advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

গুগল স্টাডিয়া গেমের নতুন জগৎ

মাজেদুল হক তানভীর
১১ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১১ জুন ২০১৯ ০৯:২৭

এমন এক সময়ের কথা ভাবুন- যখন আপনার পছন্দের ওপেন ওয়ার্ল্ড গেমগুলো খেলতে কম্পিউটারের ক্ষমতা নিয়ে ভাবতে হবে না। অনেক দাম দিয়ে হার্ডওয়্যার কেনারও প্রয়োজন হবে না। শুধু ব্রাউজার খুলে একটি গেম বেছে নিয়ে প্লে- বাটনে চাপ দেবেন এবং কিছু সময়ের মধ্যেই গেমটি পিসিতে চলতে শুরু করবে। এ জন্য বিশাল আকারের কোনো ফাইল ডাউনলোড কিংবা ইনস্টলেরও দরকার হবে না। স্বপ্নের মতো মনে হলেও সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গেম ডেভেলপারস কনফারেন্স (জিডিসি) ২০১৯ সম্মেলনে গুগল তাদের ‘গুগল স্টাডিয়া’ নামে পরিচিত এই নতুন গেম স্ট্রিমিং সার্ভিসটির ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই সার্ভিস সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন- মাজেদুল হক তানভীর।

কীভাবে কাজ করবে এই প্লাটফরম?

এক কথায় বলতে গেলে এটি গেমিং ইন্ডাস্ট্রির ‘নেটফ্লিক্স’ হতে চলেছে। এটি মূলত ক্লাউড গেমিং সার্ভিস হলেও এতেই থেমে নেই। গেমের ডেভেলপমেন্ট থেকে অনলাইনে হোস্টিং, ব্যবহারকারীর কাছে তা পৌঁছে দেওয়া এবং একই সঙ্গে তা প্রচার করাÑ সব এই এক প্লাটফরমে এসে একত্র হবে। যদিও গুগল স্টাডিয়া মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত বিশদভাবে কিছুই বলা যাচ্ছে না, তবুও এ সার্ভিসটির প্রাথমিক তথ্যগুলো এত চমকপ্রদ যে অনুমান করা হচ্ছে- তা ভিডিও গেম ইন্ডাস্ট্রিতে বিশাল পরিবর্তন আনবে। প্রাথমিক ধারণা স্টাডিয়ার মস্তিষ্ক হিসেবে কাজ করবে গুগল ডেটা সেন্টারের বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্কটি। নেটফ্লিক্সের মতোই স্টাডিয়া তার ব্যবহারকারীদের একটি লাইব্রেরির সুবিধা দেবে। এখান থেকে তারা নিজেদের পছন্দমতো গেমটি খেলা শুরু করতে পারবেন- ডাউনলোড কিংবা ইনস্টল করার প্রয়োজন হবে না। শুধু দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ ও গুগল ক্রোম ব্রাউজারের সর্বশেষ ভার্সন থাকলেই এ সার্ভিসটি উপভোগ করা যাবে।

স্টাডিয়ার হোমপেজ অথবা ইউটিউবে নির্দিষ্ট গেমটির ভিডিও লিংক থেকেই গেমটি খেলা যাবে। এ ছাড়া গেম খেলতে সর্র্বনিম্ন ১৫ এমবিপিএস গতি, সর্বোচ্চ ৪০ মিলিসেকেন্ড ল্যাটেনসি সময় (সার্ভার থেকে ব্যবহারকারী পর্যন্ত তথ্য আদান-প্রদানের সময়) এবং ৫ শতাংশ পর্যন্ত ডেটা লস পরিমাণের ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে

কী কী গেম থাকছে?

ইউবিসফট ইতোমধ্যেই তাদের ‘অ্যাসাসিন্স ক্রিড অডিসি’ গেমটি স্টাডিয়ায় মুক্ত করেছে। ঘোষণার সময় গেমটি স্টাডিয়ায় প্রদর্শনও করা হয়। ইউবিসফট তাদের পরবর্তী গেমগুলোও এই প্লাটফরমে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এসব গেমের মধ্যে রয়েছে ট্রায়ালস রাইজিং, স্কালস অ্যান্ড বোনস ও অ্যানো১৮০০। তা ছাড়া আনরিয়াল, ইউনিটি ও হ্যাভক ইঞ্জিনগুলোর সমন্বয়ে স্টাডিয়ায় ভবিষ্যতে অনেক গেম দেখা যাবে। স্টাডিয়ার মুক্তির সময় তার লাইব্রেরিতে সায়েন্স ফিকশন হরর শুটার গেম ‘ডুম এটারনাল’ একটি বড় নাম হিসেবে থাকবে।

গেমটির নির্বাহী প্রযোজক মার্টি স্ট্র্যাটন জানান, তাদের গেমটি স্টাডিয়ার জন্য অপটিমাইজ করতে মাত্র এক সপ্তাহ সময় নিয়েছে। তাই ধারণা করা যায়, অন্য গেমও খুব সহজে স্টাডিয়ার লাইব্রেরিতে যোগ দিতে পারবে। তিনি বলেন, স্টাডিয়া থেকে একই সঙ্গে গেম খেলা ও তা ইউটিউবে সম্প্রচার করার সুবিধা থাকবে। অর্থাৎ একটি ফোর-কে রেজিউলেশনের ভিডিও সিগন্যাল একই সঙ্গে ইউটিউব ও ব্যবহারকারীর ডিভাইসে পাঠানো সম্ভব হবে।

