advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

‘ওরা আর রাজনীতি করবে না, ওদেরকে ফেরত দেন’

২৬ মে ২০১৯ ০৩:২১
আপডেট: ২৬ মে ২০১৯ ০৩:২২
advertisement

সাত বছরের শিশু আদিবা ইসলাম হৃদি। বাবা পারভেজ হোসেন যখন নিখোঁজ হন, তখন হৃদির বয়স মাত্র দেড় বছর। নিখোঁজ বাবার ছবি বুকে নিয়ে সে গতকাল প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে অংশ নেয়, সঙ্গে ছিল মা ফারজানা আক্তারও। ঈদের আগেই নিখোঁজ বাবাকে ফিরে পেতে সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছে হৃদি। গতকাল শনিবার সকালে গুম হওয়াদের মায়েদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে সে এ আকুতি
জানায়।


ফারজানা আক্তার জানান, ২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর চার যুবকের সঙ্গে শাহবাগ থেকে পারভেজ হোসেনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এখন পর্যন্ত আর খোঁজ মেলেনি। তিনি বংশাল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ফারজানা বলেনÑ ‘রাজনীতি করা কি অপরাধ? তা হলে দেশে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হোক। আমাদের সন্তানদের বাবাদের ফেরত দিন, তারা আর রাজনীতি করবে না।’


ফারজানা আক্তার বলেন, ‘পারভেজ যখন গুম হয়, তখন হৃদির বয়স ছিল মাত্র দেড় বছর। সে কিছুই বুঝত না। এখন ধীরে ধীরে বুঝতে পারছে যে, সবার মতো তার বাবা নেই। তবে ওর বাবার কী হয়েছে, কেন সে নেই, তা আমি তাকে বলতে পারছি না। সাত বছর ধরে হৃদি তার বাবাকে নিয়ে নানা প্রশ্ন করে যাচ্ছে। এসব প্রশ্নের কোনো জবাবই দিতে পারছি না।’


হৃদি এখন মায়ের সঙ্গে যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে নানাবাড়িতে থাকে। পাশের একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। ছেলের শোকে দুই বছর আগে পৃথিবী ছেড়েছেন হৃদির দাদা। তার দাদিও বর্তমানে শয্যাশায়ী বলে জানান ফারজানা।
হৃদির পাশেই চোখ ভরা জল নিয়ে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে ছিল শিশু লামিয়া আক্তার মীম। তার বাবা কাওসার যখন নিখোঁজ হন, মীমের বয়স তখন আড়াই বছর। এখন সাত। সে যতই বড় হচ্ছে, ততই বাবার কথা জানতে চায়। মীমের মা মিনু আক্তার জানান, তার স্বামী কাওসার হোসেন ছিলেন গাড়িচালক। তিনি ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর নিখোঁজ হন।

সন্তান নিয়ে কোনোভাবে টিউশনি করে সংসার চালাচ্ছেন মিনু। কঁদতে কাঁদতে বললেন, ‘আমি কোনোভাবে সংসার চালিয়ে নিচ্ছি। এ রকম আর কত দিন চালাতে পারব, জানি না। আমার স্বামীকে আমি ফেরত চাই।’
ইউপিডিএফের অন্যতম সংগঠক ও ইউনাইটেড ওয়ার্কার্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাইকেল চাকমা গত ৯ এপ্রিল কাঁচপুর থেকে নিখোঁজ হন। তার বড় বোন সুভদ্র চাকমা মানববন্ধনে অংশ নিয়ে কথা বলার আগে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। মাইকেল পাহাড়ি শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে কাজ করতেন।


নিখোঁজ ও গুম হওয়া মানুষদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে আয়োজিত এ মানববন্ধনে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা, সমাজকর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারাও ছিলেন। এর মধ্যে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘গুম-খুনের জন্য দায়ীরা আপনার (প্রধানমন্ত্রী) পাশেই আছে। আপনি তাদের বলুন, তারা যেন দ্রুত নিখোঁজদের ফেরত দেয়।’

 

advertisement