advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ফতুল্লার আলীগঞ্জ মাঠ দখলে বাধা

২৭ মে ২০১৯ ০২:১১
আপডেট: ২৭ মে ২০১৯ ০৯:২১
advertisement

ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ খেলার মাঠ দখলে নিতে গিয়ে গতকাল রবিবার জনতার বাধার মুখে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা।

এই মাঠসহ তৎসংলগ্ন জমিতে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ১৫তলা বিশিষ্ট ৮টি ভবন নির্মাণের কথা রয়েছে। ওইসব ভবনে মোট ৬৭২টি ফ্ল্যাট নির্মিত হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আলীগঞ্জ একটি ঐতিহ্যবাহী মাঠ। এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য, তাদের সন্তানদের জন্য মাঠটি একান্ত প্রয়োজন। ঢাকার পোস্তগোলা থেকে ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকার ২০ লাখ মানুষের জন্য ওই একটি মাঠই আছে। মাঠের জন্য প্রয়োজনে তারা বুকের রক্ত দেবেন। তবুও মাঠের জমি অন্য কাজে ব্যবহার করতে দেবেন না। গতকাল মাঠ রক্ষায় নামা স্থানীয় এলাকাবাসী রাস্তা অবরোধ করে রাস্তায় টায়ার জ¦ালিয়ে বিক্ষোভ করে। ওই সময় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-পোস্তগোলা সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

মাঠ উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আলীগঞ্জ ও এর আশপাশের কয়েক হাজার স্থানীয় বাসিন্দা, স্কুল ও মাদ্রাসার কয়েকশ শিক্ষার্থী গণপূর্ত বিভাগ ও প্রশাসনের লোকজনদের বাধা দেয়। তাদের বাধায় স্থানীয় কয়েকজন মুরুব্বির সঙ্গে বৈঠকে বসেন গণপূর্ত ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পরে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের মাস্টার প্ল্যান স্থানীয় মুরুব্বিদের কাছে হস্তান্তর করেন। এ প্ল্যান দেখে আগামী সাত দিনের মধ্যে স্থানীয়দের সিদ্ধান্ত গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের জানানোর অনুরোধ করে ফিরে যান কর্মকর্তারা।

গণপূর্ত বিভাগ নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন বলেন, এ মাঠসহ তৎসংলগ্ন জমিতে ১৫তলা বিশিষ্ট ৮টি ভবন নির্মিত হবে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য। এ জন্য যে মাস্টার প্ল্যান করা হয়েছে তাতে একটি বড় খেলার মাঠসহ ছোট ছোট আরও ৪টি খেলার মাঠ থাকবে। বড় খেলার মাঠটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। কিন্তু আলীগঞ্জবাসী ভাবছে সরকারি কোয়ার্টারের ভেতরে মাঠ থাকলে সেটি সবাই ব্যবহার করতে পারবে না। একটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে এটি হয়েছে। বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। আমরা উচ্চ আদালতকে জানিয়েছি যে, মাঠের জন্য সাড়ে ৪ একর জমি রাখা হয়েছে। এতে উচ্চ আদালতে আমাদের সেভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

এ কর্মকর্তা আরও জানান, গতকাল সকালে মাঠের দখল বুঝে নিতে গেল গণপূর্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিক, এসিল্যান্ড রেজোয়ান আহমেদ ও পুলিশ সদস্যরা। মাঠের দখল বুঝে নেওয়ার আগে উপস্থিত লোকজনের তাদের স্থাপনা সরিয়ে নিতে আধাঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত লোকজন বাধা দেয়। দাবি কী জানতে চাইলে তারা বলেন, মাঠ দখলে নিতে দেবেন না।

আলীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন, আলীগঞ্জ খেলার মাঠটি শুধু এলাকাবাসীর জন্যই নয়, আলীগঞ্জ হাই স্কুলের জন্যও সমানভাবে প্রয়োজন। এ মাঠে স্কুলের নানা ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে মাঠের বিকল্প নেই।

আলীগঞ্জ মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা শহীদুল ইসলাম বলেন, দেশে এখন বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। তবে আলীগঞ্জের এ মাঠের বদৌলতে প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো খেলাধুলা বা টুর্নামেন্ট এখানে হচ্ছে। তাই স্থানীয় বাসিন্দারা এ মাঠের বদৌলতে নির্মল আনন্দ নিতে পারছে।

কুতুবপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মাঠ থাকবে। তা হলে কেন আলীগঞ্জ মাঠ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। আমরা যে কোনো মূল্যে মাঠ রক্ষা করবই। এটি আমাদের অধিকার। মাঠ রক্ষায় ২৫ হাজার লোকের স্বাক্ষর গ্রহণ করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা দিয়েছিলাম। প্রয়োজনে এ ধরনের কর্মসূচি আরও অব্যাহত থাকবে।

আলীগঞ্জ মাঠটি রক্ষায় উচ্চ আদালতেও রিট করা হয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে কোয়ার্টার নির্মাণ কাজের ওপর স্থগিতাদেশ রয়েছে বলে জানান আলীগঞ্জ মাঠ রক্ষায় রিটকারী আলী উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কাউসার আহমেদ পলাশ।

সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিক বলেন, এসিল্যান্ডের নেতৃত্বে মাঠ উচ্ছেদে গেলে স্থানীয় লোকজন তাদের বাধা দেয়। এ খবর পেয়ে আমি সেখানে যাই। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, পুলিশ মূলত সেখানে গিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে। স্থানীয়দের বাধার কারণে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে আলোচনা বসেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হবে।

advertisement