advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দিনে ‘সাড়ে ১১ লাখ ঘনমিটার’ পয়ঃবর্জ্য যাচ্ছে বুড়িগঙ্গায়

২৬ মে ২০১৯ ০৩:২৭
আপডেট: ২৬ মে ২০১৯ ০৯:১৯
advertisement

বুড়িগঙ্গার পানির রঙ বদলে কালচে হওয়ার পেছনে ভূমিকা রয়েছে নগরবাসীর পয়ঃবর্জ্যরে। ঢাকাবাসীর মলমূত্র ত্যাগে প্রতিদিন যে পয়ঃবর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে তার বেশিরভাগই যাচ্ছে আশপাশের নদীতে, যার প্রভাব পড়ছে ঢাকায় পানি সরবরাহে।

এভাবে নদীদূষণ বন্ধ না হলে কোটি কোটি টাকা খরচ করেও ওয়াসার পক্ষে ঢাকায় বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানি সরবরাহ সম্ভব হবে না বলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। নগর উন্নয়নবিদদের এ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আদিল মুহাম্মদ খান গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘কতটা বাসযোগ্য ঢাকা মহানগরী’ শিরোনামে এক সংলাপে ওই গবেষণা প্রতিবেদনের নানা তথ্য তুলে ধরেন।

বিআইপির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন ঢাকায় ১৫ লাখ ঘনমিটার পয়ঃবর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার ২০ শতাংশ রয়ে যায় উৎসে। আর মাত্র সাড়ে ৪০ হাজার ঘনমিটার যায় পাগলা পয়ঃশোধনাগারে। বাকি ১১ লাখ ৬০ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য অপরিশোধিত অবস্থায় নিঃসরিত হয়ে নদীতে যাচ্ছে।
ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, বালু, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যা নদীতে এসব বর্জ্য গিয়ে পানি দূষিত করছে বলে জানান আদিল মুহাম্মদ।

‘নদীর পানিদূষণের ফলে ওয়াসা বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে পারছে না। আমরা ওয়াসাকে দোষারোপ করছি। কিন্তু এ অবস্থায় ওয়াসা কোটি কোটি টাকা খরচ করে নানা প্রকল্প শুরু করেও নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি দিতে পারবে না,’ বলেন এই নগর উন্নয়নবিদ।

এ সমস্যা সমাধানে প্রতিটি কল-কারখানায় বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন, বৃষ্টির পানি প্রবাহ ও বর্জ্য প্রবাহের জন্য আলাদা লাইন, বৃষ্টির পানি ধরে ভূর্গভস্থ পানির স্তর বাড়ানো, নগরীর জন্য আরও বেশ কয়েকটি পয়ঃশোধনাগার স্থাপন এবং নিয়মিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে ঢাকার প্রধান চার নদীর তলদেশ থেকে বর্জ্য অপসারণের পরামর্শ দেন তিনি।

বিআইপির তথ্যমতে, ঢাকা মহানগরীতে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ হাজার টন বর্জ্য উৎপাদন হয়, ৭৬ শতাংশই কঠিন বর্জ্য। এ বিপুল পরিমাণ বর্জ্যরে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ সংগ্রহ করে দুই সিটি করপোরেশন। এর মধ্যে মাত্র ২০ শতাংশ পুনর্ব্যবহারযোগ্য। নগরীর ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ এ বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের সঙ্গে বিভিন্নভাবে যুক্ত।

এ বর্জ্যকে পুনর্ব্যবহারে করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল্যবান কাঁচামাল তৈরি, রি-অ্যাডজাস্টমেন্ট বা রি-ডিস্ট্রিবিউশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কমিউনিটিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু এবং মেডিক্যাল ও ই-বর্জ্য উৎসেই আলাদা করার ব্যবস্থা রাখার সুপারিশ করেছে বিআইপি।

এ অনুষ্ঠানে ঢাকার আবাসন, পরিবহন, জলাবদ্ধতাসহ নানা সংকটের চিত্র তুলে ধরো বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন বিআইপির সাধারণ সম্পাদক। তাদের গবেষণার বরাত দিয়ে আদিল বলেন, নতুন করে যুক্ত হওয়া ৩৬টি ওয়ার্ড বাদ দিয়ে ঢাকার ৯৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫৮টি ওয়ার্ডে প্রতি বগর্ কিলোমিটারে ৪০০ জন মানুষ বসবাস করছে। অথচ আধুনিক নগর পরিকল্পনা অনুযায়ী, নগরে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে সর্বোচ্চ ১৫০ জনের বসবাসের কথা বলা আছে।

জনসংখ্যার চাপে ঢাকায় নগর উন্নয়নের সব পরিকল্পনা ভেস্তে যাচ্ছে জানিয়ে আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘কোনো একটি শহরের অবকাঠামোর বিবেচনায় বলা হয়, নগরে ৭০ লাখের বেশি লোক বাস করলে নগর তার ভার বহন ক্ষমতা হারায়। সে হিসাবে ঢাকা শহর অনেক আগেই তার ভার বহন ক্ষমতা হারিয়েছে।’

জনসংখ্যার অধিক চাপে নগর উন্নয়নের সমস্ত পরিকল্পনা ভেস্তে যাচ্ছে। পরিসেবা খাতে সরকার যা বিনিয়োগ করছে তার রিটার্ন কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না।
ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) বিচারে বাসযোগ্যতার মানদ- অনুযায়ী ঢাকার অবস্থান বিশ্বের ১৪০টি শহরের মধ্যে ১৩৯তম বলে সভায় জানান আদিল।

ঢাকায় সক্ষমতার কয়েক গুণ মানুষ এখন বসবাস করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকাকে ঘিরে উন্নয়নপ্রবণতা প্রবলভাবে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় ঢাকামুখী জনসংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তার পর উন্নয়ন কার্যক্রমে দুর্বলতা ও সমন্বয়হীনতা ঢাকাকে ধ্বংসের জন্য দায়ী।’

নগরবাসীর এক-তৃতীয়াংশ এখনো বস্তি এলাকায় বসবাস করে, যা অস্বাস্থ্যকর বলে বিআইপির পর্যবেক্ষণ। এ সমস্যার সমাধানে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের জন্য সামাজিক আবাসন প্রক্রিয়া চালু করার পাশাপাশি স্বল্প (২০১৫-২০২০) ও দীর্ঘমেয়াদি (২০৩১-২০৩৫) পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে তারা। প্লটভিত্তিক আবাসনের পরিবর্তে ফ্ল্যাটভিত্তিক আবাসন প্রক্রিয়া চালুর কথা বলেছে তারা।

আবাসন এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা ও দুর্যোগ ঝুঁকি এড়াতে ইমারত নকশা কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট দূরত্বে ফায়ার হাইড্রেন্ট রাখারও সুপারিশ করেছে তারা।

advertisement