advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সততার পুরস্কার বড়ই নির্মম

সন্দীপন বসু
৪ জুন ২০১৯ ১২:৪০ | আপডেট: ৪ জুন ২০১৯ ১৫:০১
আড়ংয়ে অভিযান চালাচ্ছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের উপপরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার
advertisement
advertisement

দুপুরে আড়ংয়ে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার। পাঁচ দিনের ব্যবধানে পাঞ্জাবির দাম অর্ধেক বাড়িয়ে বিক্রি করায় জরিমানা করেছিলেন আড়ংয়ের একটি বিক্রয় আউটলেটকে। শাস্তি হিসেবে একদিনের জন্য বন্ধও করা হয়েছিল দোকানটি। এর কিছুদিন আগে পারসোনায় জরিমানা করেন এই কর্মকর্তা।

সাধারণ ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষায় নজির তৈরি করা আড়ংয়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা ছাড়ার নোটিশ চলে আসলো ওই সরকারি কর্মকর্তার। প্রত্যাহার করা হলো বিক্রয় আউটলেট বন্ধের আদেশও।

সাধারণ দৃষ্টিতে দেখলে একজন সরকারি কর্মকর্তার বদলি হতেই পারে। কিন্তু দিনবদলের ইতিহাস তৈরি করা একটি পদক্ষেপের পর যেভাবে দিন পার হতে না হতেই ওই কর্মকর্তাকে বদলি করা হলো-সেটি জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে। বড় ব্যবসায়ী কিংবা প্রতিষ্ঠান হলেই যে সাধারণ ভোক্তাদের সঙ্গে যা ইচ্ছে তা-ই করা যায়, আর এই যা ইচ্ছে তা করার খেলায় তাদের যোগ্য সঙ্গ দেয় জনগণের টাকায় পালিত পোষ্য অসাধু কর্মকর্তারা-এই ধারণা পোক্ত হলো আবারও।

দিনকয়েক আগে এক বৃষ্টির বিকেলে আমার কর্মস্থলের সামনে রাস্তার পাশে অবৈধভাবে দোকান চালানো প্রায়পরিচিত এক চা-দোকানি বলছিলেন তার সংগ্রামের কথা। জানিয়েছিলেন, সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কষ্ট করে যেই টাকা রোজগার হয় তার অর্ধেকই দিতে হয় ক্ষমতার ছায়াতলে বেড়ে ওঠা গুণ্ডা আর পুলিশের ইনফর্মারদের।

সেদিন বৃষ্টি বাড়ছিল, সঙ্গে আলোচনার পরিধিও। বাচাল ওই দোকানি একপর্যায়ে বলে বসলেন, সরকারি চাকরি করবেন আর সৎ থাকবেন এটা বাংলার মাটিতে কোনো দিন হয় নাই, হবেও না। বিরক্ত হয়েছিলাম খুব। মধ্যবয়সী ওই দোকানিকে বলেছিলাম, দূষিত সময়ে জন্ম আপনাদের। তাই দুর্নীতি, শোষণ ছাড়া কিচ্ছু ঢোকে না মাথায়। নতুন প্রজন্ম এসেছে, পুলিশে-প্রশাসনে সবজায়গায়। দিন বদলাচ্ছে, সব ঠিক হবে খুব তাড়াতাড়ি। বলেছিলাম বটে। কিন্তু ওই নষ্ট সময়ের বেড়ে ওঠা দুর্নীতির বিষবৃক্ষগুলো যে গভীরে শেকড় গেড়েছে সেই ঝড় উপড়ানো যে এত সহজ নয় তা আমার বোঝা উচিত ছিল।

advertisement