কবে রিলিজ হবে

২০১৯ সালের কোনো এক সময় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডাসহ কয়েকটি দেশে স্টাডিয়া মুক্তি পাবে। গুগল অবশ্য এখনো নির্দিষ্ট দিন ধার্য করেনি। এ বছরেরই জুনে স্টাডিয়ার নতুন একটি আপডেটও ঘোষণা করা হবে। এখনো অল্প কয়েকটি গেমের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। তা স্টাডিয়ার লাইব্রেরিতে থাকবে। তা ছাড়া বাজারে ছাড়ার আগে ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) স্টাডিয়া গেমপ্যাডটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। এতেও কিছু সময় ব্যয় হবে। ধারণা করা হচ্ছে, জুন আপডেটে কী কী গেম স্টাডিয়ার লাইব্রেরিতে থাকবে, তা জানানো হবে।

মূল্য

গুগল এখনো এ সার্ভিসটির জন্য মূল্য ঘোষণা করেনি। কিন্তু ফিল হ্যারিসন আর ইউবিসফটের সিইও ইভ গিয়েমো মূল্য তালিকার একটি মডেলের কথা উল্লেখ করেছেন। তা অন্যান্য স্ট্রিমিং সার্ভিসের চেয়ে একেবারেই ভিন্ন হবে। হ্যারিসন বলেছেন, সার্ভিসটির জন্য কত মূল্য ধরা হবে, তা দুই বছরের একটি প্রক্রিয়া ছিল। দুই বছর ধরে স্টাডিয়ার পরীক্ষা-নিরীক্ষা জন্য আমাদের একটি গবেষণা দল ছিল। তাই মূল্যের বিষয়ে আমাদের নিজস্ব কিছু ভাবনা তৈরি হয়েছে। আমরা এর পর ক্রেতা ও গেমগুলোর অংশীদারদের সঙ্গে এই ভাবনাগুলো নিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং উপযুক্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। বর্তমানে চলা ক্লাউড গেমিং সার্ভিস যেমন- ‘প্লে স্টেশন নাউ’ ও ‘শ্যাডো’ যথাক্রমে ২০ ও ৩৪ দশমিক ৯৫ ডলার করে মাসিক খরচ কেটে নেয়। ইভ গিয়েমো বলেন, স্টাডিয়া নিয়মিত ও অনিয়মিতÑ উভয় গেমারের কথা চিন্তা করেই মূল্য ঠিক করবে।

মাল্টিপ্লেয়ার গেমিং

অনলাইন মাল্টিপ্লেয়ার গেমগুলো স্ট্রিমিং সার্ভিস দিয়ে খেলার একটা বড় বাধা হচ্ছে ল্যাগ। অনেক সময় সার্ভার যথেষ্ট দ্রুত না হওয়ায় গেমারদের ইনপুট দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে আউটপুট না পাওয়ার বিড়ম্বনা সহ্য করতে হয়। স্টাডিয়াকে মাল্টিপ্লেয়ার গেমিং প্লাটফরম হিসেবে গেমারদের নজর কাড়তে হলে এ সমস্যাটি দূর করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গুগলের প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে স্টাডিয়া কন্ট্রোলার। এটা গেমারের ডিভাইসে সংযুক্ত না হয়ে ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে সরাসরি গুগল সার্ভারে যোগাযোগ করবে। এই পদ্ধতিতে ইনপুট-আউটপুটের গতি কিছুটা বৃদ্ধি পাবে। তবে গুগল ভবিষ্যতের জন্যও কিছু চিন্তা করে রেখেছে। তারা হ্যাভক, ইউনিটি ও আনরিয়ালের মতো গেম ইঞ্জিন নির্মাতা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে এ প্লাটফরমটিকে একত্র করেছেন যেন ডেভেলপাররা সরাসরি স্টাডিয়াতেই গেম তৈরি করেন। এভাবে ভবিষ্যৎ মাল্টিপ্লেয়ার গেমগুলো স্টাডিয়া সার্ভার থেকেই নিয়ন্ত্রিত হবে।

লাইভ স্ট্রিমিং

গুগল ‘ক্রাউড প্লে’ নামে স্টাডিয়ার নতুন একটি ফিচারও উন্মুক্ত করেছে। এ ফিচারটি ভক্তদের তার পছন্দের ইউটিউব কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের সঙ্গে অনলাইনে খেলার সুবিধা দেবে। কোনো স্ট্রিমার যদি ইউটিউবে একটি গেম সম্প্রচার করতে থাকে, তা হলে দর্শক শুধু একটি বাটনে চাপ দিয়েই ওই স্ট্রিমারের সঙ্গে খেলা শুরু করতে পারবে। ইউটিউব এভাবে একই সঙ্গে গেম দেখা ও গেম খেলার প্লাটফরম হয়ে উঠবে।