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ৫৮০ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সদরে ৪৮০ হেক্টর, শালিখায় ৪০ হেক্টর, শ্রীপুরে ৩৫ হেক্টর ও মহম্মদপুরে ২৫ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল আমিন জানান, আহবাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার মাগুরায় লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। ভালো ফলনের জন্য আমরা জেলার শতাধিক লিচুচাষিকে রাজশাহী ফল গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষক এনে তাদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়েছি। প্রতিটি বাগানে ফলন যাতে ভালো হয়, সে জন্য আমাদের মাঠপর্যায়ের প্রকল্প কর্মকর্তারা নিয়মিত কাজ করে চলেছেন।