advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রোমহর্ষক বর্ণনা

২৭ মে ২০১৯ ০২:১০
আপডেট: ২৭ মে ২০১৯ ০৯:২১
advertisement

স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে গেল শনিবার দুপুরে রাজধানীর ভাটারার সুলমাইত বসুমতি পূর্বপাড়ার একটি বাসায় তোষকে প্যাঁচানো অবস্থায় তরুণী লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে তার নাম-পরিচয় কিছুই জানা যাচ্ছিল না। পরে এক ফোন নম্বরের সূত্র ধরে গতকাল রবিবার বিকালে বারিধারা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় নিহতের বয়ফ্রেন্ড মো. ফরহাদকে। তার মাধ্যমেই জানা যায় ওই তরুণীর নাম তানিয়া বেগম। চার দিন আগে তাকে গলাটিপে হত্যা করেছেন ফরহাদ নিজেই।

ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক জানান, তানিয়ার শ্বশুরবাড়ি শরীয়তপুরে। প্রায় সাত মাস আগে তিনি স্বামী ও সাত বছরের একমাত্র মেয়েকে রেখে ঢাকায় চলে আসেন। এর পর থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। শনিবার দুপুরে সুলমাইত বসুমতি পূর্বপাড়ার একটি বাসায় তানিয়ার লাশ পাওয়া যায়। তবে কেউই তার নাম-পরিচয় দিতে পারছিল না।

গত এপ্রিলে বাসাটি ভাড়া নেওয়ার সময় ফরহাদকে স্বামী পরিচয় দিয়ে তার মোবাইল নম্বর বাড়িওয়ালাকে দিয়েছিলেন তানিয়া। ওই নম্বরে ফরহাদকে ফোন করলে তিনি জানান, তানিয়া তার ফেসবুক বন্ধু। পরে রবিবার বিকালে বারিধারা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তার কাছ থেকেই জানা যায় তানিয়ার বিস্তারিত।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফরহাদ বলেছেন, সাথী নামে এক নারীর মাধ্যমে তানিয়ার সঙ্গে তার পরিচয়। মাঝেমধ্যে ফরহাদ ওই বাসায় গিয়ে থাকতেন। ফরহাদ ছাড়া আরও বেশ কয়েকজন ছেলে বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল তানিয়ার। পরিচয়ের ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে ফরহাদের কাছ থেকে তানিয়া বিভিন্নভাবে এক লাখ টাকা নেন এবং আরও টাকা দাবি করেন। পাশাপাশি বিয়ে করার জন্য চাপ দেন। কিন্তু ফরহাদ বিয়ে করতে অস্বীকার করলে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তানিয়া। এ পরিস্থিতিতে ফরহাদ তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। সে অনুযায়ী টাকা ও বিয়ের ব্যাপারে কথা বলতে ২২ মে রাতে তানিয়ার বাসায় যান তিনি। ওইদিন রাত ১২টার পর কথা বলার একপর্যায়ে তানিয়াকে গলাটিপে হত্যা করেন ফরহাদ।

তানিয়ার স্বামী প্রসাধনী ব্যবসায়ী। তিনি জানান, তার স্ত্রী চলে যাওয়ার পর ফোন করলে বিরক্ত হতেন এবং কোথায় থাকত সেটিও বলতেন না। নিহত এ তরুণী বাবাও জানান, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তানিয়া কী করতেন তা কেউ জানত না। যোগাযোগও ছিল না কারও সঙ্গে।

advertisement