advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মায়ের ঈদ

জাজাফী
২ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২ জুন ২০১৯ ০৯:২৯
advertisement

কেউ বিশ্বাস করুক বা না করুক এ কথা ধ্রুব সত্য যে, মাতৃঋণ শোধ হওয়ার নয়। এমনকি শরীরের চামড়া দিয়ে জুতা বানিয়ে দিলেও মায়ের একধার দুধের দাম শোধ হবে না। মায়ের কাছে আমাদের সীমাহীন ঋণ। আমরা এই সুন্দর পৃথিবীর আলো-বাতাস দেখার সুযোগ পেয়েছি মায়ের জন্য।

পৃথিবীতে আসার আগেই আমরা মাতৃগর্ভে মায়ের শরীরের অংশ নিয়ে বড় হয়েছি। আমাদের জন্মের সময় মা যে কষ্ট সহ্য করেছে তার বর্ণনা দিতে গিয়ে অনেকেই বলেছেন, একটি জীবন্ত পশুর শরীর থেকে চামড়া আলাদা করে নিলে পশুটির যেমন কষ্ট হয় তার চেয়েও বেশি কষ্ট প্রসব যন্ত্রণার। কিন্তু সন্তানের মুখ দেখার পর মা সব কষ্ট ভুলে যান।

যখন এই পৃথিবীতে সব থেকেও আমাদের কিছুই নেই, আমাদের কথা বলার ক্ষমতা নেই, চলাফেরার ক্ষমতা নেই, প্রতিবাদ করার ক্ষমতা নেই, বেঁচে থাকার মতো খাবারটুকুও খাওয়ার ক্ষমতা নেই সে রকম অসহায় মুহূর্তে মা আমাদের আগলে রেখেছেন।

না বলা ভাষাও তিনি বুঝতে পারেন এবং আমাদের হয়ে কথা বলেন। সন্তানের কখন ক্ষুধা পায় কখন কী লাগে তা তিনি বুঝতে পারেন। বুকে আগলে তিনি মানুষ করেন। আমাদের মানুষ করতে গিয়ে মা তার নিজের সব সুখ বিসর্জন দেন। সব স্বপ্ন তখন আবর্তিত হয় আমাদের ঘিরে। আমাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তার কোনো শখ পূরণ করা হয় না। খেতে বসে মাছের মাথাটা, মুরগির কলিজাটা, দুধের সরটুকু সব মা খুব যতœ করে তুলে দেন সন্তানের প্লেটে। অনেক সময় নিজেকে অভুক্তও থাকতে হয়।

এভাবেই আমরা বড় হয়ে উঠি। স্কুল-কলেজ পেরিয়ে, বিশ্ববিদ্যালয় পেরিয়ে আমরা কর্মজীবনে প্রবেশ করি। যখন আমরা হাঁটা শিখি তখন থেকেই মায়ের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব তৈরি হয় এবং তা বাড়তে বাড়তে কর্মজীবনে প্রবেশের সময় এতটাই বেড়ে যায় যেন আমরা অন্য কোনো গ্যালাক্সিতে বসবাস করি। এর পর যখন বিয়ে করি তখন আমাদের হয় আরও একটি নতুন পৃথিবী।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় সেই নতুন পৃথিবীতে মায়ের কোনো স্থান হয় না। মা থাকেন গ্রামে। ঈদ এলে মায়ের চোখ জ্বলজ্বল করে ওঠে। এই বুঝি সন্তান ফিরে এলো মায়ের কোলে। কিন্তু সব সময় মায়ের সেই আশা পূরণ হয় না। ব্যস্ততার কারণে যেমন গ্রামে ফেরা হয় না, তেমনি ব্যস্ততার নামে অব্যস্ত সময় ও অবহেলায় যাওয়া হয় না পৃথিবীর সব থেকে শান্তির ছায়াতলে। যে মা আমাদের জন্য জীবনের পুরোটা সময় ব্যয় করেছেন তার জন্য আমাদের সময়ের অভাব। কেউ কেউ আবার মাকে বৃদ্ধাশ্রমেও রেখে আসে।

নচিকেতার গাওয়া ‘বৃদ্ধাশ্রম’ গানটি তাই আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় মায়ের কষ্টটুকু। আক্ষেপ করে বলতে হয়, ‘এক মা তার দশটি সন্তানকে আগলে রাখতে পারে অথচ দশটি সন্তান মিলেও এক মাকে দেখে রাখতে পারে না।’

কী নির্মম সময়ের মধ্যে আমরা বসবাস করছি! ছোটবেলায় মাকে নিয়ে ভাইবোনের মধ্যে তুমুল বিবাদ হতো। আমার মা আমার মা বলে গলা ফাটাতাম, বড় হলেও মাকে নিয়ে ভাইবোনের তুমুল বিবাদ হয়। শুধু শব্দটুকু বদলে যায়। আমার মা আমার মা না বলে তখন বলি তোমার মা তোমার মা। মায়ের দায়িত্ব কেউ নিতেই চাই না। ঈদকে ঘিরে চারদিকে খুশির আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। সবাই নানা বিষয় নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত। এই ব্যস্ততার মধ্যেও একজন সব কাজ গুছিয়ে আমাদের নিয়ে ভাবছেন।

তিনি মা। যেসব সন্তান শহরে থাকে তাদের জন্য দূর কোন গাঁয়ে নিশ্চয়ই মা পথ চেয়ে থাকবেন। সন্তানের আগমনের চেয়ে মায়ের কাছে সুখের কোনো সংবাদ নেই। কিন্তু সব মায়ের আশা কি পূরণ হবে? কত সন্তান ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে এই ঈদেও মায়ের কাছে ফিরবে না, মা শুধু পথপানে চেয়ে বুক ভাসাবে। অথচ যত ব্যস্ততাই থাকুক না কেন, এই ঈদেও কর্মজীবীরা অন্তত পাঁচ দিনের ছুটি পাবে।

মাত্র একটি দিন কি মাকে দেওয়া যায় না? সন্তানের কাছে মায়ের চাওয়ার কিছু নেই। দামি শাড়ি-গহনা নয়, আলিশান বাড়ি নয়, শুধু সন্তান তার কোলে বারবার ফিরে আসুক মায়েরা এটুকুই চান। আমাদের জীবনের যা কিছু পেয়েছি সবটাই মায়ের জন্য। আর কোনো মাকে যেন বৃদ্ধাশ্রমে যেতে না হয়, অপেক্ষায় থাকা মায়ের চোখে এই ঈদে যেন জল না ঝরে, প্রতিটি সন্তানের কাছে আমাদের এই প্রত্যাশাÑ আসুন এই ঈদে মায়ের কোলে ফিরে যাই, মায়ের ঈদ যেন বিফলে না যায়। পৃথিবীর সব মাকে সব সন্তানের পক্ষ থেকে ভালোবাসা।

advertisement
Evall
advertisement