advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বাংলাদেশ জিতবে! তবে....

মাইদুল আলম বাবু,কার্ডিফ থেকে
৭ জুন ২০১৯ ২৩:৫৪ | আপডেট: ৮ জুন ২০১৯ ০১:০৪

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২১ রানের জয়ে টুর্নামেন্টে দুরন্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব মিডিয়ার কাছে ‘কালো ঘোড়া’ তকমা পাওয়া বাংলাদেশের চেহারার পরিবর্তনে সবাই অবাক হয়। যেভাবে বাংলাদেশ ম্যাচটি খেলেছিল, সেভাবে কেউ আশা করেনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে, সবাই বাংলাদেশকে নিয়ে সতর্ক হয়ে গিয়েছিল।

ব্ল্যাক ক্যাপসদের বিপক্ষে হেরেছে টাইগাররা। তবে বাংলাদেশকে ২৪৪ রানে আটকে ফেলার পরও তাদের কাঁপতে হয়েছে। নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশের বিপক্ষে আগের পরাজয়গুলোর ‘হরর শো’ বারবার হয়তো মাথায় ফিরে আসছিল। বাংলাদেশ একটা সময় জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। ২ উইকেটের হারে দুঃখের চেয়ে আক্ষেপটাই কাজ করেছে। ইশ! আর কিছু রান যদি স্কোর বোর্ডে থাকত!

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের তৃতীয় ম্যাচ আজ। কন্ডিশন, যুক্তি, পরিসংখ্যান, মানসিক লড়াই, একাদশ, কৌশল, শক্তি, রেকর্ড ও ইতিহাস নিয়ে বিশেষ বিশ্লেষণ করা হবে। বাংলাদেশ এই ম্যাচটি জিতবে কি না? কতটুকু সম্ভাবনাই বা থাকবে অথবা কোনো সুযোগই থাকবে না এমন হতে পারে কি?

কন্ডিশন
কার্ডিফে গতকাল বৃষ্টি হয়েছে। আজ অবশ্য আবহাওয়া বলছে বৃষ্টি হবে না। তারপরও ভেজা উইকেটে ইংল্যান্ড ৪ পেসার খেলাবে চিন্তা করে রেখেছে। বাংলাদেশ এখনও কিছু ভাবেনি। হয়তো আজ সকালে চিন্তা ভাবনা হতে পারে। উইকেটে ঘাস রয়েছে সেটা ইংলিশ অধিনায়ক মরগ্যান বলে গেছেন। মাশরাফি মনে করেন, ব্যাটসম্যানদের রান তুলতে সমস্যা হবে না। স্পিনারদেরও রোল প্লে করতে দেখা যাবে।

রুবেলকে নিয়ে আলোচনা
২০১৫ বিশ্বকাপে রুবেল হোসেনের দারুণ বোলিংয়ে বাংলাদেশ হারিয়েছিল ইংল্যান্ডকে। বাংলাদেশের হয়ে পেস আক্রমণে আজ থাকবেন মাশরাফি, মোস্তাফিজ, সাইফউদ্দিন। রুবেলকে নিতে হলে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে বসতে হতে পারে। মাশরাফি এই ঝুঁকি নিয়ে সফল হলে প্রশংসা পাবেন। এই জুয়া খেলে হারলে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাবে। একাদশে আর কোনো পরিবর্তন নেই বললেই চলে।

ইতিহাস ও রেকর্ড
বিশ্বকাপের ইতিহাসে বাংলাদেশ ৩ বার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে ২বার বাংলাদেশ জিতেছে। আর ২০০৭ বিশ্বকাপের একটি ম্যাচে ইংল্যান্ড জিতেছিল। আবার কার্ডিফের ইতিহাস বলছে বাংলাদেশের কথা। যে মাঠে বাংলাদেশ দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলেছে, আর জিতেছে দুটিতে। রেকর্ড ও ইতিহাস বলছে বাংলাদেশের কথা।

কী করলে কী হবে?
আকাশে মেঘ থাকলে মাশরাফি ও মরগ্যান ফিল্ডিং নেবেন এটা স্বাভাবিক। তবে টস জিতলে আগে ব্যাটিং করলে ৩০০ প্লাস রান করতে হবে। মাঠ খুব একটা বড় না। ইংল্যান্ডের বড় বড় স্ট্রোক খেলার প্লেয়ার আছে। বাংলাদেশ আগে ফিল্ডিং করলে তিনশর মধ্যে ইংল্যান্ডকে বেঁধে রাখতে হবে। তিনশর ওপরে গেলে সমস্যা হয়ে যাবে। ইংল্যান্ডের স্পিনার ও পেসার ভাল মানের।

