advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রয়েল চিটারদের ‘বারেক মাস্টার’

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৭ মে ২০১৯ ০১:৪৫
advertisement

স্কুলের গ-ি পেরোতে না পারা কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকার বাসিন্দা বারেক সরকারকে ১৮ বছর বয়সে সৌদি আরব পাঠিয়ে দেন বাবা-মা। তবে সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে না পারলেও মানুষ ঠকানোর নানা কৌশল আয়ত্ত করেন।

দুই বছর পর দেশে ফিরে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে দেন প্রতারণার জাল। দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে প্রতারণার মাধ্যমে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও কৌশলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তার এড়িয়ে গেছেন।

‘রয়েল চিটার ডেভেলপমেন্ট-(আরসিডি)’ কথিত মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির নামে চলত তার প্রতারণা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

অভিনব কায়দায় উচ্চপদে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করা চক্রের ২২ সদস্যকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গত ২ মার্চ গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দারুসসালাম এলাকা থেকে গত শনিবার গ্রেপ্তার করা হয় চক্রের মূলহোতা বারেক সরকারসহ (৬৩) পাঁচজনকে। বাকিরা হলেনÑ যশোরের হাবিবুর রহমান (২৪), কুমিল্লার জাকির হোসেন (৫৮), ভোলার আক্তারুজ্জামান (২৮) ও বরিশালের শাহরিয়ার তাসিম (১৯)।

গ্রেপ্তারের সময় বারেকের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। গতকাল রবিবার দুপুরে কারওয়ানবাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান র‌্যাব ৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির। র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, আরসিডি নামে একটি ভুয়া কোম্পানি খুলে বারেক।

এ নামে অফিস নেওয়াসহ সব কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও কোম্পানির প্রকৃত নাম সবার অজানা ছিল। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরসিডির ছোট ছোট গ্রুপ রয়েছে, যারা সুসজ্জিত অফিস ভাড়া করে বিত্তবানদের ফাঁদে ফেলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়। চক্রটি মূলত অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অবসরে যাওয়ার আগে থেকেই টার্গেট করত।

এর পর তাদের কোম্পানিতে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে অফিসে নিয়ে আসে এবং প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডার হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করে। অফিস কর্মকর্তাদের চালচলনে অভিভূত হয়ে টার্গেট করা ব্যক্তিরা পেনশনের টাকা বিনিয়োগ করত। এর কয়েক দিন পরেই অফিসসহ উধাও হয়ে যেত অফিসের সেই কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের কয়েক কোটি টাকার অর্ডারের ফাঁদে ফেলে ৪০-৫০ হাজার টাকার স্যাম্পল নিত। এমনকি মালামাল তৈরিতে যে পরিমাণ কাঁচামাল প্রয়োজন তা সরবরাহের কথা বলে অগ্রিম হিসেবে লাখ লাখ টাকাও হাতিয়ে নিচ্ছিল চক্রটি।

আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিদের জমি বা নির্মাণাধীন ভবনের ওপর ইন্টারনেট টাওয়ার স্থাপনের প্রলোভন দিয়েও হাতিয়ে নিত লাখ লাখ টাকা। চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির আরও বলেন, ৪৩ বছরে নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রতারণার মাধ্যমে অন্তত শতকোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছে বারেক।

মানুষকে ফাঁদে ফেলে সে ঢাকা শহরে নিজের নামে ফ্ল্যাট, গাড়ি এবং গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় জমিসহ অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়েছে।

advertisement