advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

হাতীবান্ধার গেন্দুকুড়ি আবাসন প্রকল্পের বেহাল দশা

নুরনবী সরকার,হাতীবান্ধা
২৬ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৬ মে ২০১৯ ০৯:৩৯
advertisement

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গেন্দুকুড়িতে গরিব ও দুস্থ পরিবারের জন্য সরকার কর্তৃক বাস্তবায়িত আবাসন প্রকল্পের ঘরগুলোতে এখন আর কেউ থাকতে চায় না। অপরিকল্পিত স্থান নির্ধারণ ও কর্মসংস্থানের অভাব, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুস্থরা তালিকাভুক্ত না হওয়া, রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধিদের স্বজনপ্রীতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার কারণে এ অবস্থা হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকার কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পে ৬০টি ঘর তৈরি করে দিয়েছে, কিন্তু সেগুলো দুস্থদের খুব একটা উপকারে আসছে না।

সম্প্রতি উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের গেন্দুকুড়ি আবাসন প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, ৬টি ব্যারাকে আছে মাত্র ১৬টি পরিবার। থাকার কথা ৬০টি পরিবার। বাকি ৪৪টি পরিবার ঘর তালাবদ্ধ করে চলে গেছে। ব্যারাকের ভিতরে অধিকাংশ ঘর থাকার অনুপোযোগী। বেশিরভাগ ঘরের টিন জরাজীর্ণ। খাবার পানি ও স্যানিটেশনের অভাবে বিভিন্ন সমস্যা ও নানা রোগে আক্রান্ত ১৬ পরিবারের সদস্যরা। তাদের চলাফেরায় ভোগান্তি বেড়েছে। ওই আবাসন প্রকল্পের সুবিধাভোগী আবদার রহমান ও আইয়ুব আলী জানান, ২০০৬ সালে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এ আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। প্রথমে ৬০ পরিবার বসবাস শুরু করলেও পরে অধিকাংশই বিভিন্ন স্থানে চলে যায়।

গত ১৩ বছরে এ প্রকল্পের কোনো খোঁজ নেননি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কেউ। ঘরের টিনগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। চালে পলিথিন দিয়ে কোনো রকমে দিন পার হচ্ছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থা একেবারেই নষ্ট। ঘরগুলো মেরামতের জন্য একাধিকবার ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো কাজ হয়নি।

ওই আবাসনের অপর সুবিধাভোগী তসলিমউদ্দিন জানান, সরকার তাদের থাকার জন্য ঘর তৈরি করে দিয়েছে। কিন্তু সেই ঘরে এখন থাকার পরিবেশ নেই। সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধাও নেই। উল্টো বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানির শিকার হচ্ছে প্রকল্পের উপকারভোগীরা। হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান আতি জানান, আবাসন প্রকল্পের ঘরগুলো মেরামতের জন্য একাধিকবার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় তোলা হয়েছে। জেলা প্রশাসক সরেজমিনে এসে সুবিধাভোগীদের কষ্ট দেখে গেছেন। কিন্তু আজও প্রকল্পের ঘরগুলো মেরামতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে এ আবাসন প্রকল্পের লোকজন।

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল আমিন জানান, আবাসন প্রকল্পের ঘরগুলো এককালীন রেজিস্ট্রি করে সুবিধাভোগীদের দেওয়া হয়েছে। তাদেরই সেই ঘরগুলোর পরবর্তী মেরামত করার কথা। তার পরও আবাসন প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থান তুলে ধরে প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। সরকার যদি আবাসন প্রকল্পগুলো মেরামতের সিদ্ধান্ত নেয় এবং বরাদ্দ আসে, তা হলে অবশ্যই আবাসন প্রকল্পের ঘরগুলো মেরামত করা হবে।