রানিং বিটুইন দ্য উইকেট
নিউজিল্যান্ডের ম্যাচে ২টি রান আউট পুড়িয়েছে বাংলাদেশকে। এই ম্যাচে রানিং বিটুইন দ্য উইকেট ভালো হতে হবে। ইংল্যান্ডের ফিল্ডাররা বেশ স্বনামধন্য। সরাসরি থ্রোতে দুর্দান্ত তারা। কল করার সময় নন স্ট্রাইক ব্যাটসম্যানকে সাবধান হতে হবে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওই দুটি রান আউটে বাংলাদেশ বড় স্কোর পায়নি।

প্রথম ওভারেই স্পিন!
ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচটি প্রথম ছিল বিশ্বকাপে। প্রথম ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার ইমরান তাহির বল করেছেন। জনি বেয়ারস্টো আউটও হয়ে যান। বাংলাদেশ এমন কিছু করতে পারে। ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা চমকে যেতে পারে।

তামিম ও মাশরাফির জন্য অপেক্ষা
ওপেনিংয়ে তামিম ইকবাল ও বোলিংয়ে মাশরাফি এখনও জ্বলে ওঠেননি। এই ইংল্যান্ডের ম্যাচে জ্বলে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। একজন ক্রিকেটার ২টি ম্যাচে খারাপ খেলেছে। পরের ম্যাচে ভাল করার সম্ভাবনা রয়েছে। এই দুজনের ওপরে আজ অনেক কিছু নির্ভর করছে।

যুক্তি
বাংলাদেশের সঙ্গে ইংল্যান্ডের বড় পার্থক্য হচ্ছে- বাংলাদেশের রিস্ট স্পিনার নেই। ইংল্যান্ডের আছে। এছাড়া দুটি দলই বেশ তরুণ ও অভিজ্ঞতায় ভরপুর। ইংল্যান্ড মানসিকভাবে বেশ পেছনে রয়েছে। বিশ্বকাপে আগের ৩টি ম্যাচে হার ও কার্ডিফের রেকর্ড বাংলাদেশের কথাই বলে। ইংল্যান্ড গত ৪ বছরে আরও প্রস্তুত ও দৃঢ়তাসম্পন্ন হয়েছে। তবে নিজেদের দিনে বাংলাদেশ কী করতে পারে সেটা দক্ষিণ আফ্রিকা টের পেয়েছে। বাংলাদেশের সেরা ৪-৫ জন ব্যাটসম্যান এই মাঠে সফল। ফলে ইংল্যান্ডকে ভয়ের তেমন কিছু নেই। শিরোপা প্রত্যাশী দল হওয়ায় ইংল্যান্ডের মাথা ব্যথা বেশি। র‌্যাংকিংয়ে ১ নম্বরের দল হয়েও তারা পাকিস্তানের (৬ নম্বর) কাছে হেরেছে। তাই বাংলাদেশও ভালো খেললে সম্ভব।

কৌশল
কার্ডিফে কাল বৃষ্টি হয়েছে। ইংল্যান্ডের বোলিংয়ে শক্তির জায়গা পেস। তারা ৪ জন পেসার নিয়ে খেলতে পারে। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা স্পিন বল ভালো খেলে। মইন আলি বা আদিল রশিদ মাথা ব্যথার কারণ হবেন না। ইংল্যান্ডের রান করার প্লেয়ার আছে। তবে সে রান ধরে রাখার মতো চৌকস পেসার নেই। পাকিস্তান আগের ম্যাচে তিনশর বেশি স্কোর করেছে। ইংল্যান্ডের বোলিং উড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। বাংলাদেশ আজ বড় স্কোর করবে এটা স্বাভাবিকভাবে বোঝা যাচ্ছে। তবে অভিজ্ঞদের এগিয়ে আসতে হবে।

শক্তি
বাংলাদেশের শক্তি টপ অর্ডারের ৫ জন ব্যাটসম্যান। আর দুর্বল যে জায়গা খোলামেলা হয়েছে সেটা হচ্ছে-মাশরাফি ও মোস্তাফিজ এখনও সেভাবে প্রত্যাশিতভাবে মেলে ধরতে পারেননি নিজেদের। ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণে কিছুটা দুর্বলতা আছে। প্রচুর রান দিয়ে ফেলছেন ওকস, স্টোকস, উড ও কারেনরা। রান আটকাতে পারেনি তারা শেষ ম্যাচে। ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ও ফিল্ডিং বিশ্বের ১ নম্বর।