advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দূরপাল্লায়ও বিদ্যুৎচালিত ট্রেন আসছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৬ মে ২০১৯ ১২:২১
advertisement

রাজধানীতে মেট্রোরেলের যাত্রা শুরুর পর দেশে বিদ্যুৎচালিত ট্রেন চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ ঘাটতি না থাকা এবং রেলের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎচালিত ট্রেন চালুর আগ্রহের কথা জানান তিনি।

গতকাল শনিবার গণভবন থেকে কয়েকটি সেতুসহ কয়েকটি অবকাঠামো এবং নতুন আন্তঃনগর ট্রেন ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী এবং কোনাবাড়ী ও চন্দ্রা ফ্লাইওভার, কালিয়াকৈর, দেওহাটা, মির্জাপুর ও ঘারিন্দা আন্ডারপাস এবং কাড্ডা-১, জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়কে বিমাইল সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঈদের আগেই এসব সেতু উদ্বোধন করা হলো, এতে এই সড়কে ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।


পরে ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি দূরপাল্লায় বিদ্যুচ্চালিত ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান। বাংলাদেশে এখনো ডিজেলচালিত ট্রেন চলছে। ঢাকার মেট্রোরেলের মাধ্যমে দেশের প্রথম বিদ্যুচ্চালিত ট্রেনের ব্যবহার শুরু হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে একসময় হাহাকার ছিল। আজকে প্রায় ৯৩ ভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ দিতে পেরেছি। যেসব মেগা প্রকল্প ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নির্মিত হচ্ছে, তাতে আমাদের বিদ্যুতের কোনো অভাব থাকবে না। রেলের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যত দিন যাচ্ছে রেল আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। মানুষ এখন রেলে বেশি চড়তে চায়। চাহিদা মেটানোর জন্য আমাদের আরও বেশি যাত্রীবাহী কোচ দরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অবস্থান আজকে বিশ্বে এমন একটা জায়গায় আছে যে, আমরা সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে যার কাছ থেকে উন্নয়নের সহযোগিতা পাচ্ছি, আমরা সেটা গ্রহণ করে দেশের মানুষের কাজে লাগাতে সক্ষম হচ্ছি। আমাদের এ কাজ অব্যাহত থাকবে।


জাতির পিতার আদর্শ মাথায় নিয়ে কাজ করে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকারে আসে। এর পরই আমরা মানুষের জীবনে উন্নয়নের ছোঁয়া দিতে পেরেছি। দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, তারা আমাদের ওপর বিশ্বাস রেখেছেন, আস্থা রেখেছেন এবং আমাদের ভোট দিয়েছেন, সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন।


তার সরকারের সময় দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি গাড়িচালকদের ট্রাফিক আইন মানা এবং পথচারীদেরও নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোয়াসু ইজুমি প্রমুখ। মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা ও গাজীপুর প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় মানুষ।


জাইকার সহযোগিতায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়ন হওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শীতলক্ষ্যা সেতু (দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু), দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাপানের জাইকা ৬ হাজার ৪২৯ কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে। ৯৩০ মিটার দৈর্ঘ্যরে চার লেনের দ্বিতীয় মেঘনা সেতুতে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। আর ১০১০ মিটার দৈর্ঘ্যরে চার লেনের দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতুতে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা।

২০২১ সাল পর্যন্ত মেয়াদ থাকলেও এর আগেই নির্মাণকাজ শেষ হয় এবং ব্যয়ও কমেছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

advertisement