advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পগবা থেকে মাশরাফি

মাইদুল আলম বাবু,কার্ডিফ থেকে
২৬ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৬ মে ২০১৯ ০০:৫১
advertisement

‘মেঘ বলছে রৌদ্রে যাব।’ মাশরাফি ও পগবা কেউ কাউকে চেনেন না। তবে ক্রীড়াক্ষেত্রে দুজনই পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সেনাপতির ভূমিকায় বেশ সফল। একেবারে মার্টিন লুথার কিংয়ের মতোই হয়তো! নড়াইলের পাড়াতলীতে জন্মেছিলেন মাশরাফি। গতির পায়ে ভর করে, সেলাইয়ে জর্জরিত পা দুটোকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই।

কাঁধে তো বটেই পুরো বাংলাদেশ তাকিয়ে থাকে। ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার পল পগবার ব্যাপারটিও একই রকম। পুরো দলকে অগ্নিঝরা বক্তব্য দিয়ে তাতিয়ে দিতে পারেন। প্রয়োজনের মুহূর্তে দলকে এনে দিতে পারেন ‘ব্রেক-থ্রু’। মাশরাফির জীবনেও এমন অনেক ঘটনা আছে। ম্যারাথন এই ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মাশরাফি ছাড়িয়ে যেতে পারেন পগবাকেও! প্রতীকী অর্থে!

কীভাবে? ফ্রান্স ১৯৯৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল (পগবার জন্য ব্যাপারটি সহজ ছিল)। আর বাংলাদেশ এখনো শিরোপা জেতেনি। মাশরাফি সে ক্ষেত্রে এক ধাপ পিছিয়ে নয়; বরং এগিয়ে। এমন দলকে শিরোপা এনে দেওয়ার কৃতিত্ব দিতে হবে। শিরোপা জিতলে বিস্মিতই হবেন। তরুণ একটি দল নিয়ে গিয়ে ফ্রান্স গত বছর রাশিয়ায় বিশ্বকাপ জয় করেছে। গোপন রহস্য কী!

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ফাইনাল খেলার আগে সাবেক বিশ্বকাপ জয়ী ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম বলেছিলেন, ‘আমাদের দলটি ৫৬ দিন এক সঙ্গে অনুশীলন করেছে, খেয়েছে ও বেড়িয়েছে। এক রুমে ৩ জনও থেকেছে। এতে পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় হয়েছে।

মাঠে ও মাঠের বাইরে আমার ছেলেরা ছিল একতার প্রতীক।’ এতেই কি শেষ! ফাইনাল শুরুর মিনিট চারেক আগে পল পগবা দুর্দান্ত বক্তব্য রেখেছিলেন সতীর্থদের প্রতি। পগবার বক্তব্যে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছিল ফরাসিরা।

ফাইনালের ৯০টি মিনিট কখনো মনে হয়নি ফ্রান্স এ ফাইনালটি হারতে পারে। পগবার সেই বক্তব্যের কিছু অংশ এমন, ‘আমরা জীবনে ৯০ মিনিটের অনেক ম্যাচ খেলব।

কিন্তু আজ এই ৯০ মিনিটের ম্যাচটি আর নাও আসতে পারে। আমরা সফল হলে, তোমাদের ছেলে-মেয়ে, আমার দাদা-দাদি অথবা তোমার ছেলে-মেয়ের পরের বংশও মনে রাখবে। হয়তো শত বছর আমাদের কথা বলবে। আমরা ২০১৬তে ইউরোর ফাইনালে হেরেছি।

আমার মাথায় আছে সেটা। আজ আমরা খালি হাতে ফিরব না।’ পগবা নিজেও গোল করেছেন ফাইনালে। সতীর্থদের মনে বিপ্লব ঘটিয়ে দেন পগবা। আর তেতে ওঠে তারা।

শুক্রবার কার্ডিফের অনুশীলন ক্যাম্পে মাশরাফি ও তার দল জুমার নামাজ আদায় করেছেন। মাহমুদউল্লাহ ইমাম ছিলেন। এ ছবিটি হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। এক সঙ্গে জুমার নামাজ পড়তে হয়। তবে অনুশীলন শিবিরে এমন সংঘবদ্ধ মনোযোগী সতীর্থ হওয়াটাও বড় ইতিবাচক।

এ বিশ্বকাপে ৯টি ম্যাচ। বাংলাদেশ দলটি আয়ারল্যান্ডের সিরিজ থেকে এক সঙ্গে রয়েছে। মাশরাফি ও দলের সবার মধ্যে সম্পর্কটি বড় ভাই ছোট ভাইয়ের মতো।

খেলায় হার-জিত লেগেই থাকে। তবে এই একাত্মতা বড় টুর্নামেন্টে ‘টনিকের’ কাজ দেয়। ফুটবল ও ক্রিকেটের দর্শন আলাদা হতে পারে। ফুটবলে ১১ জনকে এক সঙ্গে দম লাগাতে হয়। ক্রিকেটে ফিল্ডিংয়ের সময় এমনটি ঘটে।

অন্যদিকে ব্যাট হাতে ব্যাটসম্যানকে একাই লড়তে হয়। পগবার ভূমিকায় বাংলাদেশ মাশরাফিকেই দেখতে পায়! এশিয়া কাপের ফাইনালে ছিলেন না তামিম ও সাকিব।

অভিজ্ঞ দুই খেলোয়াড়কে ছাড়া ২২২ রানের সংগ্রহ নিয়ে বাংলাদেশ ৫০তম ওভারের শেষ বল পর্যন্ত লড়েছে। এ লড়াইটি প্রমাণ করে দিয়েছে মানসিকভাবে খুবই শক্তিশালী বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশের শক্তির জায়গা টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। পেসারদের মাঝে শুধু মোস্তাফিজ ছন্দে ফিরে এলে এ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে যাবে। বাংলাদেশের শক্তি মাংসপেশি বাহুতে নয়; মনে!

হালকাভাবে নেবে না কোনো দলই। দেশের সেরা ৫ তারকা তো রয়েছেনই। তরুণরাও ভালো খেলছেন। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যে সফলতা আসেই। পগবা চলো মাশরাফি হই! দক্ষিণ আফ্রিকা চাপমুক্ত থাকার জন্য কোনো আলাদা কাজ রাখেনি এ বিশ্বকাপে।

বাংলাদেশও চাপমুক্ত থাকবে হয়তো। গতকাল সাইফউদ্দিন যিনি প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসেছেন, তার হাসিমাখা মুখ দেখে মনে হচ্ছে না তেমন চাপ রয়েছে। হাসতে হাসতেই হোক এবার বিশ্বজয়! পুরো দলটিই এখন একতার প্রতীক।