advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঈদে বাড়ি ফেরা শেষ মুহূর্তে টিকিটের জন্য চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৭ মে ২০১৯ ০১:১২
advertisement

বাসের টিকিট আগেই ফুরিয়ে গেছে। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে বাড়ি যেতে হবে। তাই ট্রেনের টিকিটের জন্য মানুষের ভিড় ছিল রেলস্টেশনে। প্রতিবার কমলাপুর স্টেশনে যাত্রীচাপ থাকলেও এবার মোট ৫ স্থানে ছিল টিকিটপ্রত্যাশীদের ভিড়। গতকাল ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রির শেষ দিন ছিল। এদিন কেউ টিকিট পেয়ে সোনার হরিণ হাতে পেয়েছেন বলে মনে করেন। আর টিকিট না পেয়ে অনেককে স্টেশন ছাড়তে হয়েছে কান্নামুখে।

কর্মব্যস্ততা কিংবা পড়াশোনার কারণে ঢাকা শহরে আবাস অনেক মানুষের। কিন্তু উৎসব-পার্বণে তারা বাড়ি যেতে উদগ্রীব হয়ে পড়েন। তাই ইফতার বা সেহরি খেয়ে টিকিটের জন্য স্টেশনে ছুটেছেন তারা। এবার অ্যাপসের মাধ্যমে ৫০ ভাগ টিকিট বিক্রির ঘোষণায় স্বস্তি পেতে থাকেন সাধারণ যাত্রীরা। কিন্তু ২২ মে থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হলে প্রথমদিনেই টের পান এ অ্যাপস অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে শেষমেশ লাইনেই দাঁড়াতে হয়েছে ঘরমুখো এসব মানুষকে। এভাবেই ৫ দিন অ্যাপস আর স্টেশন নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয় তাদের। টিকিট কেনার যুদ্ধের শেষ দিন গতকালও অ্যাপসের ভোগান্তি ছিল। এ নিয়ে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, অ্যাপসের কারণে টিকিট কিনতে সমস্যা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই প্রসঙ্গে রেলের টিকিট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সিএনএসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত লোক একসঙ্গে হিট করার কারণে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। আর যাত্রীরা বলছেন, সিএনএসের কারিগরি ত্রুটির কারণেই টিকিটপ্রত্যাশীরা দুর্ভোগে পড়েন। অতিরিক্ত লোকের দোহাই দেওয়াটা তাদের অজুহাত। ঈদে বেশি মানুষ একসঙ্গে লগইন করবে এটিই স্বাভাবিক।

গতকাল কমলাপুর স্টেশনে কথা হয় হাসনাত নামের এক যাত্রীর সঙ্গে। যাবেন রাজশাহী। তিনি বলেন, সকাল থেকে অনলাইনে এবং অ্যাপে চেষ্টা করেছি। পরে লাইনে এসে দাঁড়িয়েছি।

জানা গেছে, গতকাল দেওয়া হয়েছে ৪ জুনের টিকিট। ঢাকার স্টেশন থেকে অনলাইনে বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ৫৬১টি টিকিট। অনলাইনে টিকিট না পেলেও কাউন্টার থেকে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। এ বছর প্রথমবারের মতো কমলাপুর ছাড়াও তেজগাঁও, বনানী, বিমানবন্দর ও ফুলবাড়িয়া কাউন্টার থেকে রেলের আগাম টিকিট বিক্রি করা হয়। আগাম টিকিট বিক্রির শেষ দিনেও দুর্ভোগে নাকাল হতে হয়েছে টিকিটপ্রত্যাশীদের। রেলের সার্ভারে বিপত্তি, স্বজনপ্রীতি ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ফলে টিকিট পেতে যাত্রীদের দিনে রাতে ১৮ থেকে ২১ ঘণ্টা অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয়েছে।

কাউন্টারগুলোয় খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, সকাল ৯টায় বিক্রি শুরু হয়। আগের দিন রাতে এসে মানুষ লাইনে দাঁড়ায়। অনেকে টোকেনের মাধ্যমে সিরিয়াল ধরেন। একটি টিকিটের জন্য যুদ্ধ করতে হয় প্রতিবারই মানুষকে। নানা চেষ্টা-সাধ্য করেও যারা টিকিট পাননি বাদরঝোলা করে করে তারাই ট্রেনে ছুটবেন ৩১ মে থেকে। কেউ কেউ স্ট্যান্ডিং টিকিট সংগ্রহ করবেন যাত্রার দিন। তবু আপনজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের যুদ্ধে জয়ী হতে চান ঘরমুখো মানুষ। চাহিদার তুলনায় আসন সংকট আর ব্যবস্থাপনার ত্রুটি এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি আজও।

এ বিষয়ে রেলওয়ের মহাপরিচালক কাজী রফিকুল আলম বলেন, রেলের সীমিত সম্পদের মাধ্যমে চাহিদার জোগান দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌপথের মধ্যে রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠান রেলে ভরসা করতে চান অনেক মানুষ। ট্রেনের কোচ-লোকোমোটিভ বাড়লে পরবর্তী সময় আরও যাত্রী পরিবহন সম্ভব।

advertisement