advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অনলাইন পত্রিকা : সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখনই সময়

সজীব সরকার
১১ জুন ২০১৯ ১৬:৪১ | আপডেট: ১১ জুন ২০১৯ ১৬:৪২

গত এক দশকে বাংলাদেশে গণমাধ্যম হিসেবে অনলাইন পত্রিকার বিকাশ ঘটেছে বিস্তৃত আকারে। নানাবিধ সুবিধার কারণে সংখ্যায় নিয়ন্ত্রণহীন হারে বাড়লেও মানসম্মত ও বিশ্বাসযোগ্য অনলাইন পত্রিকা সে অর্থে এখনো বিরল। ভালো যেগুলোকে বলা চলে, তার প্রায় সবই প্রথম সারির মুদ্রিত পত্রিকা বা টেলিভিশন চ্যানেলের অনলাইন ভার্সন। তবে অনলাইন পোর্টাল বা পত্রিকাই যে আগামী দিনের মূল গণমাধ্যম হতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে নিঃসন্দেহ থাকা যায়।

বাংলাদেশে যেসব অনলাইন পত্রিকা চালু রয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা বেশ দীর্ঘ; চৌর্যবৃত্তি এই তালিকার সম্ভবত প্রথম স্থানে রয়েছে। তবে কেবল চৌর্যবৃত্তি নয়, ভুল বা মিথ্যা সংবাদ প্রচারের প্রবণতাকে আরও বেশি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া দরকার।

advertisement

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে মানুষ সাধারণত সত্য বলেই ধরে নেয়। কোনো গুজব ছড়ালে সচেতন ব্যক্তিরা তাই নিশ্চিত হওয়ার জন্যে এক বা একাধিক সংবাদমাধ্যমের দ্বারস্থ হন। ভুল বা মিথ্যা তথ্য একজন ব্যক্তির বা গোষ্ঠির কিংবা প্রতিষ্ঠানের সুনামের জন্যে এমনকি কখনো কখনো জীবনের জন্যেও ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। তাই ভুল বা মিথ্যা তথ্যকে ‘সত্য সংবাদ’ হিসেবে প্রচার করা কেবল অনুচিত বা অনৈতিকই নয়, অপরাধও বটে।

প্রায় শূন্য পুঁজি বিনিয়োগ করে এবং কোনো লোকবল ছাড়াই একটি অনলাইন পত্রিকার মালিক বা প্রকাশক বা সম্পাদক হওয়া যায়। ফলে অনেকেই কেবল এই সুযোগটি উপভোগ করতেই এক বা একাধিক অনলাইন পত্রিকা চালু করে থাকেন। পরে সেটিকে চালু রাখার তাগিদে অন্যান্য মাধ্যম থেকে সংবাদ বা অন্যান্য আধেয় ‘চুরি’ করা ছাড়া আর গত্যন্তর থাকে না। আরও বিপদের কথা হলো, পরিচিতি বাড়াতে বা একে লাভজনক করার আশায় ‘ক্লিক’ বাড়াতে অনেক ক্ষেত্রে মিথ্যা কিন্তু আকর্ষক বা সস্তা কিন্তু ‘মুখরোচক’ সংবাদ তৈরি করে প্রচার করছে অনেকে। আর চৌর্যবৃত্তির ফলে একজনের মনগড়া সংবাদ আরও অনেক অনলাইন পত্রিকার জনপ্রিয় বা ‘সর্বাধিক পঠিত’ খবর হয়ে ওঠে।

অনলাইন পত্রিকার লাভ-লোকসানের পেছনে ক্লিক বা হিট এবং সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার ও লাইকের সংখ্যার ব্যাপারটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ‘যেন-তেন প্রকারেণ’ ক্লিক বাড়ানোর এই প্রবণতা নানাভাবে এমনকি মিথ্যা ও অনেক ক্ষেত্রেই রুচিহীন খবর পাঠকের মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছে। বোঝা দরকার, এভাবে সাময়িকভাবে পরিচিতি বা জনপ্রিয়তা পেলেও কিংবা কিছু ক্ষেত্রে লাভবান হলেও শেষতক টিকে থাকা যাবে না।

ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করা যায় না আর আস্থার জায়গা তৈরি করতে না পারলে স্থায়ী পাঠক পাওয়া যায় না। ফ্লোটিং বা ভাসমান পাঠক যখন যেখানে তাদের পছন্দের বিষয় পাবে, তখন সেখানেই চলে যাবে। তাই অনলাইন পত্রিকাগুলোকে মুদ্রিত পত্রিকা বা টেলিভিশন চ্যানেলের মতোই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে; সস্তা জনপ্রিয়তা বা কেবল ক্লিক বাড়ানোর মাধ্যমে সাময়িক ফললাভের মনোভাবের পরিবর্তে নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য খবর প্রচারের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে অন্য পোর্টাল থেকে খবর ‘ধার’ বা ‘চুরি’ করে নেওয়ার দরকার হলেও নিজের সোর্স কাজে লাগিয়ে এর সত্যতা যাচাই করে নিতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, নিজের সোর্স কাজে লাগিয়ে এক্সক্লুসিভ কিছু আধেয় (যেমন : সংবাদ, ফিচার বা মতামত) তৈরি করতে হবে; এ ধরনের আধেয় বা কনটেন্ট ছাড়া কেবল ধার বা চুরির কনটেন্ট দিয়ে আদতে সফল হওয়া যাবে না।

অনলাইন পত্রিকার সংখ্যা অগুণতি হলেও এক অর্থে এখনো মাঠ ফাঁকা; এই সময়ে যে বা যারা দায়িত্বশীলতা ও নৈতিকতার চর্চার মধ্য দিয়ে পাঠকসমাজে নিজেদেরকে আস্থাভাজন করে তুলতে পারবে, বাজারে শেষ পর্যন্ত তারাই টিকবে- অন্যরা মাঠে মারা পড়বে।

তাই, সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখনই সময়।

লেখক : সজীব সরকার : সহকারী অধ্যাপক; জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ; স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। লেখক ও গবেষক।

ই-মেইল : sajeeb_an@yahoo.com